
শেষ আপডেট: 31 July 2022 15:03

চেতলা পাড়ার ডাকাবুকো মেয়েটা কোমরে ছোরা নিয়ে ঘুরত। না সে কোনও মেয়ে গুন্ডা নয়। বরং তার কাছে জব্দ হত দাপুটে গুন্ডারাই। ছোট থেকেই এই মেয়ে যেখানেই যেত সেখানেই কোনও না কোনও ঝামেলা সৃষ্টি হত। লোকের বাড়ি ফল চুরি, ফুল চুরি, মারপিট করা নিয়ে মায়ের কাছে অভিযোগ আসত। মা মেয়েকে বিরক্ত হয়ে বললেন "তোকে নিয়ে আমার খুব ঝামেলা রে"!
তাই মেয়ের নাম হয়ে গেল 'ঝামেলা'। মেয়েদের থেকে ছেলেরাই তার বেশি বন্ধু। একবার তো বাড়ির লোকে ভেবেছিল মেয়েকে গুন্ডারা তুলে নিয়ে গেছে কিন্তু গুন্ডা পিটিয়েই মেয়ে বাড়ি ফিরেছিল। বৃদ্ধা বয়সেও ঝামেলার দাপট কমেনি। বছর দশেক আগে কালী পুজোর রাতে তাঁর বাড়ির সামনে বোম ফাটাচ্ছিল রকবাজ ছেলেরা। ঝামেলা প্রতিবাদ করাতে তারা বলল "বেশী পোতিবাদ করবেন না মাসিমা! জানলার কাঁচ ভেঙে দেব। ঝামেলার উত্তর "ভেঙে দেখা তোদের মাথাতেও তাহলে সাত-আটটা স্টিচ পড়বে!" ছেলের দল ছুটে পালাল। এই ছিল ঝামেলার দাপট!
চেতলায় তাঁর ছোটবেলা, চেতলায় তাঁর সঙ্গীত শিক্ষা, চেতলাতেই বিয়ে সংসার, জীবনের শেষদিন অবধি কাটিয়ে গেলেন চেতলায়। তিনি সঙ্গীতের 'তোতা পাখি' নির্মলা মিশ্র (Nirmala Mishra)।

নিজের পরিচয় দিতে গিয়ে নির্মলা মিশ্র সবসময় বলতেন "আমি আমার বাবার মেয়ে"। বাবার কাছেই তাঁর গানের শিক্ষা শুরু। বাবার গান গেয়েই (Bengali Song) তাঁর রেডিও অডিশনে পাশ করা। তাঁর বাবার ছিল এক নয় তিন-তিনটি উপাধি। সঙ্গীতরত্ন, সঙ্গীতনায়ক ও পণ্ডিত মোহিনীমোহন মিশ্র। যিনি শুধু সঙ্গীতজ্ঞই ছিলেন না, সবরকম বাজনাও বাজাতে পারতেন।
তবে বাবার কাছে সরাসরি সারেগামাপাধানিসা শিখে নির্মলার গানের হাতঘড়ি হয়নি। মোহিনীমোহন মিশ্রর কাছে বহু মানুষ গান করতে ও গান শিখতে আসতেন। সেই সুবাদে শুধু গান শুনে শুনেই নির্মলা সহজে গান তুলে নিতেন। তাঁর মায়ের নাম ভবানী দেবী। জমিদার বাড়ির মেয়ে ছিলেন। মিশ্র পদবী হওয়াতে অনেকেই ভাবেন তাঁরা বোধহয় ওড়িয়া, ওড়িশার লোক। কিন্তু এই মিশ্র হল তাঁদের উপাধি। নির্মলাদের পারিবারিক পদবী ছিল বন্দ্যোপাধ্যায়। পিতা মোহিনীমোহন মিশ্র এবং