
শেষ আপডেট: 22 July 2022 14:30
নগ্নতা কী পাপ? নাকি অশ্লীলতা? অথচ যক্ষমূর্তি থেকে খাজুরাহোর মূর্তি সবই নগ্ন।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া উত্তাল বলিউড নায়ক রণবীর সিংয়ের (Ranveer Singh) নগ্ন ফটোশ্যুটকে কেন্দ্র করে। রণবীর মিথ ভেঙেছেন বারবার। এবার তিনি সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে ধরা দিলেন ক্যামেরার সামনে। গায়ে এককণা সুতোও রাখেননি। ‘পেপার’ ম্যাগাজিনের কভারে জ্বলজ্বল করছে তাঁর শরীর। নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সেই নগ্ন ছবি নিয়ে গোল টেবিল বৈঠক বসিয়ে ফেলেছেন সর্বত্র। অনেকেই রণবীরের সাহসিকতাকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। কেউ আবার বলছেন নগ্ন হওয়া মানেই কী আদৌ সাহসের পরিচয়!

নগ্ন ফোটোশ্যুট করে বিতর্কে রণবীর! এই প্রথম নয়, সাহসের সীমা বারবারই পেরিয়েছেন নায়ক
রণবীর যে ঝুঁকি নেন, তাঁর ইমেজ বারবার ভাঙার সাহস রাখেন সে তো কুর্নিশযোগ্য বটেই। তবে রণবীরই প্রথম বলি অভিনেতা নন, যিনি নগ্ন ফটোশ্যুট করলেন। রণবীরের আগেও বহু অভিনেতা নগ্ন ছবি তুলেছেন নামীদামি পত্রিকার জন্য এবং সেসব ছবি রীতিমতো চর্চিত তাঁদের সময়ে। রণবীর সিং তাঁদের অনুগামী মাত্র।
যখন বলিউডে বিকিনি বা সুইমিং কস্টিউম পরে ঝড় তুলতে শুরু করেছেন নায়িকারা, তখন দু'একজন অভিনেতাও নগ্ন মডেলিং করে সাড়া ফেলে দেন।
সম্পূর্ণ নগ্ন ফোটোশ্যুটের প্রথম সাহস দেখান বম্বের যে অভিনেতা, তিনি রনজিৎ। ভিলেন চরিত্রেই তিনি জনপ্রিয় ছিলেন। অথচ তাঁর পুরুষালি চেহারা হার মানাত সমসাময়িক হিন্দি ছবির হিরোদের। সেই সাতের দশকে নগ্ন ফটোশ্যুট করেই চারিদিকে হইচই ফেলে দিলেন তিনি। রণজিতের নগ্ন ছবি তোলা হয়েছিল 'স্টারডাস্ট' ম্যাগাজিনে। একটি সুতো ছিল না তাঁর শরীরে। শুধু গলায় একটি লকেট। এ ছবিও ঝড় তুলেছিল সারা দেশে।

সেই নয়ের দশক থেকে সারা দেশের লক্ষ লক্ষ মেয়ের ক্রাশ মিলিন্দ সোমন। শুধু নয়ের দশকই কেন, মিলিন্দ ম্যাজিকে এখনও মন মজে জেন ওয়াইয়ের। গলায় পাইথন জড়িয়ে একে অপরকে আলিঙ্গন করছেন মিলিন্দ আর মধু। নয়ের দশকে মোনোক্রোমাটিক সে ছবির কথা কি কেউ ভাবতে পারত মিলিন্দ ছাড়া! ক্যামেরার সামনে এমন সাহসী লুকে পোজ দেওয়ার জন্য কত না বিতর্ক তৈরি হয়েছিল। তার পরে আরও একবার গোয়ার সমুদ্র সৈকতে নগ্ন হয়ে দৌড়ানো মিলিন্দ সোমনের ছবি নিয়ে তুমুল বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল। মডেল-অভিনেতার বিরুদ্ধে দায়ের হয়েছিল এফআইআরও। গোয়ার সংস্কৃতি নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছিল মিলিন্দের বিরুদ্ধে। ৫০ পেরোনো অভিনেতার সাফ জবাব ছিল, 'নগ্ন হওয়াটা যে অন্যায় সেটা জানা ছিল না। ভগবান তো আমাদের নগ্ন করেই পাঠিয়েছেন।'

এরপর আরও এক ভিলেন নগ্ন ফটোশ্যুট করলেন। তিনি ড্যানি ডেনজংপা। ড্যানির পরনে ছিল শুধুমাত্র কালো কৌপীন। নগ্ন ড্যানির ছবির পাশে লেখা, 'কঠোর ভাবে নারীদের জন্য'। ড্যানি কিন্তু বাংলা ছবিতেও নগ্ন শ্যুট করেছিলেন। 'লাল কুঠি' বাংলা ছবিতে ড্যানি বাথরুম থেকে স্নান সেরে নগ্নাবস্থায় শুতে যাচ্ছেন বিছানায়, এমন একটি দৃশ্য ছিল এক মুহূর্তের। আর সেই ছবি তো গানে, অ্যাকশনে সুপারডুপার হিট ছিল।

