সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ভাইরাল ভিডিও, যা ঘিরে বাড়ছে অস্বস্তি ও প্রশ্ন। সেই ভিডিওতে দেখা যায় অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রকে (Sweta Mishra)।

শেষ আপডেট: 31 March 2026 17:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: চোখের সামনে মুহূর্তে সব শেষ। পাল্টে গেল সবটা। কিছুক্ষণ আগে যে দুটি মানুষ পাশাপাশি দাঁড়িয়ে শুটিং করছিলেন, আচকাই পাশের মানুষটা আর নেই। এই শোক সহ্য করতে পারছেন না অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্র। রবিবার 'ভোলে বাবা পার করেগা' ধারাবাহিকের শুটিং চলছিল তালসারির সমুদ্র সৈকতে। আর সেখানেই এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় প্রয়াত হন অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্য়ায় (Rahul Arunodoy Banerjee News)।
সেই থেকেই সোশ্যাল মিডিয়ায় আলোচনায় উঠে এসেছে একটি ভাইরাল ভিডিও, যা ঘিরে বাড়ছে অস্বস্তি ও প্রশ্ন। সেই ভিডিওতে দেখা যায় অভিনেত্রী শ্বেতা মিশ্রকে (Sweta Mishra)। তিনি বিস্মিত, আতঙ্কিত কণ্ঠে তিনি বারবার জানতে চাইছেন, “রাহুলদা ঠিক আছে তো?” কয়েক মুহূর্ত আগেও শুটিং সেটে একসঙ্গে কাজ করছিলেন তাঁরা, এই বিশ্বাসটুকুই যেন আঁকড়ে ধরেছিলেন তিনি।
ভিডিওটি সামনে আসার পর থেকেই তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। তবে শোকের মুহূর্তে একজন শিল্পীর এমন ব্যক্তিগত, অপ্রস্তুত প্রতিক্রিয়া জনসমক্ষে তুলে ধরা কতটা নৈতিক, তা নিয়েই শুরু হয়েছে তর্ক-বিতর্ক। যদিও সেই সময় ঠিক কী ঘটেছে, জানার জন্যে বহু মানুষ শ্বেতার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করে চলেছেন। কোনও উত্তরই মিলছে না।
বরং তাঁর এই চুপ থাকা আরও স্পষ্ট করে দিচ্ছে, মানসিকভাবে কতটা বিপর্যস্ত অবস্থার মধ্যে দিয়ে যাচ্ছেন তিনি। এই পরিস্থিতিতে পরিবারের তরফেও সকলের উদ্দেশে এক আবেদন করা হল। তাঁর বোন সালনি মিশ্র সোশ্যাল মিডিয়ায় হাতজোড় করে অনুরোধ করে জানান, 'সকলের কাছে হাতজোড় করে প্রার্থনা করছি, দয়া করে ভিডিয়োটি ফরওয়ার্ড বা সার্কুলেট করা বন্ধ করুন। আর আমার বোনকে প্রয়োজনীয় স্পেস এবং সম্মানটা দিন।'
এদিকে, সোমবার কেওড়াতলা শ্মশান-এ সম্পন্ন হয়েছে অভিনেতা রাহুল অরুণোদয় বন্দ্যোপাধ্যায়-এর শেষকৃত্য। টলিউডের বহু পরিচিত মুখ, সহকর্মী এবং পরিবার-পরিজনের উপস্থিতিতে শেষ শ্রদ্ধা জানানো হয় তাঁকে। তার মাঝেও থামেনি গুঞ্জন—কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল?
রাহুলের আকস্মিক মৃত্যু যেমন ইন্ডাস্ট্রিকে নাড়িয়ে দিয়েছে, তেমনই এই ভাইরাল ভিডিও সামনে এনে দিয়েছে আর এক কঠিন সত্যি—শোকের মুহূর্তও আজ আর ব্যক্তিগত থাকে না। কয়েক ঘণ্টা আগেও যাঁরা একসঙ্গে কাজ করছিলেন, তাঁদেরই একজন আজ আর নেই—এই বাস্তবতা মেনে নেওয়া যে কতটা কঠিন, শ্বেতার সেই মুহূর্তের প্রতিক্রিয়াই যেন তার সবচেয়ে নির্মম প্রমাণ।