১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া ‘মন মানে না’ ছবির হাত ধরে বাংলা সিনেমায় নতুন অধ্যায় শুরু করলেন ঋত্বিক ভৌমিক ও হিয়া চট্টোপাধ্যায়। এই ছবি দু’জনের কাছেই বিশেষ—কারও প্রথম বাংলা ছবি, কারও আবার অভিনয়জীবনের একেবারে প্রথম পদক্ষেপ

শেষ আপডেট: 14 February 2026 16:10
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৩ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পাওয়া ‘মন মানে না’ ছবির হাত ধরে বাংলা সিনেমায় নতুন অধ্যায় শুরু করলেন ঋত্বিক ভৌমিক ও হিয়া চট্টোপাধ্যায়। এই ছবি দু’জনের কাছেই বিশেষ—কারও প্রথম বাংলা ছবি, কারও আবার অভিনয়জীবনের একেবারে প্রথম পদক্ষেপ। কিন্তু ছবির গল্পের মতোই, ছবির বাইরেও ঋত্বিকের জীবনে রয়েছে এক দীর্ঘ, গভীর এবং চুপিচুপি প্রেমের অধ্যায়—যার কথা এতদিন প্রায় অজানাই ছিল। (Ritwik Bhowmik, Tanya Maniktala, Mon Mane Na, Bandish Bandits, Hiya Chatterjee)
ঋত্বিক ভৌমিক—এই নামটি আজ আর অচেনা নয়। বলিউডের ভিড়ে তিনি সেই বিরল অভিনেতাদের একজন, যিনি আলোচনায় এসেছেন তাঁর অভিনয় আর চরিত্রর জন্য। রানাঘাটের ছেলেটি অভিনয়ের সঙ্গে পরিচিত হয় মাত্র ৯ বছর বয়সে, মঞ্চনাটকের হাত ধরে। সেই ছোটবেলার মঞ্চই ছিল তাঁর প্রথম ভালবাসা। ধীরে ধীরে অভিনয়ের প্রতি সেই টানই তাঁকে পৌঁছে দেয় ডিজিটাল দুনিয়ায়।
২০২০ সালে অ্যামাজন প্রাইম ভিডিওর জনপ্রিয় সিরিজ ‘বন্দিশ ব্যান্ডিটস‘-এ রাধে রাঠোর চরিত্রে অভিনয় করে তিনি যেন রাতারাতি পৌঁছে যান দর্শকের হৃদয়ের একেবারে কেন্দ্রে। এক ক্লাসিক্যাল গায়কের চরিত্রে তাঁর অভিনয় শুধু প্রশংসাই কুড়োননি, তাঁকে এনে দেয় এক অন্য পরিচয়। এরপর ‘দ্য হুইসলব্লোয়ার’, ‘মডার্ন লাভ মুম্বই’ এবং ২০২৫ সালের ‘খাকি: দ্য বেঙ্গল চ্যাপ্টার’-এ তাঁর উপস্থিতি আরও দৃঢ় করে তাঁর জায়গা। ছোট ছবিতেও তিনি নিজের ছাপ রেখেছেন—‘স্লিপ, দ্যাটস হাউ ইট স্টার্টেড‘, ‘গ্যাম্বল অফ ফ্লেশ’—সব জায়গাতেই তাঁর অভিনয়ের ছাপ স্পষ্ট। খুব শিগগিরই ‘অভূতপূর্ব’ ছবির মাধ্যমে তাঁর থিয়েট্রিক্যাল ডেবিউও হতে চলেছে।

