
রামকমল ও সৃজিতের পোস্ট
শেষ আপডেট: 25 February 2025 21:06
ফ্লোরিডায়, সাউথ এশিয়ান ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভালে দেখানো হল রামকমল মুখোপাধ্যায়ের (Ram Kamal Mukherjee) ছবি ‘বিনোদিনী—এক নটীর উপাখ্যান’। শুধু তাই নয় কম্পিটিশন সেকশনে লড়াই করে তিন-তিনটে পুরস্কারও জিতল ছবি। সেরা অভিনেত্রী, সেরা পরিচালক এবং দর্শকের পছন্দ অর্থাৎ অডিয়েন্স চয়েস অ্যাওয়ার্ড পেল রামকমলের ‘ম্যাগনাম ওপাস’! বাংলা ছবির কাছে এ যেন এক বিরাট পাওয়া, বললেন পরিচালক। শুধু তাই নয়, মাত্র দশ মিনিটের মধ্যেই সমস্ত টিকিট বিক্রি হয়ে যায়। বারবার রামকমল বললেন, নিবিড় গল্প এবং তার সঙ্গে দৃশ্যায়ণের সূক্ষ্মতার জন্য প্রশংসিত হল, বাংলার ছবি। বাঙালির ছবি।
ঠিক যখন এমন এক খবরে উচ্ছ্বসিত বাঙালি, ঠিক তখনই ঘটল আরেক ঘটনা। যিনি ঘটালেন, তিনিও পরিচালক। সৃজিত মুখোপাধ্যায়। এক প্রথম সারির সংবাদমাধ্যমের একটি ভিডিও শেয়ার করেন সৃজিত। ভিডিওতে রুক্মিণীকে বলতে শোনা যায়, ‘সৃজিত এই ছবিটা আমাকেও অফার করেছিলেন, তারপর কী হল তা আমি জানি না। সৃজিত বলেছিল ছবিটা গৌরাঙ্গ নিয়ে। তার মধ্যে একটা অংশ এটা...’। সৃজিত ভিডিওটি শেয়ার করে ক্যাপশনে লেখেন, ‘রুক্মিণী মৈত্রকে যে চরিত্র অফার করা হয়েছিল সেটা রাইয়ের চরিত্র, একজন পরিচালক যিনি চৈতন্য মহাপ্রভুকে নিয়ে সিনেমা বানাচ্ছেন। বিনোদিনী চরিত্রটির জন্য আমার প্রথম থেকে শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়কেই পছন্দ ছিল। আর সেটা ২০২০ সালেই ঠিক করা হয়। আরও কিছু ভুলভ্রান্তি ঠিক করার জন্য বলি, ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিটি লেখা হয় ২০১৯ সালে। এছাড়া বেশ কিছু মহিলাকেন্দ্রিক ছবি যেমন রাজকাহিনী ২০১৫ এবং বেগম জান ২০১৭ সালে লেখা হয়। এটা ঋতুপর্ণ ঘোষ, সঞ্জয় লীলা ভন্সালীর বা কোনও হাইব্রিড মায়েস্ত্রোর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো হয়নি। বানানো হয়েছে চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন এবং তাঁর সময়ের অনুপ্রেরণায়।'
দ্য ওয়াল-এর এক্সক্লুসিভ সাক্ষাৎকারে যখন ক্যামেরার মুখোমুখি বসেছেন, রামকমল মুখোপাধ্যায়, (Ram Kamal Mukherjee) তাঁর সামনেই সৃজিতের লেখা এই ক্যাপশনটি পড়া হল। যেখানে সৃজিত লিখছেন, ‘এটা ঋতুপর্ণ ঘোষ, সঞ্জয় লীলা বনশালি বা কোনও হাইব্রিড মায়েস্ত্রোর থেকে অনুপ্রাণিত হয়ে বানানো হয়নি। বানানো হয়েছে চৈতন্য মহাপ্রভুর জীবন এবং তাঁর সময়ের অনুপ্রেরণায়।'
