বলিউড অভিনেতা রাজকুমার রাও যিনি সদ্য ‘মালিক’ ছবিতে নজর কেড়েছেন, এবং সম্প্রতি ‘স্ত্রী-২’ দিয়ে বক্স অফিস কাঁপিয়েছেন, এবার পেলেন বড়সড় আইনি স্বস্তি।

ছবিটির পোস্টারে দেখা গিয়েছিল, শিবের সাজে রাজকুমার রাও
শেষ আপডেট: 31 July 2025 16:02
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড অভিনেতা রাজকুমার রাও যিনি সদ্য ‘মালিক’ ছবিতে নজর কেড়েছেন, এবং সম্প্রতি ‘স্ত্রী-২’ দিয়ে বক্স অফিস কাঁপিয়েছেন, এবার পেলেন বড়সড় আইনি স্বস্তি। ২০১৭ সালের ছবি ‘বেহেন হোগি তেরি’র বিতর্কিত পোস্টার ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকা মামলায় অবশেষে কিছুটা মুক্তি মিলল তাঁর।
ছবিটির পোস্টারে দেখা গিয়েছিল, শিবের সাজে রাজকুমার রাও। হাতে ত্রিশূল, কপালে অর্ধচন্দ্র, গলায় রুদ্রাক্ষ—এই সাজে তিনি বসে রয়েছেন এক মোটরবাইকে, যার নম্বর প্লেট উত্তরপ্রদেশের। আর এই পোস্টার ঘিরেই শুরু হয় প্রবল ক্ষোভ। পঞ্জাবের জলন্ধরে ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাতের অভিযোগ তুলে দায়ের হয় এফআইআর। সেই সূত্র ধরেই আইনি জটে পড়েন, ছবির পরিচালক অজয় কে পান্নালাল, প্রযোজক টনি ডি’সুজা এবং রাজকুমার নিজেও।
পরিচালক ও প্রযোজককে গ্রেফতারও করা হয়েছিল মুম্বই থেকে, যদিও পরে তাঁরা জামিন পান। তবে মামলা চলতে থাকে রাজকুমার রাওয়ের বিরুদ্ধেও। ২৮ জুলাই তাঁকে হাজিরা দিতে হয় আদালতে। এরপর তাঁর জামিন মঞ্জুর হয় শর্তসাপেক্ষে। পরবর্তী শুনানি ছিল ৩০ জুলাই, যেখানে রাজকুমার অনুপস্থিত থাকেন।
এ বিষয়ে রাজকুমারের পক্ষের আইনজীবী দর্শন দয়াল সংবাদমাধ্যমকে জানান, ‘ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত (ধারা ২৯৫এ), অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র (ধারা ১২০বি) এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনের (ধারা ৬৭) আওতায় এফআইআর করা হয়। সেই কারণে অভিনেতার নামে জারি হয়েছিল জামিন অযোগ্য ওয়ারেন্টও।’
তিনি আরও জানান, আদালতে যে সমন পাঠানো হয়েছিল তাতে দিল্লির ঠিকানা ছিল, কিন্তু রাজকুমার বর্তমানে থাকেন মুম্বইতে। ফলে তিনি সেই সমনের বিষয়ে অবগত ছিলেন না। অন্যদিকে, সহ-অভিনেত্রী শ্রুতি হাসানকে মামলার দায় থেকে মুক্তি দিয়েছে আদালত। কারণ তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ মেলেনি।
রাজকুমারের তরফে যুক্তি তুলে ধরা হয় যে, ছবিটি সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পাওয়া— অর্থাৎ আইনের চোখে এতে কোনও আপত্তিকর বিষয় নেই। উল্টে তাঁর মত প্রকাশের স্বাধীনতাও সংরক্ষিত সংবিধানের ১৯(১)(এ) ধারায়।
প্রসঙ্গত, সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ফিল্ম সার্টিফিকেশন (CBFC) প্রথমে আপত্তি জানিয়েছিল এমন একটি দৃশ্য নিয়ে যেখানে শিব রূপী রাজকুমার বাইক থেকে পড়ে যাচ্ছেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত কোনও দৃশ্য ছাঁটাই না করেই ছবিটি ইউ/এ সার্টিফিকেট পায় এবং মুক্তি পায় ৯ জুন, ২০১৭।
একটা পোস্টার ঘিরে এত বছরের জটিলতা, গ্রেফতারি থেকে জামিন, অবশেষে রাজকুমারের জন্য কিছুটা স্বস্তির নিশ্বাস। এখন দেখার, পরবর্তী শুনানিতে কী রায় আসে—তবে আপাতত অভিনেতার পাশে আইনের রক্ষাকবচ!