চেন্নাইয়ের সাফাই কর্মী পদ্মার সততায় মুগ্ধ হয়ে নিজের হাতে সোনার চেন পরিয়ে সম্মান জানালেন রজনীকান্ত।

সোনার চেন পরিয়ে দেওয়ার মুহূর্ত
শেষ আপডেট: 4 February 2026 15:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চেন্নাইয়ের (Chennai) রাস্তায় ডিউটির সময়ে যে ব্যাগটা পড়ে থাকতে দেখেছিলেন পদ্মা (Padma), সেটাই রাতারাতি তাঁকে খবরের শিরোনামে তুলে দিল। যেখানে আজকাল কয়েক টাকার লোভে মানুষ নীতি ভুলে যায়, সেখানে বিপুল পরিমাণ সোনা খুঁজে পেয়ে মালিকের হাতে ফিরিয়ে দিয়ে এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন এই সাফাই কর্মী। আর তাঁর এই সততার মর্যাদা দিতে নিজের হাতে সোনার হার পরিয়ে দিলেন‘থালাইভা’ রজনীকান্ত (Rajinikanth)।
চেন্নাইয়ের টি-নগরে (T-Nagar) বেসরকারি সংস্থা ‘উর্বাসার সুমিত’ (Urbaser Sumit)-এর কর্মী পদ্মা নিয়মমতো মঙ্গলবার কাজ করছিলেন। সেই সময় রাস্তায় একটি পরিত্যক্ত ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেন। ব্যাগ খুলতেই চক্ষুচড়কগাছ—ভর্তি সোনার গয়না। বাজারদর হিসেব করলে প্রায় ৪৫ লক্ষ টাকার (45 lakh worth gold) অলঙ্কার। তাঁর সামনে লোভ দেখানোর মতো সুযোগ তৈরি হয়েছিল ঠিকই, কিন্তু এক মুহূর্ত দেরি না করে পদ্মা খবর দেন সংস্থার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। নির্দেশ মতো তিনি ব্যাগটি পৌঁছে দেন পণ্ডি বাজার থানায় (Pondy Bazaar Police Station)। পরে পুলিশ প্রকৃত মালিককে গয়নাগুলি ফিরিয়ে দেয়।
এই সততার গল্প দ্রুতই পৌঁছে যায় তামিলনাড়ু প্রশাসনের কাছে। মুখ্যমন্ত্রী এম কে স্ট্যালিন (MK Stalin) আগেই পদ্মাকে অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর হাতে ১ লক্ষ টাকার চেক তুলে দেন। কিন্তু তাঁর কাছে সবচেয়ে অবাক করা ঘটনা ছিল রজনীকান্তের বাড়ি থেকে ডাক আসা। মঙ্গলবার ‘থালাইভা’-র বাসভবনে গিয়ে তাঁর সঙ্গে দেখা করেন পদ্মা। শুধু উপহারই নয়—রজনীকান্ত তাঁর সততাকে ‘অনুপ্রেরণামূলক’ (inspirational) বলে প্রশংসা করেন এবং নিজের হাতে সোনার হার পরিয়ে সম্মান জানান। সাধারণ সাফাই কর্মীর জন্য এটা ছিল নিঃসন্দেহে স্বপ্নপূরণের মুহূর্ত।
সংস্থার তরফেও মিলেছে প্রশংসা। ‘উর্বাসার সুমিত’-এর সিইও মাহমুদ সাইত (Mahmood Sait) জানান, গত চার বছরে তাঁদের কর্মীরা প্রায় ১.৫ কোটি টাকার (1.5 crore recovered items) হারানো সম্পদ উদ্ধার করে মালিকদের ফিরিয়ে দিয়েছেন। তাঁর কথায়, “আমাদের সংস্থায় হারানো জিনিস উদ্ধার ও তা ফেরত দেওয়ার নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া রয়েছে। আমরা নীতিবোধে জোর দিই। আমাদের কর্মীরা সেই মানদণ্ড বজায় রাখছেন, এটা গর্বের।”
পদ্মার আচরণ ফের প্রমাণ করে দিল—সততা আজও বেঁচে আছে। আর রজনীকান্তের মতো মানুষের প্রকাশ্য স্বীকৃতি এই বার্তাকে আরও দৃঢ় করে দিল সাধারণ মানুষের কাছে।