
পতৌদি প্যালেস।
শেষ আপডেট: 16 January 2025 11:29
দ্য ওয়াল ব্যুরো: প্রায় আড়াই ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর সইফ আলি খান আপাতত বিপন্মুক্ত। পতৌদি 'সাম্রাজ্যে'র বর্তমান ওয়ারিশ তথা মুম্বই সিনে জগতের 'ফ্যান্টম'এর বাড়িতে ঢুকে ডাকাতির চেষ্টার কারণ ব্যক্তিগত আক্রোশ, নাকি বিপুল সম্পত্তির অধিকারী সইফের অন্দরমহল থেকে টাকাকড়ি, মূল্যবান অলঙ্কার হাতানো। কারণ, এই বাড়িতে যা কিছু আছে, তা শুধু টাকার দামেই ঐতিহ্য-পরম্পরা ও ঐতিহাসিক দিক থেকে অমূল্য। একেকটি সামগ্রীর প্রাচীনত্বের মূল্য অর্থ দিয়ে মাপা অসম্ভব হলেও গুরুগ্রামে তাঁদের পারিবারিক প্রাসাদটির দামই ৮০০ কোটি টাকার বেশি। এছাড়া রয়েছে সইফের নিজের রোজগার এবং তাঁর অভিনেত্রী স্ত্রী করিনা কাপুরের সম্পত্তি।
সইফ আলি খান হলেন দেশের প্রখ্যাত বর্ধিষ্ণু ও ঐতিহ্যশালী নবাব পতৌদি পরিবারের সন্তান। তাঁর বাবা মনসুর আলি খান পতৌদি ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেটের এক কিংবদন্তি অধিনায়ক। মা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর পরিবারের কন্যা, তথা অতীতের বিখ্যাত নায়িকা। ফলে এককথায় বলা যায়, নীলরক্তের পরিবার থেকে উঠে আসা ছেলে সইফ আলি খান। বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা যাচ্ছে যে, সইফের সম্পত্তির মোট পরিমাণ ১২০০ কোটি টাকারও বেশি। তার সঙ্গে জুড়ে রয়েছে স্ত্রী করিনা কাপুরের আনুমানিক ৪৮৫ কোটির আয়। শোনা যায়, একটি ছবির সইফের পারিশ্রমিক হল ১০-১৫ কোটি টাকা। এছাড়াও বিজ্ঞাপন বাবদ নিয়ে থাকেন ১-৫ কোটি করে।
সইফের সম্পত্তির একটি বিরাট অংশ হল তাঁদের উত্তরাধিকার সূত্রে প্রাপ্ত জমিজায়গা, প্রাসাদ। হরিয়ানার গুরুগ্রামে রয়েছে মার্বেলখচিত তাঁদের পূর্বপুরুষদের পতৌদি প্যালেস। যার আনুমানিক মূল্য ৮০০ কোটি টাকার কাছাকাছি। ১০ একর জমির উপর ১৫০টি ঘরবিশিষ্ট এই প্রাসাদের এককালে নাম ছিল ইব্রাহিম কোঠি। অষ্টম পতৌদি নবাব ইফতিকার আলি খান ১৯০০ সালের আগেই এই প্রাসাদ নির্মাণে পরিকল্পনা হয়। ব্রিটিশ স্থাপত্যের ধাঁচে এই নির্মাণশৈলী তৈরি করেছিলেন রবার্ট টোর রাসেন এবং কার্ল মোলৎজ ফন হেইনজ। বংশানুক্রমিকভাবে এই প্রাসাদের মালিক এখন সইফ আলি খান।
২০০৫-২০১৪ পর্যন্ত এই প্রাসাদটি নিমরানা হোটেল গ্রুপকে লিজ দেওয়া হয়েছিল। পতৌদি প্যালেসের ইতিহাস শুরু হয় যখন ইফতিকার আলি খান এবং সইফের ঠাকুরদা নতুন বউয়ের জন্য একটি নতুন প্রাসাদ নির্মাণের কথা ভাবেন তখন থেকে। ভোপালের নবাবজাদি বেগম সাজিদা সুলতানকে এই প্রাসাদে স্বাগত জানানোর জন্য তৈরি হয় এই মার্বেলের প্রাসাদ। প্রাসাদ তৈরি সম্পন্ন হয় ১৯৪০ সাল নাগাদ। ইফতিকার আলি খানের মৃত্যুর পর (১৯৫২) তাঁর পুত্র মনসুর আলি এই বাড়ির মালিক হন। ২০০০ সাল পর্যন্ত পতৌদি পরিবারের ঠিকানা ছিল এই প্রাসাদ। এখানেই বড় হয়েছেন সইফ আলি খানও।

২০১৪ সালে স্বোপার্জিত অর্থ দিয়ে এই প্রাসাদ ফের কিনে নেন সইফ আলি। তিনি নিজেই এক সাক্ষাৎকারে সেকথা জানিয়েছিলেন। নতুন করে পৈতৃক সম্পত্তি কিনে নিয়ে সেখানে পুরনো ঐতিহ্য বজায় রেখে আধুনিকতার ছাপ এনে দেন সইফ। এই প্রাসাদের ১৫০টি ঘরেই পুরনো দিনে আসবাব, ঝাড়লণ্ঠন, বিদেশি বাসনপত্র, তৈলচিত্র, ফুলদানি, অস্ত্রশস্ত্র রয়েছে। এছাড়া রয়েছে পতৌদি পরিবারের বিভিন্ন পুরস্কার ও মেডেল। এখানে রয়েছে সাতটি বিশাল শোওয়ার ঘর। তার সঙ্গেই রয়েছে সংলগ্ন ড্রেসিং রুম। বেশ কয়েকটি ডাইনিং রুম এবং বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা। বিলিয়ার্ড রুম রয়েছে।

এই প্রাসাদে বহু ছবির শ্যুটিং হয়েছে। বহু বড় বড় অভিনেতা-অভিনেত্রীরা এখানে ছবির জন্য অথবা বেড়াতে এসেছেন। তাঁদের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলেন অস্কার জয়ী অভিনেত্রী জুলিয়া রবার্টস। শ্যুটিং হয়েছে, মেরে ব্রাদার কি দুলহন, বীরজারা, মঙ্গল পান্ডে, রণবীর কাপুরের অ্যানিমাল, সইফ আলি খানের তাণ্ডব সিরিজের।