টেলিভিশনের জগৎ ঠিক যেন এক আবেগঘন মঞ্চ— যেখানে প্রতিটি চরিত্রের হাসি-কান্নার সঙ্গেই মিশে যায় দর্শকের মন। কখনও উচ্ছ্বাস, কখনও হতাশা।

বাংলা সিরিয়াল।
শেষ আপডেট: 16 October 2025 14:07
দ্য ওয়াল ব্যুরো: টেলিভিশনের জগৎ ঠিক যেন এক আবেগঘন মঞ্চ— যেখানে প্রতিটি চরিত্রের হাসি-কান্নার সঙ্গেই মিশে যায় দর্শকের মন। কখনও উচ্ছ্বাস, কখনও হতাশা। আর সেই উত্থান-পতনের প্রতিচ্ছবি মেলে টিআরপি-র রিপোর্ট কার্ডে। গত সপ্তাহে ধাক্কা খেল ‘পরশুরাম’, তা যেন এক নাটকীয় মোড়, যেভাবে গল্পে হঠাৎ বদলে যায় ভাগ্য। টানা কয়েক সপ্তাহ বেঙ্গল টপারের জায়গায় থাকা এই ধারাবাহিকটি এবার সরে যেতে বাধ্য হয়েছে।
কারণ? ফের একবার ঘুরে দাঁড়িয়েছে ‘পরিণীতা’। গল্পে নতুন উত্তেজনা, চরিত্রে গভীর আবেগ, আর দর্শকের সঙ্গে অদ্ভুত এক সংযোগ— এই তিনেই যেন বাজিমাত করেছে পরিণীতা। ৬.৯ রেটিং পেয়ে ফের উঠে এসেছে সিংহাসনে। দ্বিতীয় স্থানে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’, জিতু কমল ও দিতিপ্রিয়া রায়ের রোম্যান্টিক রসায়নে ভেসে যাচ্ছে দর্শক হৃদয়। রেটিং ৬.৬। তৃতীয় স্থানে ‘ফুলকি’, যার রেটিং ৬.৫— টানটান নাটকীয়তায় এখনো সে জমে আছে জমাটভাবে।
অন্যদিকে, এক সময়ের নিরঙ্কুশ টপার ‘পরশুরাম’ এবার ৬.৩ রেটিং নিয়ে নামল চতুর্থ স্থানে। তবে একা নয়, পাশে ‘জগদ্ধাত্রী’ও একই রেটিং নিয়ে ভাগ করছে সেই স্থান। দর্শকের আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে এখন ‘ও মোর দরদিয়া’-র সঙ্গে টানাটানি করে স্লটটাও নিজেদের করে নিয়েছে তারা। ষষ্ঠ স্থানে রয়েছে ‘আমাদের দাদামণি’, প্রাপ্ত রেটিং ৬.০। সপ্তম স্থানে যুগ্মভাবে ‘ও মোর দরদিয়া’ ও ‘রাজরাজেশ্বরী রানী ভবানী’— রেটিং ৫.৮।
এদিকে টিআরপি তালিকার পঞ্চম স্থান দখল করেছে ‘রাঙামতি তীরন্দাজ’ (৬.১)। কিন্তু সব থেকে আলোচনায় যে দুটি নাম, তারা হল ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’ ও ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’। জিতু-দিতিপ্রিয়ার ধারাবাহিকে রোম্যান্সের পাশাপাশি গল্পে আর্য সিংহ রায়ের পরিচয়-রহস্য এখন অন্যতম টান। বিপরীতে ‘লক্ষ্মী ঝাঁপি’ ৫.১ রেটিং পেয়ে নবম স্থানে।
তবে সবচেয়ে চাপে পড়েছে ‘চিরসখা’। নতুন কাকু অর্থাৎ স্বতন্ত্রর বিয়ের ট্র্যাক দর্শকের মন জয় করতে পারেনি। অনলাইনেও চলছে তীব্র বিরোধিতা। অনেকের অভিযোগ, গল্পে নেই গতি, নেই নতুনত্ব। ফলত রেটিংয়েও ধাক্কা— মাত্র ৪.৯, অর্থাৎ দশম স্থান। অষ্টম স্থানে রয়েছে ‘জোয়ার ভাঁটা’, রেটিং ৫.৭— ধারাবাহিকের ওঠানামা যেন নামের সঙ্গেই মেলে যায়।
দেখে নিন টিআরপি-র সেরা দশ—
প্রথম: পরিণীতা (৬.৯)
দ্বিতীয়: চিরদিনই তুমি যে আমার (৬.৬)
তৃতীয়: ফুলকি (৬.৫)
চতুর্থ: জগদ্ধাত্রী, পরশুরাম (৬.৩)
পঞ্চম: রাঙামতি তীরন্দাজ (৬.১)
ষষ্ঠ: আমাদের দাদামণি (৬.০)
সপ্তম: ও মোর দরদিয়া / রাজরাজেশ্বরী রানী ভবানী (৫.৮)
অষ্টম: জোয়ার ভাঁটা (৫.৭)
নবম: লক্ষ্মী ঝাঁপি (৫.১)
দশম: চিরসখা (৪.৯)
অন্যদিকে, দর্শকপ্রিয়তার পরীক্ষায় এবার মুখ থুবড়ে পড়েছে মধুমিতা সরকার ও নীল ভট্টাচার্যের ‘ভোলে বাবা’। সাড়ে পাঁচটার স্লটে এই ধারাবাহিক এখনো জমে উঠতে পারেনি, রেটিং মাত্র ২.৭। তুলনায় জি বাংলার ‘কুসুম’ পেয়েছে ৪.১ রেটিং। আর ‘কম্পাস’-এর অবস্থা আরও চিন্তার— মাত্র ৪.২ রেটিং, সেই স্লটও হারিয়েছে ‘চিরদিনই তুমি যে আমার’-এর কাছে, যার রেটিং ৬.৬।
টিআরপি-র এই ওঠানামার ভেতরেই লুকিয়ে থাকে দর্শকের ভালোবাসা, অভিমান, আর প্রত্যাশা। কেউ এক সপ্তাহে শীর্ষে উঠে আসে, আবার কেউ হারায় নিজের জায়গা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত জয় হয় গল্পের, চরিত্রের, আর সেই নিঃশব্দ ভালোবাসার— যা প্রতি সন্ধ্যায় টেলিভিশনের পর্দায় আলো জ্বেলে রাখে এক টুকরো উষ্ণতা।