একুশে ফেব্রুয়ারি—এই দিনটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির আত্মার ভেতরে লেখা এক অমোচনীয় স্মৃতি।

শেষ আপডেট: 21 February 2026 17:55
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একুশে ফেব্রুয়ারি—এই দিনটি কেবল ক্যালেন্ডারের একটি তারিখ নয়, এটি বাঙালির আত্মার ভেতরে লেখা এক অমোচনীয় স্মৃতি। ভাষার জন্য লড়াই, ভাষার জন্য ভালোবাসা, ভাষার জন্য আত্মত্যাগ—সবকিছুরই প্রতীক এই দিন। আর সেই আবেগময় দিনেই, আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের পবিত্র প্রেক্ষাপটে, রাজ্য সরকার যেন শ্রদ্ধার প্রদীপ জ্বালিয়ে সম্মান জানালেন বাংলার শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতির অগ্রদূতদের। শনিবার দুপুরে প্রকাশ্যে এল সেই বহুল প্রতীক্ষিত তালিকা—যেখানে ‘বঙ্গবিভূষণ’ এবং ‘বঙ্গভূষণ’ মিলিয়ে মোট ২৫ জন বিশিষ্ট মানুষ ও প্রতিষ্ঠানকে তুলে ধরা হল বিশেষ সম্মানের আলোয়।
এই সম্মান যেন কেবল পুরস্কার নয়, বরং বাংলা ভাষার ভেতরে গড়ে ওঠা সৃষ্টির ইতিহাসকে স্যালুট জানানোর এক গভীর মুহূর্ত। এ বছরের ‘বঙ্গবিভূষণ’ সম্মানে ভূষিত হয়েছেন সঙ্গীতজগতের পাঁচ উজ্জ্বল নক্ষত্র—শিবাজী চট্টোপাধ্যায়, নচিকেতা চক্রবর্তী, লোপামুদ্রা মিত্র, বাবুল সুপ্রিয় এবং ইমন চক্রবর্তী। তাঁদের কণ্ঠে বহু বছর ধরে বেঁচে আছে প্রেম, প্রতিবাদ, বেদনা ও জীবনের অনন্ত গল্প। সেই তালিকায় আরও এক গুরুত্বপূর্ণ নাম—শব্দের জাদুকর, কবি শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর কলম বহুবার বাংলার অনুভূতিকে নতুন ভাষা দিয়েছে, নতুন আলোয় দেখিয়েছে চেনা পৃথিবীকে। (Banga Bibhushan award 2026, Banga Bhushan award 2026, West Bengal awards list, International Mother Language Day West Bengal, West Bengal cultural awards, Nachiketa Chakraborty award, Lopamudra Mitra award, Iman Chakraborty award, Babul Supriyo award, Srijato Bandyopadhyay award, Parambrata Chatterjee)
অন্যদিকে ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানেও উঠে এসেছে বাংলার সুরের আরেক বিস্তৃত পরিসর। এই সম্মান পেয়েছেন মনোময় ভট্টাচার্য, রাঘব চট্টোপাধ্যায়, রূপঙ্কর বাগচী, কার্তিক দাস বাউল এবং অদিতি মুন্সী—যাঁদের কণ্ঠে বাংলার মাটি, নদী আর মানুষের গল্প প্রতিনিয়ত নতুন করে জন্ম নেয়। তাঁদের গান কখনও শহরের নিঃসঙ্গ রাতের সঙ্গী, কখনও আবার গ্রামবাংলার আকাশের মতো বিস্তৃত।
শুধু মানুষই নন, বাংলা সংস্কৃতির বার্তা ঘরে ঘরে পৌঁছে দেওয়া দুই জনপ্রিয় টেলিভিশন মাধ্যম—স্টারজলসা এবং জি-বাংলা—কেও এই বছর ‘বঙ্গভূষণ’ সম্মানে সম্মানিত করা হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে তাঁদের পর্দায় ধরা পড়েছে বাঙালির হাসি, কান্না, সম্পর্ক আর স্বপ্নের প্রতিচ্ছবি। এই সম্মান যেন সেই দীর্ঘ যাত্রাপথেরই এক স্বীকৃতি।
একুশের এই দিনে ঘোষিত এই সম্মান যেন আবারও মনে করিয়ে দেয়—বাংলা ভাষা কেবল উচ্চারণের বিষয় নয়, এটি অনুভূতির বাসস্থান। যারা সুরে, শব্দে, কিংবা পর্দার আলোয় এই ভাষাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন, তাঁদের প্রতি এই সম্মান এক গভীর কৃতজ্ঞতার প্রকাশ। সময় বদলায়, মানুষ বদলায়, কিন্তু ভাষার ভিতরে জন্ম নেওয়া সৃষ্টি চিরকাল থেকে যায়। আর সেই চিরন্তনতার পথেই, বঙ্গবিভূষণ ও বঙ্গভূষণের এই সম্মাননা হয়ে রইল বাংলার হৃদয়ের এক উজ্জ্বল আলোকস্তম্ভ।