1.png)
সায়রা-রহমান
শেষ আপডেট: 20 November 2024 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রহমান দম্পতির যাত্রা শুরু ১৯৯৫ সালে। (A R Rahman) রহমানের মা অর্থাৎ করিমা বেগম নিজে দাঁড়িয়ে থেকে দিয়েছিলেন বিয়ে। সায়রা ছিলেন রহমান একেবারে আদর্শ সঙ্গী। শিক্ষিত, সুন্দরী এবং নম্র স্বভাবের। বিবাহের আগে রহমান স্পষ্টভাবে তাঁর স্ত্রীকে জানিয়ে দিয়েছিলেন, যে তাঁদের ব্যক্তিগত পরিসরে বহু সময়ে ঢুকে পড়বে সঙ্গীতচর্চা, বহু ক্ষেত্রে পাবে প্রাধান্য। এ কথা জানার পরেও এমন এক বাস্তব চিত্রকে সায়রা সাদরে গ্রহণ করেছিলেন। রহমানের সিদ্ধান্তের সমর্থনই তাঁদের বৈবাহিক সম্প্রীতির ক্ষেত্রে মুখ্য ছিল।
এক সর্বভারতীয় সংবাদপত্রের এক সাক্ষাত্কারে, রহমান দ্ব্যর্থহীন ভাষায় বলেন যে যদি এক প্ল্যানড ডিনারের মাঝে হঠাৎ করে এক সুরেলা গান উঠে আসে, তাহলে তাঁকে সেই ডিনার টেবল ছেড়ে রেকর্ডিংয়ের জন্য উঠে যেতে হবে।
‘‘বিয়ের আগেই আমাদের এ বিষয়ে কথাবার্তা হয়েছিল, না হলে আমরা অনেক আগেই আমরা আলাদা হয়ে যেতাম। এটাই ছিল আমার আর ওর বোঝাপড়া। আমি ওকে বলেছিলাম, যদি আমরা ডিনারের প্ল্যান করি এবং একটি গান হঠাৎ মাথায় আসে, তাহলে আমাদের ডিনার টেবল ছেড়ে উঠতে হবে,’’ বলেন রহমান।
বহু সময় রহমান তার সঙ্গীতচর্চার জন্য বাড়ি থেকে দূরে থাকতেন। ২০০৭ সালে, সায়রা রহমানকে নিয়ে এ কথাও বলেন, ‘‘যখন ও দূরে চলে যেত, আমি ওকে খুব মিস করতাম’’,
“We had hoped to reach the grand thirty, but all things, it seems, carry an unseen end. Even the throne of God might tremble at the weight of broken hearts. Yet, in this shattering, we seek meaning, though the pieces may not find their place again. To our friends, thank you for…
— A.R.Rahman (@arrahman) November 19, 2024
সায়রার অটুট সমর্থন (Saira Banu)
শুধু ব্যক্তিগত ক্ষেত্রে রহমানকে সমর্থন নয়, এমনকী রহমানের পেশাগত জীবনেও তা প্রসারিত হয়েছিল। রহমানের সৃজনশীল প্রচেষ্টাতেও সক্রিয়ভাবে অংশ নিতেন স্ত্রী সায়রা। রহমানের ভার্চুয়াল রিয়েলিটি ফিল্ম, ‘লে মাস্ক’-এর মূল ভাবনা সায়রার ছিল। রহমান অনুপ্রাণিত হয় সেই ভাবনা থেকেই। স্ত্রী সারার ভাল পারফিউমের প্রতি ঝোঁক ছিল, ছবিটির গঠন এই ভাবনা থেকেই উঠে এসেছে।
‘স্লামডগ মিলিয়নার’ জন্য দুটি অ্যাকাডেমি অ্যাওয়ার্ড এবং দুটি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ড জেতেন রহমান। খ্যাতি নাম কিংবা যশের প্রতি পদক্ষেপে সারাই ছিলেন রহমানের একমাত্র অবলম্বন।
একের পর এক কাজ। নাজেহাল অবস্থা। আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি। রহমানের কাছে সারার সমর্থন ছিল সর্বদা। ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রহমান প্রায়ই বলতেন যে কীভাবে সায়রা তাঁকে সবসময় মাটিতে পা রেখে চলার পরামর্শ দিতেন। শুধু তাই নয় আধ্যাত্মিকশক্তির প্রতি রহমানের আগ্রহও জন্মায় সারার কারণেই।
সায়রার ভূমিকা শুধু একজন স্ত্রী হিসেবে সীমাবদ্ধ ছিল না। তিনি তাঁদের তিন সন্তান খাতিজা, রাহিমা এবং আমীনের কাছেও ছিলেন বড় কাছের। তাঁদের দেখভালের গোটা দায়িত্ব ছিল মায়েরই।
এমনকি এমন এক কঠিন সময়ে, তাঁদের বৈবাহিক বিচ্ছেদের ঘোষণাও শেয়ার করা বেশ কষ্টকর হয়েছিল সারার পক্ষেও। সায়রা বানু জানান, তাঁর পক্ষে এই সিদ্ধান্ত নেওয় মোটেও সহজ ছিল না, তবুও অনেক ব্যথা ও যন্ত্রণা থেকে এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। এই মুহূর্তে গোপনীয়তা রক্ষা এবং তাদের একান্তে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান সায়রা বানু।