কৌতুকাভিনেতা রাজীব ঠাকুর জানিয়েছেন, একসময় ৫০ গ্রাম আমুল বাটারও ছিল বিলাসিতা। অমৃতসরের এক ছোট ঘর থেকে শুরু করে কপিল শর্মার সঙ্গে শো— আজ বিলাসবহুল জীবনে পৌঁছে গিয়েও সেই অভাবের দিনগুলো ভোলেননি তিনি।

রাজীব ঠাকুর
শেষ আপডেট: 9 October 2025 13:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: জনপ্রিয় কৌতুকাভিনেতা (Indian Comedian) রাজীব ঠাকুর (Rajiv Thakur), যিনি কপিল শর্মা এবং চন্দন প্রভাকরের সঙ্গে অমৃতসরে তাঁর কেরিয়ার শুরু করেছিলেন, সম্প্রতি তাঁর শৈশবের চরম দারিদ্র্যের দিনগুলোর কথা মনে করেছেন। এক সাক্ষাৎকারে রাজীব জানান, ছোটবেলার সেই অভাব কাটানো দিনগুলো (Rajiv Thakur Struggles) আজও তাঁর মনে গেঁথে আছে। তাই আজ তিনি বিলাসবহুল জীবনে বিশ্বাস করেন। আর এটাই তাঁকে আনন্দ দেয়।
'হিন্দি রাশ'কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজীব ঠাকুর তাঁর অতীতের কঠিন জীবনযাত্রার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, "যতটা দারিদ্র্য জীবনে থাকা উচিত, আমি তার চেয়েও বেশি অভিজ্ঞতা লাভ করেছি।"
তাঁর পাঁচ জনের পরিবারকে একটি ছোট্ট ঘরে থাকতে হত, যা একই সঙ্গে বেডরুম, বসার ঘর, বাথরুম এবং রান্নাঘর হিসেবে ব্যবহার করা হত। শীতকালে দেওয়ালের ভেন্টিলেশনের ফুটো বন্ধ করার জন্য তাঁরা পুরনো, ফেলে দেওয়া সংবাদপত্র ব্যবহার করতেন।
তিনি বলেন, "আমুল বাটার ছিল এক বিলাসিতা।" তাঁর বাবা মাত্র ৫০ গ্রাম বাটার কিনে আনতেন, যা তাঁকে এবং তাঁর দুই ভাই-বোনকে ভাগ করে খেতে হত। রাজীব বলেন, এখন তাই তিনি প্রতিবার খাবার খাওয়ার সময় অতিরিক্ত বাটার চেয়ে নেন।
রাজীব জানান, ছোটবেলায় তাঁদের বাড়িতে মাত্র একটি ৪০ ওয়াটের বাল্ব ছিল, যার নীচে তাঁর ও তাঁর ভাই-বোনদের পড়াশোনা করতে হত। চোখ জ্বালা করলেও কিছুই করার থাকত না। এই কারণে, এখন তাঁর নিজের বেডরুমে তিনি সব আলো জ্বালিয়ে রাখেন, যদিও তিনি জানেন ডিম লাইটিংই বেশি আরামদায়ক। সেই অন্ধকার আজও তাঁকে ছোটবেলার দারিদ্র্যের কথা মনে করিয়ে দেয়।
কৌতুকাভিনেতা জানান, তাঁর একজন অধ্যক্ষ তাঁর মাকে শর্ত দিয়েছিলেন যে, রাজীব ও তাঁর ভাই-বোনদের ফি অর্ধেক নেওয়া হবে, তবে তাঁর মাকে অধ্যক্ষের বাড়িতে জামা সেলাই করে দিতে হবে। রাজীব নিজেই অধ্যক্ষের বাড়িতে সেই সেলাই করা পোশাক পৌঁছে দিতেন। তখনই তিনি প্রথম টিউবলাইট দেখেছিলেন।
কপিল শর্মা ও চন্দন প্রভাকরের সঙ্গে মুম্বইয়ে এসে বিনোদন জগতে নিজের জায়গা করে নেওয়া রাজীব ঠাকুর এখন সাফল্যের চূড়ান্ত শিখরে। তিনি বলেন, "যদি আমি কোনও বন্ধুর জন্য পারফর্ম করি, তবে সেটা বিনামূল্যে করতে পারি বা কম টাকা নিতে পারি, কিন্তু বিজনেস ক্লাস টিকিট এবং স্যুটে থাকার বিষয়ে আমি আপোস করি না। এই অভিজ্ঞতা আমার কাছে অর্থের চেয়েও মূল্যবান। আমি বিজনেস লাউঞ্জে যেতে ভালবাসি।"