পুজো মানেই উৎসব, আলো, হাসি আর একটু অন্য রকম জগতে ঢুকে পড়ার অদ্ভুত টান। আর সেই টানকে আরও গভীর করে তোলে রহস্যের গল্প। এবারের পুজোয় সেই রহস্যের দুনিয়ায় ফিরছে বাঙালির চিরচেনা নায়ক— ফেলুদা।

পুজোতে ‘ফেলুদা’
শেষ আপডেট: 18 August 2025 15:15
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পুজো মানেই উৎসব, আলো, হাসি আর একটু অন্য রকম জগতে ঢুকে পড়ার অদ্ভুত টান। আর সেই টানকে আরও গভীর করে তোলে রহস্যের গল্প। এবারের পুজোয় সেই রহস্যের দুনিয়ায় ফিরছে বাঙালির চিরচেনা নায়ক— ফেলুদা। তবে সিনেমাহলে নয়, তিনি আসছেন একেবারে ওটিটিতে। ছ’বছর আগে তৈরি হলেও নানা কারণে আটকে থাকা সৃজিত মুখোপাধ্যায়ের ‘যত কাণ্ড কাঠমান্ডুতে’ অবশেষে মুক্তি পেতে চলেছে আড্ডা টাইমসে।
পরিচালকের হাত ধরে আবারও ফেলুদার ভূমিকায় দেখা যাবে টোটা রায়চৌধুরীকে। পাশে থাকবে তোপসে কল্পন মিত্র, আর জটায়ুর চরিত্রে অনির্বাণ চক্রবর্তী। গল্পের পটভূমি এবার সীমান্ত পেরিয়ে নেপালের বুকে। কাঠমান্ডুর রহস্যময় পথে দর্শকদের সঙ্গে নিয়ে যাবেন ফেলুদা, খুলে দেবেন জটিল রহস্যের তালা।
অদ্ভুত হলেও সত্যি, ‘যত কাণ্ড কাঠমান্ডুতে’ তৈরি হয়েছিল অনেক আগেই। ২০২০ সালে আড্ডা টাইমসে ‘ফেলুদা ফেরত’ দিয়েই সৃজিতের ফেলুদা-যাত্রা শুরু। এরপর একে একে এল ‘ফেলুদার গোয়েন্দাগিরি’ (২০২২), ‘ভূস্বর্গ ভয়ঙ্কর’ (২০২৪)। কিন্তু এই সিরিজ়, যা তৈরি হয়েছিল ‘ছিন্নমস্তার অভিশাপ’ -এর সময়েই, থেকে গিয়েছিল গোপন খামে। নানা কারণে প্রকাশ হয়নি। এবার সেই অপূর্ণতা পূরণ হবে।
কিছুদিন আগেই সৃজিত জানিয়েছিলেন, আর ফেলুদা বানাবেন না ওটিটির জন্য। তাঁর কথায়, “বড় বাজেটের কাজ করতে গিয়ে প্রযোজককে বিপাকে ফেলতে চাই না।” সেই ঘোষণায় হতাশ হয়েছিলেন অনেকেই। কারণ, মোবাইলের পর্দায় ফেলুদাকে প্রথম প্রাণ দিয়েছিলেন তিনিই। অথচ আজ সেই ঘোষণার ভেতর দিয়েই বেরিয়ে আসছে পুরনো অথচ অদেখা এক চমক। যেন লুকিয়ে রাখা গুপ্তধনের হঠাৎ আবিষ্কার।
এই পুজোয় তাই অন্য রকম এক অনুভূতি। বড় পর্দায় না থাকলেও, সৃজিত রয়েছেন নিজের স্বভাবসিদ্ধ রসিকতায়— “আমি কিন্তু আছি, শুধু অন্য খানে।” শুধু সিরিজ় নয়, শহর জুড়ে বিজ্ঞাপনের মুখ হিসেবেও দেখা যাবে তাঁকে। প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় আর কৌশিক গঙ্গোপাধ্যায়ের সঙ্গে বিজ্ঞাপনী প্রচারে তিনি প্রথমবার অংশ নিচ্ছেন।
শেষমেশ বলা যায়, এবারের পুজোয় ঢাকের আওয়াজ, কাশফুলের গন্ধ আর আলোর উত্সবের সঙ্গে জুড়বে ফেলুদার নতুন রহস্যযাত্রা। ছ’বছর আগের সৃজিতের সেই সৃষ্টিই আজ নতুন আবহে ফিরে আসছে আমাদের কাছে। নেপালের পাহাড়ে যখন ফেলুদা খুঁজবেন রহস্যের উত্তর, তখন পর্দার সামনে বসা প্রতিটি বাঙালিই অনুভব করবেন— ফেলুদা কখনও পুরনো হয় না, তিনি বারবার ফিরে আসেন, ঠিক আমাদেরই মতো পুজোর আনন্দে।