একটা ইন্ডি ফিল্ম, এক নতুন পরিচালক, আর এক পাহাড়ি শহর—এই তিনের মিলেই তৈরি হচ্ছে ‘দ্য ফ্যামিলি আই চোজ’।

শেষ আপডেট: 28 March 2026 15:32
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একটা ইন্ডি ফিল্ম, এক নতুন পরিচালক, আর এক পাহাড়ি শহর—এই তিনের মিলেই তৈরি হচ্ছে ‘দ্য ফ্যামিলি আই চোজ’। আগামী ১০ নভেম্বর থেকে শুরু হবে শুটিং, আর সেই সূচনার আগেই ছবিটি ইতিমধ্যেই ভারতীয় স্বাধীন সিনেমার ইতিহাসে নিজের আলাদা জায়গা তৈরি করে ফেলেছে। কারণ, এই প্রথম কোনও পূর্ণদৈর্ঘ্য ইন্ডি ফিচার ফিল্ম সম্পূর্ণভাবে শুট হতে চলেছে সিকিমের গ্যাংটকে—যেখানে শহরটা শুধু পটভূমি নয়, যেন এক জীবন্ত চরিত্র, গল্পের শ্বাস-প্রশ্বাস।
কঙ্কনা চক্রবর্তী—চারটি শর্ট ফিল্ম পরিচালনা করে ইতিমধ্যেই যাঁর কাজ নজর কেড়েছে নানা মহলে। এবার তাঁর প্রথম ফিচার ফিল্ম। তবে এই পদক্ষেপে তিনি একা নন—পাশে রয়েছে সিকিম সরকার। গ্যাংটকের মাটিতে দাঁড়িয়ে, নিজের গল্পকে আরও গভীরভাবে ছুঁতে চেয়েছেন কঙ্কনা। সেই কারণেই কিছুদিন আগে লোকেশন খোঁজার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলেন সেখানে। আর সেখান থেকেই শুরু এক অন্যরকম গল্প। পরিচালকের এক বন্ধুর সূত্রে খবর পৌঁছয় প্রশাসনের কাছে। তারপর একাধিক দফায় আলোচনা—গল্প শোনার পরই সিকিমের প্রশাসন এগিয়ে আসে পূর্ণ সমর্থন নিয়ে।
সিকিম স্পোর্টস ডেভেলপমেন্ট বোর্ড, মিউজ়িক, ডান্স, ড্রামা অ্যান্ড ফিল্ম বোর্ড এবং এসকেএম কালচারাল উইং—সবাই মিলে এই ছবির পাশে দাঁড়িয়েছে। কঙ্কনার কথায়, “অসমবয়সী দু’জন মানুষের সম্পর্কের গল্প এই ছবি। আর সেই গল্পে গ্যাংটক নিজেই এক গুরুত্বপূর্ণ চরিত্র। তাই এখানেই পুরো শুটিং করার পরিকল্পনা শুনেই এগিয়ে এসেছে সরকার।”
ছবির কাস্টিংয়েও রয়েছে এক অনন্য মেলবন্ধন। দুইবারের জাতীয় পুরস্কারজয়ী অভিনেত্রী সারিকা ঠাকুর এই ছবির মুখ্য ভূমিকায়—তাঁর নাম ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা। তাঁর সঙ্গে রয়েছেন বরুণ চন্দ। পাশাপাশি কথাবার্তা চলছে লিলেট দুবের সঙ্গে। আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ—এই ছবিতে বড় জায়গা পাচ্ছেন সিকিমের স্থানীয় শিল্পীরা। আরাধ্যা রাই (১১) ও অ্যাডলিন রাই (৭)-এর মতো নবীন মুখ যেমন থাকছে, তেমনই নতুন বছরের শুরুতেই অডিশনের মাধ্যমে আরও বহু স্থানীয় প্রতিভাকে বেছে নেওয়া হবে। এই প্রক্রিয়াতেও প্রশাসন কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পাশে দাঁড়িয়েছে।
কঙ্কনা নিজেই ছবির চিত্রনাট্য লিখেছেন, পরিচালনা করছেন এবং প্রযোজনার দায়িত্বও নিয়েছেন নিজের কাঁধে। তাঁর এই ব্যক্তিগত উদ্যোগে স্পষ্ট—এ শুধু একটি সিনেমা নয়, বরং এক গভীর বিশ্বাসের প্রতিফলন। তিনি এখন গ্যাংটকেই রয়েছেন, দল গড়ার কাজ চলছে জোরকদমে। তাঁর কাছে সিনেমা মানে কেবল ক্যামেরা আর দৃশ্য নয়—মানুষের মধ্যে সম্পর্ক তৈরি করা, একসঙ্গে কাজ করার আনন্দ খুঁজে নেওয়া।
তাঁর আগের শর্ট ফিল্ম ‘রি–রাউটিং’ ইতিমধ্যেই দেশজুড়ে বিভিন্ন ফেস্টিভ্যালে প্রশংসা কুড়িয়েছে, এমনকি কেরলের একটি থিয়েটারেও মুক্তি পেয়েছিল। অভিনয়ের দিক থেকেও তিনি পরিচিত—নিজের তৈরি শর্ট ফিল্ম ছাড়াও অন্য পরিচালকদের ছবিতে কাজ করেছেন। তাঁর প্রথম ডকু–ড্রামায় কাজ করেছেন অমিতাভ বচ্চন, শ্যাম বেনেগালের মতো কিংবদন্তিরা—যা তাঁর কাজের পরিধি ও বিশ্বাসযোগ্যতার পরিচয় দেয়।
‘দ্য ফ্যামিলি আই চোজ়’ নামটার মধ্যেই যেন লুকিয়ে আছে ছবির মূল দর্শন। এই পরিবার রক্তের সম্পর্কের নয়—এখানে বন্ধন তৈরি হয় বিশ্বাসে, ভালোবাসায়, একসঙ্গে পথ চলার ইচ্ছেতে। কঙ্কনা তাঁর টিমকে ঠিক তেমনই একটি পরিবারে পরিণত করতে চান—যেখানে প্রত্যেকে সমান গুরুত্বপূর্ণ, প্রত্যেকের কণ্ঠস্বর শোনা হয়।
সব প্রস্তুতি সেরে নভেম্বরের ১০ তারিখে যখন ক্যামেরা ঘুরবে, তখন সেটা শুধু একটি ছবির শুটিং শুরু হবে না—শুরু হবে এক নতুন ধরনের যাত্রা। যেখানে গ্যাংটক শহর, তার মানুষ, তার আকাশ—সব মিলিয়ে তৈরি করবে এক অন্তরঙ্গ আবহ।
শেষ পর্যন্ত, এই ছবির গল্প যতটা পর্দায়, তার চেয়েও বেশি হয়তো পর্দার বাইরে। কারণ, কঙ্কনার ভাষায়—
“আমরা গ্যাংটককে শুধু লোকেশন হিসেবে নয়, আমাদের নিজের পরিবার হিসেবেই বেছে নিয়েছি।”