
শেষ আপডেট: 7 August 2020 12:20
পটনার রাজেন্দ্র নগর থানায় সুশান্তের বান্ধবী রিয়া, তাঁর ভাই শৌভিক-সহ মোট ৫ জনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেন অভিনেতার বাবা কৃষ্ণ কুমার সিং। রিয়ার বিরুদ্ধে, ষড়যন্ত্র, আর্থিক প্রতারণা, আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার মতো একাধিক অভিযোগ আনেন তিনি। কে কে সিংয়ের কথায় সুশান্তের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থেকে ১৫ কোটি টাকার রহস্যজনক লেনদেন হয়েছে। তাঁর অভিযোগ সুশান্তের অ্যাকাউন্ট থেকে যে অ্যাকাউন্টে টাকা গিয়েছে সেটা তাঁর ছেলের নয়।
এই আর্থিক লেনদেনের আসল সত্যিটা সামনে আনতে তদন্তে নামে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। আর্থিক তছরুপের মামলা রুজু করে ইডি। বিহার পুলিশের থেকে পাওয়া সুশান্তের বাবার করা এফআইআর-এর প্রতিলিপি খতিয়ে দেখে এই সিদ্ধান্ত নেন ইডির তদন্তকারী আধিকারিকরা। এরপর এই তদন্তে রিয়া চক্রবর্তীকেও সমন পাঠায় ইডি। শুক্রবারের মধ্যে অর্থাৎ আজ সকাল সাড়ে এগারোটার মধ্যে তাঁকে ইডির দফতরে হাজিরা দিতে বলা হয়।
শুক্রবার সকালেই নিজের আইনজীবী সতীশ মানশিন্দেকে দিয়ে রিয়া আপিল করেছিলেন যে তাঁর বয়ান যেন পরে নেওয়া হয়। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের তদন্তকারী আধিকারিকরা যেন রিয়াকে জিজ্ঞাসাবাদ করার এবং বয়ান রেকর্ড করার তারিখ পিছিয়ে দেন। তবে রিয়ার এই আপিল খারিজ করে দেয় ইডি। তারা সাফ জানিয়ে দেয় আগের পাঠানো সমন অনুযায়ী রিয়াকে আজই বেলা সাড়ে এগারোটার মধ্যে ইডি দফতরে হাজিরা দিতে হবে। নির্ধারিত সময় পর্যন্ত অপেক্ষা করার পর রিয়াকে নতুন সমন পাঠানোর সিদ্ধান্তও নিয়েছিল ইডি। তবে সে সবের আগেই এ দিন ইডি দফতরে গিয়ে পৌঁছেছেন সুশান্ত সিং রাজপুতের বান্ধবী রিয়া চক্রবর্তী।
ইতিমধ্যেই সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তভার নিয়েছে সিবিআই। রিয়া চক্রবর্তী, তাঁর ভাই শৌভিক এবং রিয়ার পরিবারের আরও কয়েকজন-সহ মোট সাতজনের বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করেছে সিবিআই।
এদিকে আবার বিহার পুলিশ অভিযোগ করেছে, সুশান্তের মৃত্যুর তদন্তে বাধা দিচ্ছে মুম্বই পুলিশ। সেই সঙ্গে তারা সাহায্য করছে রিয়া চক্রবর্তীকে। সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা একটি রিপোর্টে এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ করেছে বিহার সরকার। আজ সুপ্রিম কোর্টে সেই রিপোর্টই জমা দিয়েছে বিহার সরকার। রিপোর্টে বলা হয়েছে রিয়া কোনও প্রমাণ দেখাতে পারেননি যে পাটনা পুলিশ একপেশে হয়ে কোনও একতরফা তদন্ত করছে। বরং বারবার বিহার পুলিশের বিরুদ্ধে বেশ কিছু ভিত্তিহীন অভিযোগ করেছেন তিনি।