ঋত্বিককে অনেকেই বলেন ইন্ডাস্ট্রির এক ‘অ্যানোমালি’। কারণ, তিনি সেই প্রচলিত চকমকে তারকা নন, যাঁর পরিচয় শুধু গ্ল্যামার। বরং তিনি বিশ্বাস করেন চরিত্রের ভিতরের অনুভূতিকে সত্যি করে বাঁচিয়ে তোলায়। তিনি নিজেই বলেন, প্রতিটি চরিত্রে তিনি মনের স্পর্শ আনতে চান—যেন অভিনয় নয়, সত্যিই বেঁচে ওঠে সেই মানুষটি।
কিন্তু তাঁর নিজের মনের গল্প? সেই গল্প এতদিন ছিল অনেকটাই আড়ালে।
‘দ্য ওয়াল’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে প্রেমের প্রসঙ্গ উঠলেও তিনি সরাসরি কিছু বলেননি। শুধু ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, তাঁর জীবনে এমন একজন আছেন, যিনি তাঁরই মতো একই পেশার মানুষ। আর ফোনে যোগাযোগ না হলে তিনি অপেক্ষা করেন না—সোজা পৌঁছে যান তাঁর দরজায়। সেই ছোট্ট স্বীকারোক্তির মধ্যেই যেন লুকিয়ে ছিল ভালবাসার আভাস।
‘মন মানে না’-র প্রচারের সময় বারবার হিয়া চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে তাঁকে দেখা যাওয়ায় অনেকেই ধরে নিয়েছিলেন, হয়তো হিয়াই তাঁর জীবনের সেই বিশেষ মানুষ। কেউ কেউ তো এমনও ভেবেছিলেন, শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের মেয়েই বুঝি তাঁর প্রেমিকা। কিন্তু বাস্তব গল্পটি অন্যরকম
জানা যাচ্ছে, তিনি প্রেম করছেন বলিউড অভিনেত্রী তানিয়া মানিকতলার সঙ্গে। তানিয়াও আজ ভারতীয় ওয়েব সিরিজ ও সিনেমার এক উজ্জ্বল মুখ। দিল্লিতে জন্ম ও বেড়ে ওঠা তানিয়া ইংরেজি সাহিত্যে পড়াশোনা করেছিলেন শিবাজি কলেজে। অভিনয়ে আসার পরিকল্পনা তাঁর ছিল না। কলেজের স্ট্রিট প্লে-তে অংশ নিতে নিতে, কপিরাইটারের কাজ করতে করতেই হঠাৎই অভিনয় তাঁর জীবনের পথ হয়ে ওঠে।
২০১৮ সালে ‘ফ্লেমস’-এ ঈশিতা চরিত্রে অভিনয় করে নজরে আসেন তিনি। এরপর মীরা নায়ারের ‘এ সুইটেবল বয়’-এ লতা মেহরার চরিত্র তাঁকে এনে দেয় বিপুল প্রশংসা। ২০২৩ সালে ‘মুম্বাইকার’-এ তাঁর বলিউড অভিষেক, আর ২০২৪ সালের অ্যাকশন-থ্রিলার ‘কিল‘-এ তুলিকা সিং চরিত্রে অভিনয় তাঁর অভিনয় দক্ষতার আরেক প্রমাণ। পাশাপাশি‘ টুথ পরী: হোয়েন লাভ বাইটস’, ‘ফিলস লাইক ইশ্ক’, ‘চুটজপাহ’ এবং ‘পি.আই. মীনা’—সব জায়গাতেই তিনি নিজের স্বকীয়তা বজায় রেখেছেন।
ঋত্বিক ও তানিয়ার সম্পর্ক শুধু ব্যক্তিগত জীবনেই সীমাবদ্ধ নয়, কাজের জায়গাতেও তাঁদের পথ এক হয়েছে। ২০২৪ সালে ডাইস মিডিয়া এবং ওয়েভস-এর প্রোজেক্ট ‘দ্য পিকল ফ্যাক্টরি’তে তাঁরা একসঙ্গে অভিনয় করেছেন। এমনকি ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসে তাঁরা একসঙ্গে গিয়েছিলেন ‘হার্টফুলনেস’-এর সদর দফতর কানহা শান্তি বনমে—যেখানে অভিনয়, ধ্যান এবং জীবনের গভীরতা নিয়ে তাঁরা আলোচনাও করেছিলেন।

‘মন মানে না’র প্রিমিয়ারে
শুধু অভিনয় নয়, সংগীতের জগতেও তাঁদের একসঙ্গে দেখা গেছে। পঙ্কজ উদাসের গান ‘ব্যায়ঠি হো কিউ গুমসুম’-এর ভিডিওতেও একসঙ্গে কাজ করেছেন তাঁরা। তাঁদের একসঙ্গে কাটানো মুহূর্তগুলো যেন নিঃশব্দে বলে দেয়, এই সম্পর্ক শুধু সময়ের নয়—অনুভূতির।
‘মন মানে না’-র প্রিমিয়ারের দিনে একপাশে তাঁর মা, আর অন্যপাশে তাঁর দীর্ঘদিনের প্রেমিকা—দু’জনকে পাশে নিয়েই প্রিমিয়ারে প্রবেশ করেন অভিনেতা। ঋত্বিকের জীবনের এই গল্পটাও কিন্তু নিঃশব্দে বলে যায়—মন সত্যিই কখনও মানে না, মন শুধু নিজের মানুষকেই খুঁজে নেয়।