সংস্কৃতে, ভূতশুদ্ধির (Bhuta Shuddhi Vivaha) আক্ষরিক অর্থ 'উপাদানের শুদ্ধিকরণ'। যোগবিজ্ঞানে বিশ্বাস করা হয়, এই পাঁচ উপাদানের শক্তি যখন পরিশুদ্ধ ও একত্রিত হয়, তখন দম্পতির মধ্যে সামঞ্জস্য, শান্তি ও শক্তিশালী মানসিক সংযোগ তৈরি হয়।

ভূতশুদ্ধি মতে বিয়ে রাজ-সামান্থার (গ্রাফিক্স- দ্য ওয়াল)
শেষ আপডেট: 2 December 2025 15:40
দ্য ওয়াল ব্যুরো: পরিচালক রাজ নিদিমোরুর সঙ্গে দ্বিতীয় বিয়ে সেরেছেন অভিনেত্রী সামান্থা রুথ প্রভু (Samantha Raj Wedding)। কোনও ডেস্টিনেশন ওয়েডিং হয়নি, ছিল না তেমন জাঁকজমকও। কোয়েম্বাটুরের ইশা যোগ সেন্টারের লিঙ্গ ভৈরবীর মন্দিরে শান্ত পরিবেশে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন তাঁরা। তবে হিন্দু রীতি মেনে নয়, সামান্থার দ্বিতীয় বিয়ে হয়েছে ভূতশুদ্ধি মতে (Bhuta Shuddhi Vivaha)। কী এমন বিশেষ আছে এই বিয়ের নিয়মে?
ভূতশুদ্ধি বিবাহ কী?
ইশা যোগ সেন্টারের প্রাচীন প্রথা অনুযায়ী, ভূতশুদ্ধি বিবাহ (Bhuta Shuddhi Vivaha) এমন একটি আচার, যেখানে দম্পতির মধ্যে থাকা পাঁচটি উপাদান, মাটি, জল, আগুন, বায়ু ও আকাশ- শুদ্ধ ও সঙ্গত করার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়।
সংস্কৃতে, ভূতশুদ্ধির (Bhuta Shuddhi Vivaha) আক্ষরিক অর্থ 'উপাদানের শুদ্ধিকরণ'। যোগবিজ্ঞানে বিশ্বাস করা হয়, এই পাঁচ উপাদানের শক্তি যখন পরিশুদ্ধ ও একত্রিত হয়, তখন দম্পতির মধ্যে সামঞ্জস্য, শান্তি ও শক্তিশালী মানসিক সংযোগ তৈরি হয়। এই রীতিকে তাই সাধারণ বিয়ের আচার-নিয়মের থেকে অনেক বেশি আধ্যাত্মিক বলা হয়।
ইশা যোগ সেন্টারে তিন ধরনের বিশেষ বিবাহ করানো হয়- লিঙ্গ ভৈরবী বিবাহ, বিবাহ বৈভবা এবং ভূতশুদ্ধি বিবাহ। এর মধ্যে ভূতশুদ্ধি বিবাহকে সবচেয়ে বেশি আধ্যাত্মিক বলে মনে করা হয়। এই বিয়ে লিঙ্গ ভৈরবীর আশীর্বাদে সম্পন্ন হয়।
লিঙ্গ ভৈরবী হলেন শক্তির এক তেজস্বী ও করুণাময় রূপ। বিশ্বাস করা হয়, জীবনের নানা সময়ে তিনি ভক্তদের মন ও শরীরে স্থিরতা ও শক্তি দেন।
কীভাবে হয় এই বিবাহ?
ভূতশুদ্ধি মতে বিয়েতে নবদম্পতিকে প্রথমে পবিত্র অগ্নির সামনে বসানো হয়। পুরোহিতের সঙ্গে মন্ত্রোচ্চারণ করতে হয়। পঞ্চভূতের উপাদান- মাটি, জল, আগুন, বাতাস ও আকাশ, শুদ্ধ করে নৈবেদ্য নিবেদন করা হয়। পরে দম্পতিকে দেবী লিঙ্গ ভৈরবীর আশীর্বাদ নেওয়া একটি বিশেষ লকেট পরানো হয়। এই পর্যায়গুলি সম্পন্ন হলেই বিয়ের মূল আচার শেষ হয়। চাইলে এরপর বর কনেকে মঙ্গলসূত্র পরাতে পারেন।
কোথায় করা যায় এই বিয়ে?
ভূতশুদ্ধি বিবাহ কোনও নির্দিষ্ট জায়গায় সীমাবদ্ধ নয়। নিজের বাড়িতে, পছন্দের জায়গায় কিংবা লিঙ্গ ভৈরবীর মন্দিরে এই বিশেষ রীতি পালন করা যায়। তবে একটি বিষয় খুবই গুরুত্বপূর্ণ, বিয়ের সময় দেবী লিঙ্গ ভৈরবীর কোনও রূপ, ছবি বা মূর্তি উপস্থিত থাকতে হবে। তাঁকে সাক্ষী রেখে তবেই সম্পূর্ণ হয় এই যোগিক বিবাহের আচার।