অ্যাকশন, রোমান্স, কমেডি— সব ধারাতেই সমান দক্ষ ধর্মেন্দ্রর রূপোলি পর্দার বাইরেও আর এক পরিচয় ছিল— রাজনীতির ময়দানে বিজেপি-র প্রাক্তন সাংসদ (Dharmendra BJP)।

জনসভায় ধর্মেন্দ্র
শেষ আপডেট: 24 November 2025 18:16
দ্য ওয়াল ব্যুরো: মুম্বইয়ে সোমবার শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন হিন্দি সিনেমার কিংবদন্তি অভিনেতা ধর্মেন্দ্র (Dharmendra)। বয়স হয়েছিল ৮৯। শ্বাসকষ্ট-সহ নানা শারীরিক সমস্যায় ভুগছিলেন বর্ষীয়ান এই তারকা (Dharmendra Death)। ছয় দশকেরও বেশি সময়জুড়ে ৩০০-রও বেশি ছবিতে অভিনয় করে বলিউডে ‘হি-ম্যান’ খেতাব অর্জন করেছিলেন তিনি (Dharmendra News)।
অ্যাকশন, রোমান্স, কমেডি— সব ধারাতেই সমান দক্ষ ধর্মেন্দ্রর রুপোলি পর্দার বাইরেও আর এক পরিচয় ছিল— রাজনীতির ময়দানে বিজেপি-র প্রাক্তন সাংসদ (Dharmendra BJP)। ২০০৪ লোকসভা নির্বাচনে রাজস্থানের বিকানের কেন্দ্র থেকে বিজেপির টিকিটে লড়াই করে তিনি জিতেছিলেন এক লক্ষেরও বেশি ভোটে। কংগ্রেসের প্রার্থী রমেশ্বরলাল দুডিকে হারিয়ে তিনি ২০০৪ থেকে ২০০৯ পর্যন্ত এক পূর্ণ মেয়াদে লোকসভার সদস্য ছিলেন। যদিও সে বছরেই কেন্দ্রের ক্ষমতায় আসে কংগ্রেস-নেতৃত্বাধীন ইউপিএ।
বিজেপি সাংসদ হয়ে দিল্লির রাজনীতিতে নাম লেখালেও সংসদের অধিবেশন চলাকালীন রাজনীতিতে ধর্মেন্দ্রর উপস্থিতি ছিল প্রায় অধরা। শুটিং সেট বা নিজের ফার্মহাউস— এই দুই জায়গাতেই তাঁকে বেশি দেখা যেত। এর জন্য তাঁর বিরুদ্ধে ‘দায়িত্বে গাফিলতি’র অভিযোগও উঠেছিল নানা মহলে। তবুও বিকানেরের সঙ্গে তাঁর জনসংযোগ পুরোপুরি ছেদ হয়নি— জনসভা, সাংস্কৃতিক প্রভাব এবং তারকা-ব্যক্তিত্ব তাঁকে কেন্দ্রের বাইরে থেকেও জনপ্রিয় রেখেছিল।
২০০৯ সালের পরে তিনি সক্রিয় নির্বাচনী রাজনীতি থেকে সরে দাঁড়ান। যদিও আনুষ্ঠানিক ভাবে বিজেপির সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বজায় ছিল। পরবর্তীতে তাঁর পরিবারের হাত ধরে বিজেপি রাজনীতিতে ধর্মেন্দ্রর উত্তরাধিকারও প্রবাহিত হয়। ছেলে সানি দেওল ২০১৯-২৪ পর্যন্ত পাঞ্জাবের গুরুদাসপুর থেকে বিজেপি সাংসদ ছিলেন। স্ত্রী হেমা মালিনী আবার ২০১৪ সাল থেকে টানা তিনবার মথুরার সাংসদ।
২০০৪-এর প্রচারে ধর্মেন্দ্রর একটি মন্তব্য বড়সড় বিতর্ক তৈরি করেছিল। তিনি বলেছিলেন, ‘‘আমাকে ভোট দিন, আমি ‘ডিকটেটর’ হয়ে সমাজে নৈতিক শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনব।’’ এই বক্তব্য ঘিরে বিরোধী দল ও নাগরিক মহলে তীব্র সমালোচনা হয়। পরে অবশ্য ধর্মেন্দ্র দাবি করেন, মন্তব্যটি ‘মজার ছলে’ বলা হয়েছিল, সরাসরি অর্থে নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
মাসের শুরুর দিকেই ব্রিচ ক্যান্ডি হাসপাতাল থেকে বাড়ি ফিরেছেন তিনি। ৩১ অক্টোবর থেকে সেখানে ভর্তি ছিলেন চিকিৎসার জন্য। হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার পর তাঁর পরিবার জানিয়েছিল, বাড়িতেই চলবে দীর্ঘ পুনর্বাসন পর্ব। একইসঙ্গে অনুরোধ করেছিলেন, যেন কেউ অকারণ জল্পনা না করেন। ভক্তদের ভালবাসা ও উদ্বেগের জন্য পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
এরপর থেকেই তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা খুব একটা সামনে আসেনি। এর আগে তাঁর মৃত্যুসংবাদ রটায় পরিবারের তরফ থেকেও সংবাদমাধ্যমকে কিছু জানানো হয়নি। তবে এ দিন সকাল থেকেই বাড়ির সামনে ভিড়। সূত্র জানাচ্ছে, তিনি আর নেই।