বড় ভাই মুরারিমোহন মিশ্র দু’জনই বিখ্যাত সঙ্গীত সাধক ছিলেন। ‘কাশী সঙ্গীত সমাজ’ তাঁর পিতাকে ‘পণ্ডিত’, ‘সঙ্গীত রত্ন’, ‘সঙ্গীত নায়ক’ তিনটি উপাধিতে ভূষিত করে। সেই সূত্রে বড়ে গোলাম আলি খাঁ, বিসমিল্লাহ খাঁর সান্নিধ্য লাভ করেন নির্মলা ছোটবেলাতেই। কোলেও বসেছেন বড়ে গোলাম আলি খাঁর। নির্মলা খুব রোগে ভুগতেন বলে বড়ে গোলাম আলি খাঁ নিজের হাতে আয়ুর্বেদ ওষুধ তৈরি করে দিতেন তাঁর জন্য।

বড় ভাই মুরারিমোহন খুব অল্প দিন বেঁচেছিলেন। তাঁর প্রতিভা আন্তর্জাতিক স্তরে বিকশিত হওয়ার সুযোগ পায়নি। বড় ছেলের মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিতে মোহিনীমোহন চেতলা অঞ্চলে শুরু করেন শাস্ত্রীয় সংগীতের কনফারেন্স 'মুরারি স্মৃতি সঙ্গীত সম্মিলনী'। এই অনুষ্ঠানে গান গেয়েই দিকপাল সঙ্গীত গুরুদের নজর কেড়ে নেন নির্মলা। এমনকি কনফারেন্সে অংশগ্রহণ করেছিলেন শ্যামল মিত্র, রাধাকান্ত নন্দী, পূরবী দত্ত, নিখিল বন্দ্যোপাধ্যায়, আরতি মুখোপাধ্যায়, হৈমন্তী শুক্লারা। নির্মলা, আরতি, হৈমন্তী তিনজনেই শিশুবয়সে ন্যাড়া মাথায় এই গানের আসরে এসেছেন, এমন ছবিও ছিল।
তবে শুধু যে বাহ্যিক জগতেই নির্মলা ডাকাবুকো ছিলেন তাই নয়, মনের দিক থেকেও অসম্ভব সাহসী ও উদ্যমী ছিলেন তিনি। খুব হাসিখুশি মেয়ে ঝামেলার ছয়-ছয়বার টাইফায়েড হয়েছিল ছোটবেলায়। তাতেই চোখ দুটো নষ্ট হয়ে গেল, সেই সঙ্গে হার্টও হয়ে গেল দুর্বল। সবাই ভেবেছিলেন টাইফায়েডই কেড়ে নেবে মেয়েকে। কিন্তু শুধুমাত্র মনের জোরে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এলেন নির্মলা। ভাল হওয়ার পর হার্ট দুর্বল হওয়াতে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীত গাওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল। কিন্তু জল ছাড়া যেমন মাছ থাকে না তেমন গান ছাড়া নির্মলা থাকতে পারেন না। সেজদা কানু মিশ্র পিতা মোহিনীমোহনকে বললেন নির্মলা লঘু সঙ্গীত গাইলে অসুবিধে কী? মোহিনীমোহনের মেয়ে গাইবে লঘু সঙ্গীত! রেগে গেলেন বাবা। নির্মলার সেজদা বললেন "আচ্ছা বাবা, সা রে গা মা বাদ দিয়ে আজ পর্যন্ত কোনও গান হয়েছে?"
