
শেষ আপডেট: 30 December 2019 18:27
নাটকের জগতে তূর্ণা ইতিমধ্যেই যথেষ্ট পরিচিত নাম। বিশেষত ‘ক্যাপ্টেন হুররা’-র প্রতিটি শোয়ে তাঁর অনবদ্য পারফরম্যান্স দর্শকের মনে তূর্ণাকে জায়গা করে দিয়েছে। নতুন নাটক নিয়ে দারুণ উত্তেজিত তূর্ণা। তাঁর কথায়, “এই নাটকের গল্পটা খুব জটিল। তবে খুব মন ছুঁয়ে যাওয়া। বৈবাহিক জীবনে দু’জন নারী কী কী ক্রাইসিসের সম্মুখীন হন তাই নিয়েই এগিয়ে চলবে নাটক। আর পারিপার্শ্বিক সমাজের সঙ্গে খাপ খাইয়ে সবটা ঠিকমতো উপস্থাপন করাই আমাদের মূল লক্ষ্য।“
নাটকের নির্দেশক অপ্রতিম সরকার এবং সহ-অভিনেত্রী সুলগ্না নাথকে নিয়েও যথেষ্ট উচ্ছ্বসিত তূর্ণা। বললেন, “সুলগ্না আমার থেকে বয়সে বেশ অনেকটাই ছোট। বিবাহিত জীবন এক্সপিরিয়েন্স করেনি আমার মতো। কিন্তু তাও এত নিখুঁত ভাবে এক্সপ্রেশন দিয়ে সবটা ফুটিয়ে তুলছে যে আমি রিহার্সালে ওকে দেখে বারবার অবাক হয়ে যাচ্ছি। ওর বয়সে আমি কিন্তু এমনটা পারতাম না হয়তো। একটুও বাড়িয়ে বলছি না, দর্শকরা সুলগ্নার অভিনয় দেখে মুগ্ধ হবেন এ ব্যাপারে আমি আশাবাদী।“
অভিনেত্রী পোড় খাওয়া হলেও নির্দেশনায় এই প্রথম অপ্রতিম। ছোট থেকেই নাটক করার বড্ড শখ তাঁর। কলকাতার কলেজে পড়তে এসেই নাটক দেখার আগ্রহ এবং শখ দুটোই বাড়ছিল। একটা নাটক দেখার সূত্রেই ‘ইচ্ছেমতো’-র সৌরভ পালধির সঙ্গে আলাপ। তারপর দলের ওয়ার্কশপ জয়েন করেছিলেন অপ্রতিম। ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছিলেন দলের একনিষ্ঠ এবং অন্যতম সদস্য। আর আজ তিনি নাটকের নির্দেশক।
নাটক নিয়ে আলোচনা হল অপ্রতিমের সঙ্গেও।
প্রথম নাটকের নির্দেশনা, ভয় লাগছে নিশ্চয়?
অপ্রতিম- ভীষণ। তবে কনফিডেন্সও আছে। আর এমন একটা দল পেলে প্রচণ্ড টেনশনেও সব স্বাভাবিক লাগে। আমাদের দলে কেউ একজন নির্দেশক নয়। কোনও কিছু ক্ষেত্রেই একজনের কথার উপর ভিত্তি করে সিদ্ধান্ত হয় না। সবার মত সমানভাবে শোনা হয়। কমরেডশিপ আরকি। দলগত ভাবে কাজ করা। ‘ইচ্ছেমতো’-র এই স্পিরিটটাই আমায় এতদূর নিয়ে এসেছে। নাটকে অভিনয়ের পর এবার নির্দেশনাতেও অংশ নিচ্ছি।
অভিনেতা থেকে নির্দেশক, ফারাক কতটা?
অপ্রতিম- বিশাল। আমি তো প্রথমে সবটা একজন অভিনেতার চোখ দিয়েই দেখছিলাম, ভাবছিলাম। আস্তে আস্তে বুঝতে শিখলাম যে এখন অনেক কিছু বিষয় একসঙ্গে মাথায় রাখতে হবে। আমি খুব ভাগ্যবান যে কুশল চট্টোপাধ্যায়ের মতো একজন নাটকটার ভাবানুবাদ করেছে। ১৯ বছরের ছেলে ও। বিবাহিত জীবনের কিছুই প্রায় বোঝে না। কিন্তু তাতেও ও যেটা করে দেখিয়েছে সেটা এককথায় অসাধারণ। আমি নিজেও অবশ্য বিবাহিত নই। তবে কী করে যে নির্দেশনাটা দিচ্ছি সেটা আমার কাছেই একটা চমক। অবশ্য এখানে আমি আবারও বলব দলের এতটা সাপোর্ট না থাকলে এসব কিছুই সম্ভব হত না।
‘ইচ্ছেমতো’-র একটা নয়, তিন তিনটে নাটক থাকছে ৩১-এর রাতে। দলের তরফ থেকে সকলেরই তাই শহরবাসীর কাছে একটাই কথা বলার, “আপনারা আসুন, ভাল নাটক দেখুন, নতুন বছরকে স্বাগত জানান একটু অন্যভাবে। এমন প্রচেষ্টা ভাল লাগতে বাধ্য।“