আদালত জানিয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে একই সঙ্গে কান্তারা ১ ছবির একটি চরিত্র নকল করার অভিযোগে আদালত তাঁকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছে।

রণবীর সিংকে অন্তর্বর্তী রেহাই।
শেষ আপডেট: 24 February 2026 15:01
দ্য ওয়াল ব্যুরো: কর্নাটক হাইকোর্ট মঙ্গলবার অভিনেতা রণবীর সিংকে অন্তর্বর্তী রেহাই দিয়েছে। আদালত জানিয়েছে, ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের অভিযোগে দায়ের হওয়া মামলায় আপাতত তাঁর বিরুদ্ধে কোনও কড়াকড়ি ব্যবস্থা নেওয়া যাবে না। তবে একই সঙ্গে কান্তারা ১ ছবির একটি চরিত্র নকল করার অভিযোগে আদালত তাঁকে কড়া ভাষায় ভর্ৎসনা করেছে। ঘটনাটি ঘটেছিল গোয়ায় আয়োজিত ৫৬-তম আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে। শুনানির সময় বিচারপতি এম নাগপ্রসন্ন কড়া মন্তব্য করেন। তিনি বলেন, “আপনি একজন অভিনেতা। অনেক মানুষ আপনাকে দেখে প্রভাবিত হন। তাই আপনার দায়িত্বও আছে। নকল করতে পারেন, অভিনয় করতে পারেন, কিন্তু কারও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করার অধিকার আপনার নেই। মুখ সামলে কথা বলতে হবে। আপনি রণবীর সিং হোন বা যে-ই হোন।”
রণবীরের পক্ষে আইনজীবী সজন পোভাইয়া বলেন, তাঁর মক্কেলের মন্তব্য “সম্পূর্ণ অসংবেদনশীল” ছিল। তবে তিনি জানান, এতে কারও মনে আঘাত লেগে থাকলে রণবীর তা ঠিক করতে প্রস্তুত। আদালত জানায়, ইচ্ছাকৃত ছিল কি না, তা মামলার শুনানির সময় খতিয়ে দেখা হবে। বিচারপতি আরও বলেন, ইন্টারনেট কিছু ভোলে না। জনসমক্ষে কথা বলার সময় অভিনেতাদের খুব সতর্ক থাকতে হবে। ধর্মীয় অনুভূতিকে সম্মান করতে হবে। কোনও দেবতার নকল করা হালকাভাবে নেওয়া যায় না। রাজ্যের মানুষের আবেগ উপেক্ষা করা যাবে না। তিনি বলেন, রণবীর “নিশ্চয়ই মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করেছেন।” তবে এটাও যোগ করেন, “আমি বলছি না, এটা ইচ্ছে করে বলা। এটা চরম অজ্ঞতা। এই অঞ্চলের কাছে এটা পবিত্র বিষয়।” বিচারপতি আরও বলেন, “আপনি বেপরোয়া। আপনি যা করেছেন, তা করার অধিকার আপনার নেই।”
শুনানিতে অভিযোগকারীর আইনজীবী বলেন, রণবীরের স্ত্রী দীপিকা পাড়ুকোন কর্নাটকের মেয়ে। তাই স্থানীয় ধর্মীয় অনুভূতি সম্পর্কে তাঁর সচেতন থাকা উচিত ছিল। তাঁদের দাবি, অনুষ্ঠানে রণবীরকে নকল বন্ধ করতে বলা হয়েছিল, তবু তিনি থামেননি। এ প্রসঙ্গে বিচারপতি বলেন, অভিনেতার “খুব, খুব সাবধানে থাকা উচিত ছিল।” মামলাটি ভারতীয় ন্যায় সংহিতা ২০২৩ ধারায় দায়ের হয়েছে। অভিযোগ, সাম্প্রদায়িক বিদ্বেষ ছড়ানো এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করা। রণবীরের আইনজীবী বলেন, এফআইআর একটি ছোট আদেশের ভিত্তিতে হয়েছে, যেখানে শুধু তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, অসাবধানতাবশত মন্তব্য মানে ইচ্ছাকৃত অপরাধ নয়— এ কথা আগেও আদালত বলেছে।
আদালত আরও সতর্ক করে জানায়, ডিজিটাল মাধ্যমে কিছু একবার ছড়িয়ে পড়লে তা মুছে ফেলা কঠিন। “কথা ফিরিয়ে নেওয়া যায়, কিন্তু ইন্টারনেটের বিষয়বস্তু আর ফেরানো যায় না,” বলে আদালত। জনসাধারণের অনুভূতিতে আঘাত না করার পরামর্শও দেওয়া হয়।মামলার পরবর্তী শুনানি আগামী সোমবার। ততদিন পর্যন্ত রণবীর সিংয়ের বিরুদ্ধে কোনও কড়াকড়ি পদক্ষেপ না নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।