মেয়ের মুখের দিকে চেয়ে বাবা সম্মতি দিলেন।

এই কানু মিশ্রই নির্মলাকে গড়ে তুললেন। আর আধুনিক গানে উৎপলা সেন নির্মলাকে তৈরি করেন। তবে সুরস্রষ্টা নচিকেতা ঘোষকেও গুরু মানতেন নির্মলা। নির্মলা বলতেন "নচিদা দ্রোণাচার্য, আমি একলব্য।"
আর একজন হলেন ধনঞ্জয় ভট্টাচার্য। যাঁকে দাদামণি বলে ডাকতেন নির্মলা। বহু অনুষ্ঠানে নির্মলার গান গাইবার সুযোগ করে দিয়েছেন তিনি। কখনও অত বড় শিল্পী নির্মলার পাশে বসে মঞ্চে তবলাতে সঙ্গতও করতেন। সেজদা কানু মিশ্র নির্মলাকে বলেছিলেন যদি কখনও আপদে বিপদে পড়ো, সোজা ধনঞ্জয় ভট্টাচার্যের কাছে চলে যাবে। উনি সব সমাধান করে দেবেন। তাই নির্মলা ধনঞ্জয়কে বলতেন মধুসূদন দাদা।
‘ও তোতা পাখি রে…’ গান গেয়েছিলেন বলে নির্মলা মিশ্রকে সবাই 'তোতা পাখি' বলেই ডাকত সারাজীবন। তাঁর এই গান শুনে চোখের জল ধরে রাখা মুশকিল। যাঁরা মাকে হারিয়েছেন তাঁরা এই গানেই মাকে খুঁজে পান আজীবন। তবে এই গান অনেক ধরাধরি করে প্রবীর মজুমদারের থেকে পেয়েছিলেন নির্মলা মিশ্র। বম্বেতে যেমন লতাজি রানি, কলকাতায় সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়, তেমনি ওড়িশার গানের রানি বলা হত নির্মলা মিশ্রকে। পুরীর মন্দির থেকে তিনি পেয়েছিলেন 'গান্ধর্বী' খেতাব।

শিল্পীদের এক ঘরোয়া জলসায় সলিল চৌধুরীকে সবাই গান গাইতে অনুরোধ করল। তিনি বললেন আমার গানে তবলায় সঙ্গত করার লোক নেই তো! নির্মলা ছুটে এসে বললেন আমি পারি তবলা বাজাতে। গান শুরু করুন আপনি। সলিল গাইলেন তাঁর নতুন তৈরি গান 'ঝিলমিল ঝাউয়ের বনে ঝিকিমিকি' আর 'ঘুম আয় ঘুম আয়'। নির্মলার তবলা বাজানোয় মুগ্ধ হয়ে সলিল বললেন এ গান তোমাকে দিয়েই রেকর্ড করাবো। কার্যক্ষেত্রে তা হল না। সেজদার সঙ্গে সলিল চৌধুরীর কাছে গেলেন নির্মলা। সেজদা নির্মলাকে বসিয়ে বলে গেলেন এখান থেকে নড়বি না। কিন্তু নির্মলা বসে শুনলেন দোতলায় সলিল চৌধুরী বলছেন ঐ গান দুটো সবিতা চৌধুরীকে দিয়ে গাওয়াবেন। প্রচণ্ড রেগে গেলেন নির্মলা। সেজদার কথা অমান্য করেই দোতলায় দৌড়ে গিয়ে সলিল চৌধুরীর কলার চেপে ধরার জোগাড়। "কেন বলেছিলে তুমি গান দুটো আমাকে দেবে?" ওই ছোট বয়সে নির্মলার তেজ দেখে চমকে যান সলিল। গান দুটো সবিতা চৌধুরীই গাইলেন। কিন্তু নির্মলাকেও নতুন গান দিতে বাধ্য হন সলিল। সলিলের সুরে পুলক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায় নির্মলা গাইলেন "এ মন মোর জানি না কোথা যে হারালো'।
