ছেলে সহজকে লেখা রাহুল বন্দ্যোপাধ্যায়ের শেষ চিঠি ঘিরে আবেগে ভাসছে নেটদুনিয়া। সম্মান ও সহমর্মিতার মূল্য শেখানো সেই বার্তা ছুঁয়ে গেল হাজারো মানুষকে।
.jpeg.webp)
ছেলে সহজের সঙ্গে রাহুল
শেষ আপডেট: 30 March 2026 15:44
দ্য ওয়াল ব্যুরো: আজকাল এত দামী উপহারের ভিড়ে হাতে বানানো ছোট্ট জিনিস বা হাতে লেখা একটা চিঠি অমূল্য। আবেগ, ভালবাসা, মনের ইচ্ছে দিয়ে তৈরি সেই উপহারই সবচেয়ে দামী প্রমাণিত হয়। আজকাল চিঠি লেখার অভ্যাস আর কারও তেমন নেই বললেই চলে। আধুনিক প্রযুক্তির ভিড়ে আজ চিঠি পত্র বড়ই সেকেলে। কিন্তু আজও হাতে গোনা যে কয়েকজন চিঠিকেই সবচেয়ে প্রিয় উপহার হিসেবে মনে করেন, তাঁদের মধ্যে রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায় ছিলেন অন্যতম। রবিবার মৃত্যুর পর ছেলে সহজকে লেখা সেই চিঠি নিয়েই আবেগে ভাসছে নেটদুনিয়া।
ফাদার্স ডে-তে ছেলেকে চিঠিটি লিখেছিলেন রাহুল। তাতেই ধরা পড়েছে লড়াই, ভালবাসা আর জীবনের পাঠ। এই দিন উদযাপন তাঁর অভ্যাসে না থাকলেও, ছেলেকে কাছে পাওয়ার অজুহাত হিসেবেই কলম ধরেছিলেন।
চিঠিতে উঠে এসেছে তাঁর ও স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা (Priyanka)-র দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প। খুব অল্প বয়স থেকেই তাঁদের বন্ধুত্ব, একসঙ্গে কাজ, আর ইন্ডাস্ট্রিতে (Industry) টিকে থাকার সংগ্রাম-সহ একাধিক বিষয়। তিনি লিখেছেন, তাঁদের কাছে কোনও ‘প্রিভিলেজ’ (Privilege) ছিল না, ছিল শুধু অপমান সহ্য করে নিজের জায়গা করে নেওয়ার লড়াই। সেই অর্জিত অভিজ্ঞতাই ছেলের জন্য রেখে যেতে চেয়েছিলেন।
ছেলেকে উদ্দেশ্য করে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, যদি কখনও এই ইন্ডাস্ট্রিতে কাজ করো, প্রত্যেক মানুষকে সম্মান দেবে। যিনি চা দেন, তিনিও সম্মানের যোগ্য। অর্থ আর ক্ষমতার চোখে মানুষকে বিচার করা অশিক্ষার পরিচয়।
চিঠির সবচেয়ে আবেগঘন অংশ জুড়ে রয়েছে ‘পরিবার’ (Family)। সহজের জন্মের খবর পেয়ে কীভাবে আনন্দে ভেসে গিয়েছিলেন, স্ত্রীর মাতৃত্বের সংগ্রাম, সন্তানের জন্য তাঁর নিঃস্বার্থ ত্যাগ- সবটাই বিস্তারিত লিখেছেন অভিনেতা। বিশেষ করে প্রিয়াঙ্কার (Priyanka) লড়াইয়ের কথা বলতে গিয়ে তিনি জানান, সমাজের কটাক্ষ সহ্য করেও কীভাবে তিনি সন্তানকে বড় করেছেন।
শেষে ছেলের কাছে তিনি একটাই আবেদন করেন, মায়ের কষ্ট যেন সে কোনওদিন ভুলে না যায়। 'মায়ের পিঠে গাঁথা ছুরিগুলো হয়তো সরাতে পারবে না, কিন্তু তোমার একটু ভালবাসাই ওর কাছে অনেক।'
অভিনেতার রেখে যাওয়া এই চিঠির মাধ্যমেই উত্তরাধিকার হিসেবে রয়ে গেল সম্মান আর সহমর্মিতার শিক্ষা।