স্পর্শের অনিরুদ্ধ, খণ্ডহরের সুভাষ, মাসুমের ডিকে, ত্রিকালের রুইজ, ইজাজতের মহেন্দ্র-- তাঁর অভিনীত প্রতিটি চরিত্র আইকনিক। বলিউডের শীর্ষস্থানীয় অভিনেতা হয়েও তিনি প্রমাণ করেছেন শরীর এক মন্দির। নাসিরুদ্দিন শুধু অন্তর্বাস পরে গাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে ঝড় তুলেছিলেন সেই কবেই।

বলিউডে আশির নব্বই দশকের ভিলেন তিনি। একবার তাঁর হাতে এসে পড়ে স্টারডাস্ট ম্যাগাজিন। আর তাতে সেই রণজিতের খোলামেলা ফটোশ্যুট দেখে শক্তি কাপুর নিজের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তোলেন। আধশোয়া অবস্থায় নগ্ন ফটোশ্যুট করে ঝড় তোলেন শক্তি কাপুর। এ কাজে তাঁর গুরু রণজিৎই। শক্তির নগ্ন ছবি বেশি ভাইরাল ও জনপ্রিয় হয়।

পুরুষালি চেহারার নায়ক হয়ে এসছিলেন জ্যাকি। কিন্তু বলিউডে তাঁকেও লড়াই করে নিজের জায়গা তৈরি করতে হয়। এই স্ট্রাগলিং পিরিয়ডে জ্যাকি সুইমিংপুলের জলে শুয়ে ছবি তুলে দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলেন। সুইমিং স্যুট তো পুরুষদের ছিল না, তাই শুধু অন্তর্বাসেই স্নাত জ্যাকির পৌরুষ পাগল করে সবাইকে।

অনিল কাপুর নিজের অত্যধিক রোমশ চেহারাকেও নিজের ইউএসপি বানিয়ে তুলেছিলেন। এ জন্য তাঁকে বহু ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের শিকার হতে হয়েছে। 'বনমানুষ' উপাধি পেয়েছেন। তার পরেও নগ্ন রোমশ শরীর সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করেন অনিল। কটিদেশ ঢাকা শুধু খবরের কাগজে, বাদ বাকি নগ্ন। সাহসের চূড়ান্ত সেই ফটোশ্যুট।

বলিউড যৌন দেবতা কবীর বেদীর বেশিরভাগ ফটোশ্যুটই খোলামেলা। পাশ্চাত্য প্রভাব তাঁর ভিতর ভীষণ ভাবে ছিল, যা ফুটে উঠত ফটোশ্যুটে।

চকোলেট হিরো আদিত্য পাঞ্চালি। সম্পূর্ণ নগ্ন হয়ে তিনিও সাহসের পরিচয় দেন। দেওয়ালের আড়ালে শুধু ঢাকা ছিল আদিত্যর গোপন যৌবন।

নাইন্টিজ হিরো অক্ষয় কুমারের বুকে মাথা রাখতে সব অভিনেত্রীরাই চাইতেন। বয়সে বড় অভিনেত্রীরাও তো অক্ষয়ের প্রেমে হাবুডুবু খেয়েছিলেন। অক্ষয় কুমারেরও দেখা মেলে নগ্ন ফটোশ্যুটে।

সচরাচর সোশ্যাল মিডিয়ায় দেখা যায় না তাঁকে, তবে নিজের বোল্ড লুকের ছটায় মাঝে মধ্যেই তিনি হাজির হন ইনস্টাগ্রামে। বিনোদ খান্নার ছোট ছেলে রাহুল খান্না। টিকালো নাক, সুদর্শন চেহারা নিয়েও প্রথম সারির নায়ক হতে পারেননি তিনি। কিন্তু রাহুলের যৌবন আরও যেন উপচে পড়ছে ইদানীং।
কাউচের ওপর সম্পূর্ণ নগ্ন শরীরে বসে রাহুল। সারা শরীরে শুধুমাত্র পা ঢাকা রয়েছে ফর্ম্যাল জুতো আর মোজায়। একটি কুশন দিয়ে ঢাকা গোপনাঙ্গ। রাহুল ক্যাপশনে লিখেছেন, 'এর ভিতরে এমন কিছু আছে, যা সত্যি লুকিয়ে রাখা আছে।'

বলিউডের অতীতের এসব ইতিহাস ঘেঁটে মালুম হয়, রণবীর সিং নগ্ন হয়ে কিছু এমন বিপ্লব ঘটাননি। বরং অতীতের অভিনেতাদের নগ্ন মডেলিং অঙ্গভঙ্গি পর্যন্ত অনুসরণ করেছেন রণবীর। এমনকি আগেকার ফটোশ্যুটগুলিও যেন হার মানায় এ যুগের রণবীর সিংকে।