দ্য ওয়াল ব্যুরো: পর্নোগ্রাফিক কনটেন্ট বানিয়ে সম্প্রচারের অভিযোগে গ্রেফতার হয়েছেন। অপরাধ আড়াল করতে, গ্রেফতারি এড়াতে নাকি মুম্বই পুলিশের অপরাধ দমন শাখার কর্তাদের ২৫ লাখ টাকা ঘুষ দিয়েছেন রাজ কুন্দ্রা। অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টির স্বামীর বিরুদ্ধে এমন মারাত্মক অভিযোগ তুলেছেন মামলারই এক ওয়ান্টেড অভিযুক্ত। মার্চেই ই মেল মারফত্ দুর্নীতি দমন ব্যুরোকে এই অভিযোগ করে পর্ন ছবির চক্রের কিংপিন বলে চিহ্নিত অরবিন্দ শ্রীবাস্তব ওরফে যশ ঠাকুরের ফার্ম। মিড ডে এ খবর দিয়েছে। ব্যুরো সেটি এপ্রিলে পাঠায় মুম্বই পুলিশ প্রধানের দপ্তরে। যদিও তাঁর দপ্তরের লোকজন এনিয়ে মুখ বন্ধ করে রয়েছেন।
বুধবারই রাজের আন্ধেরির অফিসে অপরাধ দমন শাখার অভিযান চলে। সেখান থেকে বাজেয়াপ্ত ৭০টি ভিডিও পরীক্ষা করছে ব্রাঞ্চ। সেগুলি নাকি রাজের নির্দেশেই তৈরি হয়েছিল। বিভিন্ন ছোটখাট প্রোডাকশন হাউস সেগুলি বানিয়েছে। এবার এইসব প্রোডাকশন হাউসগুলি প্রাপার্টি সেলের নজরদারির আওতায় পড়েছে। পাশাপাশি বিশেষ করে রাজের হটস্পট অ্যাপের জন্য তৈরি ৯০টি ভিডিও পরীক্ষা করে দেখছে তদন্তকারী টিম। সেগুলির কয়েকটি ২০-৩০ মিনিট সময়সীমার বেশি বলে সূত্রের খবর।
এসিবির কাছে অভিযোগ পেশ করা সংস্থার নাম ফ্লিজ মুভিজ, আগে যাদের নাম ছিল ন্যুফ্লিক্স। এটি ছিল একটি মার্কিন ফার্ম। পুলিশ গত মার্চে তাদের নামে অভিযোগ দায়ের করে, তার মালিক শ্রীবাস্তবের দুটি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট বাজেয়াপ্ত করে, যাতে প্রায় সাড়ে চার কোটি টাকা ছিল। ই মেলে ন্যুফ্লিক্স দাবি করে, জনৈক পুলিশ ইনফর্মারের মাধ্যমেও সমপরিমাণ অর্থ দিতে বলা হয়েছিল তাদের।
সোমবারই পুলিশ রাজকে পর্ন ছবির মামলায় মূল চক্রী বলে জানায়। মামলাটি রুজু হয়েছিল ৪ ফেব্রুয়ারি, মুম্বই শহরতলির মালওয়ানি থানায়। ১১ জনকে এ পর্যন্ত গ্রেফতার করা হয়েছে। রাজের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪২০ (প্রতারণা), ৩৪(অভিন্ন উদ্দেশ্য). ২৯২ ও ২৯৩ ধারায় (অশালীন, কুরুচিকর বিজ্ঞাপন ও কনটেন্ট প্রদর্শন) ও তথ্যপ্রযুক্তি আইন, মহিলাদের খারাপ ভাবে দেখানো বিরোধী আইনের নানা ধারায়।
এদিকে বিতর্কের মধ্যেই রাজের কৌঁসুলি তাঁর মক্কেলের তৈরি কনটন্টের সমর্থনে সওয়াল করেছেন, আজকাল ওয়েব শো বলতে অশালীন কনটেন্টই চলে। রাজের তৈরি ক্লিপসগুলিকে পর্নোগ্রাফি বলা যায় না বলেও দাবি করেন তিনি।