
শেষ আপডেট: 10 January 2024 17:19
পার্নো মিত্র, টালিগঞ্জে যে অভিনেত্রীর আবির্ভাব হয়েছিল প্রয়াত পরিচালক রবি ওঝার হাত ধরে। এক বিধবা যুবতীর চরিত্রে অভিনয় করেই পর্দায় পার্নোর অভিষেক। সাদা থান পরে এসেছিল শ্যামলা মেয়েটি। এরপর রবি ওঝার 'মোহনা' সিরিয়ালে পার্নো নায়িকা। ২০০৭ থেকে ২০১০। তরুণ অভিনেত্রী টেলিভিশন থেকে সুযোগ পেলেন বড়পর্দায়, অঞ্জন দত্তর 'রঞ্জনা আমি আর আসব না' ছবিতে। অঞ্জনের বিখ্যাত গানের মাধ্যমে যে রঞ্জনার সঙ্গে পরিচয় ঘটেছিল বাংলার পুরুষকুলের, এই রঞ্জনা তার থেকে একেবারেই আলাদা। রঞ্জনা বদলাল, সঙ্গে পার্নোও। অঞ্জনের সেই ছবি এক উগ্র-আধুনিকা পার্নোর সঙ্গে পরিয়চয় ঘটাল সিনেপ্রেমীদের। লুক থেকে স্টাইল, সবেতেই বদল আনলেন অভিনেত্রী। বাঁক বদল হল কেরিয়ারেও। সন্দীপন রায়ের 'একলা আকাশ' থেকে পার্নোর উত্তরণ ঘটল মৈনাক ভৌমিকের বেডরুম ছবিতে।
পার্নো মিত্র একসময় শিরোনামে থাকা নায়িকা হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তিনি ভাল ছবিতে ডাক কম পাচ্ছেন। গত মাসে কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হয়েছে পার্নোর দুটি ছবি- ‘বনবিবি’ এবং ‘সুজি কিউ’। চন্দন রায় সন্যাল পরিচালিত ‘সুজি কিউ’ পার্নোর কেরিয়ারের প্রথম হিন্দি ছবি। তবে এখনও পর্যন্ত প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি ছবি দুটি।
তবে এখন পার্নো শ্রীলঙ্কায়। ছুটির মেজাজে রয়েছেন অভিনেত্রী। শ্রীলঙ্কার নির্জন সমুদ্র সৈকতে সময় কাটাচ্ছেন। রোজ সমুদ্রতটে সাহসী পোশাকে, সাহসী অবতারে ধরা দিচ্ছেন পার্নো। বিকিনি পরে সমুদ্র সৈকতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অভিনেত্রী। আর সেসব ছবি তিনি আপলোড করছেন নিজের সামাজিক মাধ্যমে। পার্নোর বিভাজিকার আভাসে উত্তাল হয়ে উঠেছে নেটপাড়া। কখনও সমুদ্রের নোনা জলে স্নাত হচ্ছেন নায়িকা, কখনও আবার সৈকতের ধারে রোদ পোহাচ্ছেন।
পার্নোর বিকিনি লুকের প্রশংসা করেছেন শুভশ্রী। শুভশ্রী গাঙ্গুলি লেখেন, ‘হট’, জুড়ে দেন আগুনের ইমোজি। শোনা যাচ্ছে, আজ ১০ জানুয়ারি কলকাতা ফিরবেন পার্নো, তারপর ফের কাজে মন দেবেন। এই বছরটা আরও বেশি করে নিজের সঙ্গে সময় কাটাতে চান নায়িকা। ঘুরে দেখতে চান পৃথিবীর নানা প্রান্ত।
শ্রীলঙ্কার নীল সমুদ্রের ধারে হলুদ বিকিনি পরিহিতা পার্নোর সাহসী অবতার মনে করাচ্ছে আটের দশকের বোল্ড মুনমুন সেনকে। দুজনের গায়ের রঙে বিস্তর তফাত। মুনমুন যেখানে দুধ সাদা ফর্সা, পার্নো সেখানে কৃষ্ণকলি। কিন্তু পার্নোর নগ্ন উরু, গভীর বিভাজিকা থেকে হাঁটার স্টাইল দেখে নেটপাড়া বলছে তাঁরা যেন অতীতের মুনমুন সেনকে দেখছেন। আটের দশকে কলকাতা থেকে বোম্বের রাস্তায় হোর্ডিং জুড়ে থাকত মুনমুনের খোলামেলা মডেলিং-এর ফটোশ্যুট। কখনও মার্গো, কখনও লিরিল থেকে লাক্স। সাবানের বিজ্ঞাপনে মুনমুন ছিলেন প্রথমা কিন্নরী। সিনেপত্রিকার পাতাতেও বিকিনি পরিহিতা নগ্নিকা মুনমুনের ছবি ছিল হটকেক।
তবে আরও একজনের সঙ্গে তাঁর মিল পাওয়া যাচ্ছে। নবাব পতৌদি ঘরনী শর্মিলা ঠাকুর। ঠাকুরবাড়ির মেয়ে হয়ে যিনি বিকিনি পরায় পথিকৃৎ ছিলেন। মুনমুন পেরিয়ে এখনকার পার্নো যেন শর্মিলার দেখানো পথে অগ্রসর হচ্ছেন।
তবে কেন এত শরীরী প্রদর্শন? এর মধ্যে কি গভীর কোনও কারণ রয়েছে? নেটিজেনদের অনেকেরই বক্তব্য, ফের লাইমলাইটে ফিরতেই বোল্ড লুকে নিজেকে মেলে ধরেছেন পার্নো। হয়তো তা খানিক সফলও হয়েছে। নিভৃতবাস থেকে ফের আলোচনায় ফিরে এসেছেন তিনি। যুগ বদলেছে। মালা সিনহা থেকে সুচিত্রা সেনকে সাতের দশকে রক্ষণশীলতার বেড়াজাল ভেঙে বিকিনি পরে ফটোশ্যুট করে যতখানি সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল, আজকাল তা হয় না।
বরং শুধু বলিউড বা টলিউডের প্রথম সারির নায়িকারাই নন, ছোটপর্দার নায়িকারাও এ ব্যাপারে আজকাল বেশ সাহসী। তবে বিভাজিকার বিভঙ্গে আর শরীরী আবেদনে তাঁদের অনেককেই মাত দিয়েছেন পার্নো। তবে সবচেয়ে বেশি নজর কেড়েছে তাঁর আত্মবিশ্বাস। উন্মুক্ত উরুর সেলুলাইট, কিংবা ঈষৎ মেদবহুল চেহারা, ইংরেজিতে যাকে 'চাবি' (Chubby) বলেই জানেন মানুষজন, সেসব কিছুরই তোয়াক্কা না করে মেকআপহীন লুকেই ক্যামেরায় ধরা দিয়েছেন অভিনেত্রী। তাঁর সেই কনফিডেন্স এবং লাস্য প্রতি মুহূর্তে মনে করাচ্ছে অতীতের সেই বিকিনি পরিহিত মুনমুনের কথা।
বিকিনি পরিহিতা পার্নোর উন্মুক্ত শরীর দেখে রীতিমতো পাগল দর্শকরা। কিন্তু প্রথম সারির পরিচালকদের নজরে পার্নো আবার কবে পড়বেন? পার্নোকে আবার কবে বড় প্রযোজনা সংস্থা লগ্নি করবে সেই নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়!