
সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায় ও উত্তম কুমার
শেষ আপডেট: 29 April 2025 23:19
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সুচিত্রা সেনের মতো বিখ্যাত নায়িকা উত্তম কুমারের সঙ্গে রূপালি পর্দায় জাদু সৃষ্টি করলেও, এক জন অভিনেত্রী ছিলেন, যিনি কেবল সহ-অভিনেত্রী নন—নিজস্ব এক অনন্যতা নিয়েই বারবার দর্শকদের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছেন। তিনি সাবিত্রী চট্টোপাধ্যায়। কমেডি হোক বা গম্ভীর চরিত্র, সাবিত্রী নিজ গুণেই প্রমাণ করেছিলেন—তাঁকে টপকানো মোটেই সহজ কাজ নয়। স্বয়ং উত্তম কুমারও সে কথা অকপটে স্বীকার করেছিলেন।
উত্তম কুমার তাঁর নায়ক হলেও, বাস্তব জীবনে তাঁরা ছিলেন ঘনিষ্ঠ বন্ধু। বহু পুরনো ম্যাগাজিনের পাতায় ছাপা তথ্য অনুযায়ী, উত্তমের প্রেমে পড়েছিলেন সাবিত্রী। এমনটাও শোনা যায়, উত্তমকে হৃদয় দিয়ে ভালবেসে—সেই ভালবাসার সম্মানেই সারাটি জীবন নিঃসঙ্গ পথেই হেঁটেছেন তিনি।
সাবিত্রী তাঁর আত্মজীবনীমূলক বই ‘সত্যি সাবিত্রী’–তে উত্তমকে ঘিরে বহু অজানা প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। সেই বইয়ের একটি বিশেষ অনুচ্ছেদ পাঠকের মনে কৌতূহলের ঝড় তোলে। সেই অংশে সাবিত্রী অকপটে লিখেছেন, "উত্তমদাই প্রথম আমাকে পরিমিত মদ্যপানে অভ্যস্ত করেছিলেন। তখন বাবার ভয়ে বাইরে গিয়েই অল্প করে মদ খেতাম। কিন্তু বাবার—শশধর চট্টোপাধ্যায়ের—মৃত্যুর পর আমি ভেঙে পড়ি। সেই ভাঙন থেকেই ধীরে ধীরে মদের প্রতি নির্ভরশীলতা বাড়ে। সারাক্ষণ কাঁদতাম, আর একসময় বুঝলাম—মদই যেন একমাত্র সঙ্গী।"
তিনি আরও লেখেন, "বাবা চলে যাওয়ার শোক আমায় দিয়ে মদ খাওয়ার অভ্যাস তৈরি করল। তবে একটা কথা বলি—আমি মনের শাসনে চলি। যখন মন চায় না, তখন একফোঁটাও স্পর্শ করি না।" সাবিত্রী তাঁর নিঃসঙ্গতার কথাও লিখেছেন গূঢ় স্বরে—"একদিন ভিড়ের মধ্যে বুঝে গেলাম—আমার চারপাশে আসলে কেউ নেই। সেই দিন থেকেই মদ যেন আমার নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠল। তবে চিরকাল আমি মদ খেয়েছি, মদ কোনওদিন আমাকে খায়নি। আমি নিজেকে কোনওদিন হারাইনি।"
এই কথাগুলির মাঝে ফুটে ওঠে একা পথচলার সাহস, অভিমান, আর এক নিবিড় আত্মমর্যাদা। আজও যদি মনের মতো এক সঙ্গী পাশে পান, তবে আর কোনও কিছুর প্রয়োজন হবে না—এই বিশ্বাস তাঁর লেখায় এখনও টাটকা।