বছরের শুরুতেই যে স্বপ্নের ইশারা দিয়েছিলেন দেব, সেই অপেক্ষার গল্প অবশেষে দৃশ্যমান হল রুপোলি ফ্রেমে। ‘রঘু ডাকাত’-এর পর তাঁর দ্বিতীয় ছবির নাম ‘প্রজাপতি ২’ যখন ঘোষণা হয়েছিল, তখনই বোঝা গিয়েছিল, এই ছবি শুধুই আর-একটি মুক্তি নয়, বরং আবেগের এক নতুন অধ্যায়।

‘প্রজাপতি-২’
শেষ আপডেট: 22 December 2025 15:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বছরের শুরুতেই যে স্বপ্নের ইশারা দিয়েছিলেন দেব, সেই অপেক্ষার গল্প অবশেষে দৃশ্যমান হল রুপোলি ফ্রেমে। ‘রঘু ডাকাত’-এর পর তাঁর দ্বিতীয় ছবির নাম ‘প্রজাপতি ২’ যখন ঘোষণা হয়েছিল, তখনই বোঝা গিয়েছিল, এই ছবি শুধুই আর-একটি মুক্তি নয়, বরং আবেগের এক নতুন অধ্যায়।
অভিনয়ে দেব নিজে, ক্যামেরার পেছনে অভিজিৎ সেন, আর প্রযোজনার দায়িত্বে অতনু রায়চৌধুরী—এই তিনের হাত ধরেই আসছে বড়দিনের ছবি। ক্রিসমাসে মুক্তির কথা আগেই জানা ছিল, কিন্তু এতদিন যে প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছিল—এই ছবির গল্প আসলে কী—তার প্রথম উত্তর মিলল ট্রেলার প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে।
২০২২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘প্রজাপতি’ বাংলা ছবির দর্শককে এক অন্যরকম সম্পর্কের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিল। বাবা আর ছেলের বন্ধন সেখানে ছিল স্নিগ্ধ, সহজ, অথচ ভীষণ গভীর। মিঠুন চক্রবর্তী আর দেবের যুগলবন্দিতে পর্দায় যে উষ্ণতা তৈরি হয়েছিল, তা দর্শকের মনে রয়ে গিয়েছিল বহুদিন। ছবিটি শেষ হওয়ার পর থেকেই একটাই দাবি উঠেছিল—এই দুই তারকাকে আবার একসঙ্গে চাই। সেই চাওয়াকে সম্মান জানিয়েই বড়দিনে আসছে ‘প্রজাপতি ২’। যদিও নামের মিল থাকলেও, এই ছবি কোনওভাবেই আগের গল্পের ধারাবাহিক নয়—এ কথা ট্রেলারেই স্পষ্ট করে দিয়েছেন নির্মাতারা।
নতুন ছবিতে সম্পর্কের অঙ্ক বদলে গিয়েছে। এবার দেবকে দেখা যাবে বাবার ভূমিকায়। একজন ‘সিঙ্গল ফাদার’। লন্ডনে মেয়েকে নিয়ে তাঁর সংসার। রান্নাঘরের ধোঁয়া, সন্তানের যত্ন, আর দূরদেশে থেকেও এ দেশের বাবা-মায়ের খোঁজখবর—সবকিছু মিলিয়ে দেবের চরিত্র যেন দায়িত্ব আর ভালোবাসার এক নিঃশব্দ লড়াই। বিদেশে থেকেও দেশের টান তাঁর শিরায় শিরায়। বাড়িতে থাকা বাবা-মায়ের কষ্টের খবর পেলে এক মুহূর্তও দেরি করেন না—যেভাবেই হোক পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করেন।
এই গল্পেই একদিন লন্ডনে পা রাখেন মিঠুন চক্রবর্তী। ছেলের সঙ্গে দেখা করার ছুতো হলেও, আসল বিষয় ছেলের বিয়ে। কিন্তু সেই আনন্দের মাঝেই শুরু হয় অন্য এক সমান্তরাল আবেগ—দুই বাবার মধ্যে জমে থাকা অভিমান, না বলা কথার সংঘাত, আর প্রজন্মের দূরত্ব। ট্রেলার ইঙ্গিত দেয়, এই ছবি শুধুই বিয়ের গল্প নয়; এটি দুই বয়সের দুই বাবার আত্মসম্মানের, ভালোবাসার এবং নিজেদের জায়গা খুঁজে নেওয়ার কাহিনি।
মিঠুন ও দেব ছাড়াও ছবিতে গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন ইধিকা পাল, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডু, অপরাজিতা আঢ্য, কাঞ্চন মল্লিক, শকুন্তলা বড়ুয়া, খরাজ মুখোপাধ্যায়, অনির্বাণ চক্রবর্তী এবং অনুমেঘা কাহালি। বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য, জ্যোতির্ময়ী কুণ্ডুর জন্য এটাই হতে চলেছে বড়পর্দায় প্রথম পদচারণা। ধারাবাহিকের দুনিয়ায় জনপ্রিয়তা পাওয়ার পর সিনেমার আলোয় তাঁর এই নতুন যাত্রা ছবির প্রতি কৌতূহল আরও বাড়িয়ে দেয়।
ট্রেলার যত এগোয়, ততই স্পষ্ট হয় দেবের চরিত্রের লড়াই—একদিকে সন্তানকে আগলে রাখা, অন্যদিকে বাবার প্রত্যাশা, আর তার মাঝখানে কাজ ও জীবনের চাপ। সব মিলিয়ে তিনি যেন দাঁড়িয়ে পড়েন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। তবে ছবির সবচেয়ে গভীর বার্তাটি আসে একেবারে নিঃশব্দে—বয়স যাই হোক, বাবা হওয়া মানে একটাই সত্য। সন্তানের সুখই শেষ কথা। দুই প্রজন্মের দুই মানুষ, দুই রকম সময়ের প্রতিনিধি হয়েও তাঁদের চাওয়ায় কোনও ফারাক নেই—নিজের সন্তান যেন থাকে নিরাপদে, ভালোবাসায়, ‘দুধে-ভাতে’।
এই ভাবনাতেই ‘প্রজাপতি ২’ যেন এক মৃদু অথচ দৃঢ় ঘোষণা হয়ে ওঠে। পরিচালক অভিজিৎ সেন ট্রেলারের মধ্য দিয়েই বুঝিয়ে দেন—পিতৃত্ব কোনও বয়স মানে না, কোনও ভূগোল মানে না। সে কেবল ভালোবাসার ভাষা জানে। আর সেই ভাষাই বড়দিনে আবার একবার দর্শকের হৃদয়ে ডানা মেলতে প্রস্তুত।