হোটেলে দাঁড়িয়েই বিবেক প্রশ্ন তোলেন পুলিশ ও রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে। তিনি বলেন, "সত্যজিৎ রায়ের শহরে পরিচালকের কণ্ঠস্বর রোধ করা হচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে রাজনৈতিক চাপে এই আচরণ করা হচ্ছে।"

সত্যজিৎ রায় ও বিবেক অগ্নিহোত্রী
শেষ আপডেট: 16 August 2025 18:12
দ্য ওয়াল ব্যুরো: শুক্রবার ট্রেলার লঞ্চের অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল কলকাতার একটি সিনেমা হলে। রাজনৈতিক চাপের কথা উল্লেখ করে শনিবার কলকাতার একটি পাঁচতারা হোটেলে ঠিক হয় দ্য বেঙ্গল ফাইলস-এর (The Bengal Files) ট্রেলার লঞ্চ হবে। কিন্তু পরিচালক বিবেক অগ্নিহোত্রীর (Vivek Agnihotri) অভিযোগ, ট্রেলার চলাকালীনই তার ছিঁড়ে দিয়ে তা বন্ধ করে দেয় হোটেল কর্তৃপক্ষ। যদিও হোটেল জানাচ্ছে, একেবারেই ভিত্তিহীন কথা। তারা শুধু কথা বলতেই গিয়েছিল ছবির টিমের সঙ্গে। অভিযোগ-পাল্টা অভিযোগ, দু-পক্ষের বিস্তর তর্কাতর্কির পর এবার কলকাতা পুলিশ হোটেলে ঢুকে সরিয়ে নিয়ে গেল বিবেক অগ্নিহোত্রী-সহ দ্য বেঙ্গল ফাইলস-এর গোটা টিমকে।
এদিন সকাল থেকেই হোটেল চত্বর পুলিশে পুলিশে ছয়লাপ ছিল। অনেকেই বলাবলি করছিল, কিছু একটা ঝামেলা হতে পারে আঁচ করতে পেরেই নাকি নিরাপত্তা আঁটসাঁট করেছে রাজ্য প্রশাসন। বিবেকের অভিযোগ, রাজনৈতিকভাবে এমন আচরণ করা হচ্ছে। পরিচালক আরও বলেছেন, এদিন স্টেজে যখন ট্রেলার চলছিল, তখনই হঠাৎ তার ছিঁড়ে দেওয়া হয়। ট্রেলার চলতে চলতেই তা বন্ধ করে দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ তোলেন তিনি। যদিও হোটেল কর্তৃপক্ষের দাবি, এমন কিছুই করা হয়নি, কেবল কথা বলতে গিয়েছিল তারা। কলকাতা কর্পোরেশনের অনুমতি নেই বলেও জানিয়েছে এই পাঁচতারা হোটেল।
হোটেলে দাঁড়িয়েই বিবেক প্রশ্ন তোলেন পুলিশ ও রাজ্য সরকারের ভূমিকা নিয়ে। তিনি বলেন, "সত্যজিৎ রায়ের শহরে পরিচালকের কণ্ঠস্বর রোধ করা হচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে রাজনৈতিক চাপে এই আচরণ করা হচ্ছে।"
বস্তুত, বিবেক অগ্নিহোত্রী এর আগেও যখন ছবির ট্রেলার লঞ্চ অনুষ্ঠান বাতিল হয়, তখন পশ্চিমবঙ্গ সরকারের তীব্র সমালোচনা করেছিলেন। শুক্রবার এক্স হ্যান্ডেলে এ নিয়ে বিবেক একটি ভিডিও শেয়ার করে ট্রেলার লঞ্চ বাতিলের খবর দেন। তিনি জানান, কলকাতায় নির্ধারিত অনুষ্ঠানের আগের দিন একটি প্রথম সারির সিনেমা হল চেন এই অনুষ্ঠান বাতিল করেছে।
তিনি বলেন, 'চিঠিপত্রে সব অনুমতি আমাদের কাছে ছিল। তাই আমাদের পুরো টিম কলকাতায় এসেছিল, কিন্তু এখন আমাদের জানানো হয়েছে যে ইভেন্টটি বাতিল করা হয়েছে। বিবেক আরও বলেন, থিয়েটার চেইনটির অনুষ্ঠান বাতিলের পিছনে কারণ হিসাবে ‘রাজনৈতিক চাপ’ রয়েছে। তারা কোনও ‘রাজনৈতিক অশান্তি’ চান না।