দ্য ওয়াল ব্যুরো: বলিউড অভিনেতা সুশান্ত সিং রাজপুতের মৃত্যুর ঘটনায় অবশেষে তাঁর বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করল এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট বা ইডি। ১৫ কোটি টাকা প্রতারণার অভিযোগ দায়ের হয়েছে অভিনেত্রীর বিরুদ্ধে। শুধুমাত্র রিয়া নন, তাঁর আরও কিছু আত্মীয়র বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করেছে ইডি।
এর আগে ইডি বিহার পুলিশকে জানিয়েছিল, তাদের কাছে দায়ের করা এফআইআরে কী বলা হয়েছে তা জানাতে। বিহার পুলিশে দায়ের করা এফআইআরে সুশান্তের বাবা কৃষ্ণ কুমার সিং অভিযোগ করেছেন, রিয়া ও আরও ৫জন সুশান্তের মৃত্যুর জন্য দায়ী। অভিযোগে তিনি বলেন, সুশান্তের কোটাক মহীন্দ্রা ব্যাঙ্কের অ্যাকাউন্ট থেকে এমন একটি অ্যাকাউন্টে ১৫ কোটি টাকা ট্রান্সফার হয়েছে, যে অ্যাকাউন্ট সুশান্তের নয়। এমনকি সুশান্তকে মিথ্যে কথা বলে বেশি মাত্রার ওষুধ খাওয়ানোরও অভিযোগ করেন তাঁর বাবা। এই ১৫ কোটি টাকা কার অ্যাকাউন্টে গিয়েছে, তার সঙ্গে রিয়া এবং সুশান্তের কী যোগ রয়েছে, এইসব খতিয়ে দেখতে তদন্তে নামে ইডি। তারপরেই এই মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মূলত আর্থিক প্রতারণার অভিযোগ খতিয়ে দেখতেই তদন্ত শুরু করেছিল ইডি। তাতে ইডির হাতে এমন অনেক প্রমাণ মিলেছে যাতে বোঝা যাচ্ছে, টাকার বেআইনি লেনদেন করা হয়েছে। এই লেনদেনের সঙ্গে রিয়া ও তাঁর পরিবারের অন্যরা যুক্ত বলেই সন্দেহ কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার। তাই এবার তাঁদের জিজ্ঞাসাবাদ করতে চায় ইডি।
জানা গিয়েছে, সুশান্তের দুটি স্টার্ট আপ কোম্পানির একটিতে শীর্ষ পদে ছিলেন রিয়া এবং অন্যটিতে ছিলেন অভিনেত্রীর ভাই শৌভিক। দুটি কোম্পানিরই ডিরেক্টর পদে আসীন ছিলেন রিয়া ও তাঁর ভাই। এমনকি জানা গিয়েছে, মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার যে ফ্ল্যাটে এই দুই কোম্পানির অফিসগুলি ছিল সেগুলির মালিক রিয়ার বাবা। সূত্রের খবর, ইডির পাশাপাশি এই দুই কোম্পানির যাবতীয় খুঁটিনাটি তথ্য খতিয়ে দেখছে বিহার পুলিশও।
এর আগে সুশান্তের বাবার তরফে রিয়ার বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৬, ৩৪১, ৩৪২, ৩৮০, ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়, যার মধ্যে আত্মহত্যায় প্ররোচনা, চুরি, বিশ্বাসভঙ্গ, বেআইনিভাবে সম্পত্তি লিখিয়ে নেওয়া প্রভৃতি ধারায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত করতে গত তিনদিন ধরে মুম্বইয়ে রয়েছেন বিহার পুলিশের চার আধিকারিকের একটি দল। যদিও এখনই এই ঘটনায় সিবিআই তদন্তের দাবি খারিজ করেছে সুপ্রিম কোর্ট।