
টলিউড অভিনেত্রীরা আর ওজেম্পিক
শেষ আপডেট: 19 March 2025 16:50
রোগা হওয়ার সহজ উপায়। ঠিক এই নামেই হয় একটি ছবি। পরিচালক দেবালয় ভট্টাচার্য। অভিনয়ে পরম, রাইমা, রিয়া। সে ছবি দেখিয়েছিল, কী কী ভাবে একেবারে স্লিমট্রিম হয়ে একেবারে বম্বশেল হতে হয়। তবে তা করতে গিয়ে কী কী সমস্যর মুখে পড়তে হয়, রাইমাকে তাও দেখিয়েছিল ‘রোগা হওয়ার সহজ উপায়’।
সময় বদলেছে। রোগা হওয়ার সহজ উপায় বের করেছেন তাবড় তাবড় বলি ছবির হিরো-হিরোইন পরিচালক। নাম উঠে এসেছে, করণ জোহর, রাম কাপুর থেকে, বাদশাহরও। শোনা যাচ্ছে, যে ‘উপায়’-এর দিকে দৌড়চ্ছেন তাঁরা, তা হল একটি ওষুধ। ওজেম্পিক (ozempic side effects)। এর সক্রিয় উপাদান সেমাগ্লুটাইড টাইপ-টু ডায়াবিটিসে আক্রান্ত ব্যক্তিদের রক্তে চিনির পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। সাপ্তাহিক ইনজেকশনে খাওয়ার তাগিদ কমিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। ফলে ডায়াবেটিসহীন এমন অনেক মানুষও ওজন কমাতে ওষুধটি ব্যবহার করছেন।
সূত্রের খবর, অভিনেত্রী হুমা কুরেশীও ওজেম্পিক ব্যবহার করেন। তবে, এতে ফল যে খুব ভাল হয়েছে তা নয়। এক ওয়েব সিরিজের শুটিং চলাকালীন ডোজ নেন অভিনেত্রী এবং এরপর ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়েন অভিনেত্রী। তারপর তাঁকে আমেরিকায় স্থানান্তরিত করা হয়। প্রায় তিন মাস চলে তাঁর চিকিৎসা! এখন অনেকটাই সুস্থ হুমা।
অন্যদিকে, নকল ওজেম্পিকেও বাজার কাপাচ্ছে রমরমিয়ে। স্বাস্থ্যের জন্য বিপদ ডেকে আনতে পারে নকল ওষুধ তা জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাও। বিশ্বজুড়ে আজ বিপুল চাহিদা ওজেম্পিকের। আর ওষুধটির প্রকৃত গ্রাহক অর্থাৎ টাইপ-টু ডায়াবেটিসের রোগীরাই পড়ছে সংকটে।
ওজেম্পিকের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সাংঘাতিক (ozempic side effects)। হতে পারে থাইরয়েড টিউমার কিংবা থাইরয়েড ক্যানসার। কিডনির ক্ষতি করে দেয় এই ধরণের ওষুধ। সেই সঙ্গে পেটে অসহনীয় ব্যথা, ডায়রিয়া, আচমকাই ব্লাড সুগার কমে যাওয়ার মতো বিপত্তি। এমনকী, গলব্লাডার, অ্যালার্জিও হতে পারে। এত কিছুর পরও ওষুধের নতুন নামকরণও করেছে কেউ কেউ, ওজেম্পিক হয়েছে ‘ওজন পিক’। যা শরীর থেকে একেবারে বাড়তি ওজন তুলে নেয়।
বলি সেলেবদের প্রভাবে প্রতিপত্তি বিস্তার করা ওজেম্পিকের দাপট কি ছড়িয়েছে টলিউডেও?
‘দ্য ওয়াল’ এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয় বাংলা ছবি এবং সিরিয়ালের অন্যতম অভিনেত্রী সঙ্ঘশ্রী সিনহার (Sanghasri Sinha) সঙ্গে, তিনি বললেন, ‘আমার বাঙালিরা একটু ভিতু। হলিউডে বা বলিউডে ওজেম্পিকের প্রভাব থাকলেও, টলিউডে নেই। অন্তত আমি জানি না। ওজেম্পিক আদতে ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিন ইনফ্ল্যামেশন কম করে। খাওয়াদাওয়ার ইচ্ছে কমিয়ে দেয়। কিন্তু রোগা হওয়ার জন্য আরও অনেক রকমের ডায়েট রয়েছে। আমার মনে হয়, সৌন্দর্য সচেতনতার থেকে স্বাস্থ্য সচেনতা জরুরি।’ অন্যদিকে বাংলার তুমুল জনপ্রিয় অভিনেতা অপরাজিতা আঢ্য (Aparajita Adhya, Aparajita auddy)ওষুধেরে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার তালিকা শুনেই বললেন, ‘ওরে বাপ রে! আমি অ্যান্টিবায়োটিক পর্যন্ত নিই না, এমন ওষুধ নেব কেন? যেখানে এত সমস্ত ধরণের সাইড এফেক্টস আছে!’
ইনস্টাতে তাঁর প্রায় ২ মিলিয়ন ফলোয়ার। তাঁর মতো হতে চান কত শত মহিলারা, কিংবা উঠতি অভিনেত্রীরাও। তবে মধুমিতা সরকারের (Madhumita Sarkar) মতে, ওজেম্পিকের মতো ওষুধ সৌন্দর্য্যর খেয়াল রাখতে পারলেও, স্বাস্থ্যর নয়। বললেন, ‘সহজ উপায় ওজেম্পিক একেবারেই নয়। ডায়েট করুন, খাওয়াদাওয়া কিংবা লাইফস্টাইল নিয়ন্ত্রণ করুন। কিন্তু ওজন কমানো কারওর জীবনে মূল লক্ষ্য হতে পারে না। ওজন কমান সুস্থ্য থাকর জন্য। তবে সৌন্দর্য্যের জন্য নয়।’ মধুমিতার কাছে এও প্রশ্ন, বলিউড তারকাদের ফ্যাশন কিংবা স্টাইল স্টেটমেন্ট একাধিকবার অনুসরণ কিংবা অনুকরণ করেছে, টলিউড অভিনেতা-অভিনেত্রীরা, সেক্ষেত্রে কী মনে হয় ওজেম্পিকের প্রভাব কী হতে পারে টলিপাড়ায়? ‘ইন্সপিরেশন তো থাকবেই, কিন্তু আমাদের নিজেদের বিচার করতে হবে, ঠিক কোনটা আমাদের পক্ষে সুখকর আর কোনটা ক্ষতিকর। কোনটা অর্জন করব আর কোনটা বর্জন তা আমাদের ঠিক করতে হবে।’