বাংলা ছবিতে নায়িকার লিপে গান সে অর্থে কখনও পাননি নির্মলা। তিনি বলতেন "জীবনে কাউকে তেল দিইনি তাই বাংলা ছবিতে গান পাইনি।" স্বর্ণযুগে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের একচেটিয়া সাম্রাজ্য ছিল বাংলা ছবির গানে। সঙ্গে ছিলেন প্রতিমা বন্দ্যোপাধ্যায়। তারপরই সেই জায়গা নেন আরতি মুখোপাধ্যায়। নির্মলা, মাধুরী, বনশ্রীরা প্লে ব্যাকে কমই সুযোগ পেতেন। অথচ 'আঁধার সূর্য' ছবিতে 'রিনিঝিনি রিনিঝিনি শ্রাবণের সুর বাজে' গান কী অসাধারণ গেয়েছিলেন নির্মলা মিশ্র! বৃষ্টিস্নাত অভিনেত্রী রিনা ঘোষের লিপে। বিস্মৃত অভিনেত্রীর লিপের গান বিস্মৃতির আড়ালে চলে গেছে। বাংলা ছবিতে সুযোগ পাননি বলেই নির্মলা নিজেকে সঁপে দেন ওড়িয়া ছবিতে। ওড়িশার লোকেরা তাঁকে মাথায় করে রাখত। মিশ্র পদবী বলে তারা ভাবত নির্মলা ওড়িয়া, বাঙালি নন।

বিয়ে হয়েছিল একটু বেশি বয়সে। স্বামী প্রদীপ দাশগুপ্তর সঙ্গে ডাবিং সিনেমায় ডুয়েট গান করতেন নির্মলা। মাদ্রাজি ছবিগুলো বাংলায় ডাবিং হত। এজন্য হেমন্ত মুখোপাধ্যায় নির্মলাকে ‘ডাবিং কুইন’ নাম দিয়েছিলেন। ধর্মীয় ছবিতে দেবীদের ডাবিং করতেন নির্মলা আর দেবতাদের ডাবিং করতেন প্রদীপবাবু। একবার পুজোর আধুনিক গান রেকর্ড করা হবে। চরম ব্যস্ততা। প্রদীপ নির্মলার বাড়ি এসেছেন। এদিকে নির্মলা কাউকে আগে দেখলেও মনে রাখতে পারতেন না। তিনি বললেন, আপনাকে কোথায় দেখেছি বলুন তো? বড্ড চেনা চেনা লাগছে। প্রদীপ বললেন, ‘আপনার সঙ্গে প্রচুর গানটান গেয়েছি, হয়তো তখনই দেখে থাকবেন।’ মনে পড়ল। নির্মলার মা মনে মনে ঠিক করেই রেখেছিলেন ওই শান্ত ভদ্র ছেলের সঙ্গে নির্মলার বিয়ে দেবেন। নির্মলা তো রেগে গরগর করছেন কারণ তিনি টারজানকে পছন্দ করেন, আর মা কিনা একটা রোগাপটকাকে বর করতে এনেছেন। নির্মলা বিয়ে করবেন না। কিন্তু মা অসুস্থ হয়ে পড়লেন। মারা যাওয়ার সাত দিন আগে মা বললেন, ‘শোন, আমি বলছি, ও আমার মতন করে তোকে আগলাবে। ওর হাতে তুলে দিয়ে নিশ্চিন্ত হব।’
তাই হল। ফুলশয্যার রাতে স্বামী প্রদীপ দাশগুপ্ত আংটি বিনিময়ের আগে নির্মলাকে উপহার দিলেন একটুকরো কাগজ। তাতে লেখা, ‘আমি তো তোমার চিরদিনের হাসি কান্নার সাথী’। এ গানের জনপ্রিয়তা তো সবার জানা। গানের পরবর্তী কথা লেখেন বাবু গুহঠাকুরতা ও সুর দেন প্রদীপ দাশগুপ্ত। যদিও এই গানের কথা প্রদীপ বাবুর লেখা বলে নির্মলা দাবি করতেন। প্রদীপবাবু গানের জগতে সঠিক সম্মান পাননি। পলিটিক্সের কারণেই গানের জগত ছেড়ে দেন। শুধু