পরের প্রশ্নটি ছিল সোজাসাপ্টাভাবে রামকমলকে ছোঁড়া হয়। সৃজিত কাকে ‘হাইব্রিড মায়েস্ত্রো’ বলেছেন বলে আপনার মনে হয়? প্রসঙ্গত, এর আগেও এক সাক্ষাৎকারে রুক্মিণী, বলেছিলেন, যে রামকমলের মধ্যে ভন্সালী এবং ঋতুদার মিশেল দেখতে পাই। তা নিয়ে সমাজমাধ্যমে ট্রোলও হন।
দ্য ওয়াল-এর প্রশ্নের জবাবে রামকমল বলেন, ‘‘এটা সৃজিতদা নিজেই বলবেন। তবে পড়ে যা মনে হচ্ছে, ঋতুদা-সঞ্জয় লীলা বনসালীর সঙ্গে সৃজিতদা আমাকে কমপেয়ার করছেন, যদি উনি এটা করে থাকেন, তাহলে আমি মাথা পেতে নেব। শুধু তাঁরা কেন, আশুতোষ গোয়ারিকর, মণি রত্নম, শ্যাম বেনেগাল, আরেকজন যিনি আমাকে প্রভাবিত করেন, শেখর কাপুর। ভারতে শেখর কাপুরের থেকে বায়োপিক কেউ বানাতে পারেননি। সেটা ব্যান্ডিত কুইন কিংবা এলিজাবেথ হোক। যদি তিনি তুলনা টানেন, তাতে কোনও ক্ষতি নেই। ঋতুদা নিজে বলতেন, সত্যজিৎ রায় তাঁকে অনু্প্রেরণা দিয়েছিলেন। সত্যজিৎ রায় নিজে ‘বাইসাইকেল থিফ’ দেখে অনুপ্রাণিত। অনুপ্রেরণা তো থাকবেই। ওঁরা তো আমাদের গুরু!’’
এখানেই থামলেন না পরিচালক। বললেন, ‘ভন্সালীজির ছবির একটা মাত্রা রয়েছে। আমরা শুরু থেকেই চেয়েছিলাম আমাদের ছবিরও লেভেল বাড়বে। একটা গ্র্যান্ডজিওর থাকবে। শুরু থেকে এটা নিয়ে কলকাতার অনেকের আপত্তি ছিল। একটা গোষ্ঠী ছিল, যাদের প্রশ্ন ছিল বিনোদিনী দাসীকে লার্জার দ্যান লাইফ কেন দেখাবে রামকমল? তাঁর জীবন সাধারণ। তাঁর জীবনদৃষ্টি সাধারণ ছিল। অনেকে অনেক কথা বলেছিল। আমি বলেই দিয়েছিলাম এটা ফিকশন। ভন্সালীর যখন ‘বাজিরাও মস্তানি’, ‘পদ্মাবত’ ‘রামলীলা’ বানাচ্ছেন। এত বড় লার্জার দ্যাল লাইফ ছবি বানাচ্ছেন, তখন কোনও অসুবিধে হচ্ছে না। যখন রামকমল বাংলায় এসে বাংলা ছবি বানাচ্ছেন, তা নিয়ে কথা বলছেন!’
কেন আপনার মনে হচ্ছে আপনাকেই উদ্দেশ করে এটা লেখা?
‘‘কে নিজেকে বলে, আমি ঋতুপর্ণ বা সঞ্জয় লীলা ভন্সালী। এই ধৃষ্টতা আমার থাকবেই বা কেন? আমি আমার মতো ছবি বানাচ্ছি, অন্য কারওর মতো কেন হব? অর্জুন কি দ্রোণাচার্য হতে চেয়েছিল? নাকি দ্রোণাচার্য চেয়েছিল অর্জুন, তাঁর মতো হোক! সৃজিত মুখোপাধ্যায় একটা ব্র্যান্ড। আমি ওঁর ছবি একটিও মিস করিনি। আমি এতদিন জানতাম সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে আমার সম্পর্ক অত্যন্ত ভাল। আমি জানতাম সৃজিতের আমার প্রতি ক্ষোভ-রাগ নেই। ‘রাজকাহিনী’র সময় যখন ও মুম্বই গিয়েছিল, তখন গোটা প্রেস কনফারেন্স আয়োজন আমি ও আমার স্ত্রী সর্বাণী করেছিলাম। যখন আমি সাংবাদিকতা করছি, সৃজিতের সিনেমা তৈরির প্রথম দিকে, ওকে সাহায্য করি। ওঁর ছবি নিয়ে লিখেছি, ট্যুইট করেছি, প্রকাশ করেছি। আমি জানি না, ঠিক কী হল? রাগ থেকে, বলছেন? ক্ষোভ থেকে বলছেন? সত্যিই জানি না!’