
শেষ আপডেট: 8 October 2021 09:40
মেয়েবেলার পুজো মিস করেন স্টার রচনা ব্যানার্জী (Rachana Bannerjee)? যখন আপনার নাম ছিল ঝুমঝুম ব্যানার্জী?
সেইসময় তো সবটাই আনন্দের স্মৃতি। তখন তো আমায় কেউ চেনেও না কারণ গ্ল্যামার দুনিয়ায় তখনও আমি আসিনি। তখন আর পাঁচটা মেয়ের মতোই আমি ঝুমঝুম ব্যানার্জী। ঠাকুর দেখতে যখন খুশি প্যান্ডেলে প্যান্ডেলে ঘোরা, মজা করে ফুচকা, ভেলপুরি, এগরোল, আইসক্রিম খাওয়া-দাওয়া, রাস্তায় দাঁড়িয়ে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা মারা-- এগুলো এখন খুব খুব মিস করি।
তবে আজকাল বোধহয় এগরোল বা ফুচকাতেই মানুষের পুজোর আনন্দ সীমাবদ্ধ নেই। আরও বেশি কিছু চাই। তখন মানুষ ওইটুকুতেই খুশি থাকত। এখন পুজোর ভিড়ও ভীষণ বেড়ে গেছে। আগে তো এত ভিড় থাকত না অনেক আনন্দ করে ঘোরা যেত। সেই জিনিসগুলো মিস করি। আর এখন আমি না সেই ঝুমঝুম আছি, আর না সেই পুজোর পরিবেশ আছে। সবেরই পরিবর্তন হয়ে গেছে।
রচনা ব্যানার্জীর নতুন চমক 'রচনা’স ক্রিয়েশন'। শাড়ির ব্যবসায় এলেন কেন?
হঠাৎ করেই ভাবলাম। সবাই বলছিল আমার নিজের কিছু একটা করা উচিত। 'দিদি নম্বর ওয়ান' তো আছেই। কিন্তু একদম নিজের কিছু যদি তার পাশাপাশি করা যায় তাহলে কেমন হয়। অনেক বন্ধু বলল রেস্টুরেন্ট করতে। কিন্তু আমি দেখলাম তাতে অনেক হ্যাপা আছে।
রেস্টুরেন্ট তো অনেক বড় বড় স্টারই করেছেন। তাহলে রচনা করলেন না কেন?
সেটা ঠিক। কিন্তু সারাক্ষণ সেখানে হয় বসে থাকতে হবে, নয় লোকজন রেখে পরিচালনা করতে হবে। কোনওটাতেই হ্যাপা কম নয়। সব কিন্তু অন্যের ঘাড়ে চাপিয়ে দিয়ে শুরু থেকে করা যায় না। জিনিসের ট্র্যাক রাখা, আটা কত আসছে, ময়দা কত আসছে-- এসবের হিসেব রাখা আমার পক্ষে সম্ভব না। আর করোনায় রেস্টুরেন্ট ব্যবসা মার খাচ্ছে, যা শুনছি। তা ছাড়া রেস্টুরেন্ট করলে সব শ্রেণির মানুষের মধ্যে হয়তো এতটা পৌঁছতাম না। সবকিছু ভেবে ঠিক করলাম এমন কিছু কাজ করি যেটা আমি বাড়িতে বসেই করতে পারব। সেই ভেবেই 'রচনা’স ক্রিয়েশন' শুরু করলাম।
রচনা কি মেয়েবেলা থেকেই শাড়িমনা মেয়ে?
সব নারীই হয়তো তাই। বেশিরভাগ মেয়েই শাড়ি ভালবাসে। ভাবলাম এমন কিছু করি, যা সব মেয়ের মন জয় করতে পারবে। শাড়ি বলেই 'দিদি নম্বর ওয়ান'-এর সঙ্গে সঙ্গে 'রচনা’স ক্রিয়েশন'-ও এই কদিনে মহিলাদের মধ্যে এত জনপ্রিয়।
আপনাকে অনেকে ট্রোল করছে, আপনি নাকি অনেক চড়া দামে শাড়ি বেচছেন, জনপ্রিয়তাকে অস্ত্র করে!
যে কোনও মানুষের যখন নাম হয় তখন তার বদনামও হয়। আর বদনাম শব্দটার মধ্যেও কিন্তু নাম রয়েছে। এদের আমার কিছু বলার নেই। এদের কমেন্টের জবাব আমি ফেসবুক লাইভে এসেও দিই না। এখানেই বলছি প্রথম। যাঁরা নেওয়ার তাঁরা ঠিক 'রচনা’স ক্রিয়েশন'-এর শাড়ি নেবে। যাঁরা শাড়ি কেনেন তাঁরা জানেন কোন শাড়ির কত দাম হওয়া উচিত। যদি খুব বেশি দামী শাড়ি হত, তাহলে মানুষ আমার থেকে শাড়ি নিতেন না। অথচ আমি মানুষকে সাপ্লাই দিয়ে উঠতে পারছি না।
টিভিতে রোজ সাড়ে পাঁচটায় লোকে আপনাকে দেখে, এখন রোজ ফেসবুক লাইভেও দেখছে। এত মানুষের সঙ্গে মেশার ক্ষমতা অনেকের নেই। কী করে পারেন এই ম্যাজিক তৈরি করতে?
লাইভ তো অনেক পরের ব্যাপার। আমি তো এতদিন ধরে মানুষের সঙ্গে মিশেই এলাম। 'দিদি নম্বর ওয়ান' করে আমি বহুদিন মানুষের সঙ্গে মিশে যাই। এটা ক্ষমতা বলব না, এটাই আমি। আর এ কারণেই আজও সবাই আমায় ভালবাসে। মানুষের সঙ্গে রইলাম, কথা বললাম, এইভাবেই তো দিন কাটিয়ে দিলাম। সারা বাংলার ভালোবাসার মানুষ হয়ে উঠতে খুব বেশি সময় লাগেনি আমার।
রচনার আবাসনের পুজো।[/caption]
দর্শক কিন্তু আজও রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ফিল্মে দেখতে চায়। প্রসেনজিৎ-রচনা জুটি চায়। আপনি ফিল্মে কামব্যাক করার কথা কিছু ভেবেছেন?
না, আর আমার ছবি করার ইচ্ছে নেই। কোন ফিল্মই আমি আর করতে চাই না। অভিনয় জগতেই আর ফিরতে চায় না আমার নায়িকা সত্ত্বা। জুটি তো দূরের কথা, আমি আর ছবিতে অভিনয় করতেই চাই না।
কোনও ভাল পরিচালক যদি ভাল ফিল্মের অফার দেন আপনাকে, তাও কি ছবি করবেন না?
কে কবে আসবে, কী ফিল্মের অফার নিয়ে আসবে, তার জন্য এখন থেকে প্ল্যান করে কী করব! আমি জীবনে কখনও কিছু প্ল্যান করে করি না। এখনও করি না। 'রচনা’স ক্রিয়েশন'-এরও কোনও প্ল্যান ছিল না। দু'মাসের মধ্যে প্ল্যান করে নামিয়ে দিয়েছি পুরো প্রজেক্টটা। জীবনে প্ল্যান করে কোনওদিন কিছু করিনি, ফিল্মেও প্ল্যান করে ফিরব না।