লোকে পাগলি বলা স্ত্রীকে আগলে রাখতেন। তিনি যেভাবে অসুস্থ স্ত্রীর সেবা একা হাতে করেছেন তা কম মেয়ের ভাগ্যে জোটে। পুত্র থাকলেও তিনি বিয়ের পর আলাদা থাকতেন। পুত্রবধূর আদর সেবা পাওয়া কোনদিনই এত বড় শিল্পীর ভাগ্যে জোটেনি। চোখ দুটো জলে ছলছল করত ছেলে তাঁর সঙ্গে না থাকার কারণে। যদিও নির্মলা মিশ্রের শেষকৃত্য ছেলেই করেন।

আরও পড়ুন: সত্যজিতের প্রথম ইংরেজি ছবির নায়িকা এই মিস ইন্ডিয়া! শেষ জীবনে নিঃস্ব, নিঃসঙ্গ
দীর্ঘ পাঁচ বছর পক্ষাঘাতগ্রস্ত অবস্থায় শয্যাশায়ী ছিলেন নির্মলা। তিন থেকে চার বছরে ১০ থেকে ১৫ বার হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। অন্তত তিনবার তাঁর স্ট্রোক হয়েছিল। হার্ট অ্যাট্যাকও হয়েছিল দু'বার। কিন্তু তারপরও সেই অসুস্থ মানুষটার কোনও গোপনীয়তা রক্ষা হয়নি। শিল্পীর দল থেকে রাজনৈতিক জগতের লোকেরা শয্যাশায়ী নির্মলা মিশ্রর সঙ্গে ভরপুর ছবি তুলেছেন এবং সেসব ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন। 'নির্মলাদি তোমায় কত ভালবাসি' বলে তাঁর অসুস্থতার সুযোগ নিয়েছেন তাঁর সহকর্মীরাই। শয্যাশায়ী মানুষকে সম্মান দেওয়ার প্রদর্শন করতে তাঁর বুকের উপর স্মারক রেখে দিয়ে ছবি তোলা হয়েছে। তিনি একজন শিল্পী যিনি নিজে সবসময় সেজেগুজে থাকতেন। তাঁর ঘরপোশাক পরা ছবি বেআব্রু যথেচ্ছাচার হয়েছে। তাঁর বুকের আঁচলটা যে নেমে যাচ্ছে দেখার দরকার পড়েনি কারও। এক পারিবারিক ডাক্তার ডাক্তারির নাম করে অসুস্থ নির্মলা মিশ্রকে নিয়ে ফেসবুক লাইভ করতেও বাদ রাখেননি। আসলে সবই রিফ্লেকটেড গ্লোরি। তারকার আলোতে গা সেঁকে নিতে চেয়েছেন। এমন সব অসুস্থ ছবি ভাইরাল হয়েছে নিজের লোকেদেরও যেসব ছবি কেউ তোলে না।

সাংবাদিক থেকে টিভি চ্যানেল, নির্মলা মিশ্রের শোওয়ার ঘরে ঢুকে দাপাদাপি করেছে। তাঁর নামে ভুয়ো ফেসবুক পেজ খোলা হয়েছে। নিজের লোকজনই তাঁর জিনিস একে একে বিক্রি করে দিয়েছেন। বাদ যায়নি বাড়িও। সবার সব আবদার হাসি মুখে মিটিয়েছেন নির্মলা। তিনি যে তোতা পাখি, তাঁর কাছে যে মায়ের আশ্রয়। নির্মলা মিশ্র অপরিসীম কষ্ট ভোগ করে মর্মে মর্মে বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন শিল্পীদের ব্যক্তিগত জীবন থাকতে নেই।
৮৪ বছরের 'তোতা পাখি' নির্মলা মিশ্র শিকল কেটে উড়ে গেলেন। মুক্তি। নির্মলা মিশ্র যেন মরে বাঁচলেন। জুড়লো তাঁর কষ্ট।
'এই আকাশ, নদী, পাহাড় আমার বড় প্রিয়।
এই বাংলার মাটিতে মাগো জন্ম আমায় দিও।।'