২০২৫-এর পুজোর সময় যে দৃশ্যপট বাংলা সিনেমা দেখেছিল, তা বোধহয় কেউ ভুলতে পারবে না। একসঙ্গে চার-চারটি ছবির মুক্তি, সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র তরজা, অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহে যেন একটা তিক্ত ছায়া নেমে এসেছিল।

শেষ আপডেট: 27 October 2025 15:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২০২৫-এর পুজোর সময় যে দৃশ্যপট বাংলা সিনেমা দেখেছিল, তা বোধহয় কেউ ভুলতে পারবে না। একসঙ্গে চার-চারটি ছবির মুক্তি, সেই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়ায় তীব্র তরজা, অভিযোগ–পাল্টা অভিযোগ—সব মিলিয়ে উৎসবের আবহে যেন একটা তিক্ত ছায়া নেমে এসেছিল। সেই স্মৃতি এখনও টাটকা। দর্শক যেমন হতভম্ব, তেমনই আঘাত পেয়েছিল পুরো ইন্ডাস্ট্রিই। বাংলা ছবির পাশে দাঁড়ানোর বার্তা তখনই যেন কোথায় হারিয়ে গেল।
কিন্তু কয়েনের উল্টোপিঠে অপেক্ষা করছিল আরেকটা পরীক্ষা—এ বছরের বড়দিন। পাঁচটি বড় বাজেটের ছবি মুক্তির পরিকল্পনা ছিল এই শীতে। অতনু রায়চৌধুরীর ‘প্রজাপতি ২’, নন্দিতা রায়–শিবপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’, নিসপাল সিং রানের ‘মিতিন মাসি’, শ্রীকান্ত মোহতা–মহেন্দ্র সোনির ‘বিজয়নগরের হিরে’ এবং এসভিএফ ও রানা সরকারের যৌথ প্রযোজনা ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’—এই পাঁচ নামেই যেন জমে উঠেছিল শীতের প্রতিযোগিতা। কিন্তু কেউই চাইছিল না, আবারও যেন পুজোর পুনরাবৃত্তি হয়।
এই প্রেক্ষাপটেই রবিবার ইম্পার অফিসে বসল রাজ্য সরকারের গড়ে দেওয়া ‘স্ক্রিনিং কমিটি’র এক গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক। দীর্ঘ আলোচনা, মতবিনিময় শেষে ঠিক হয়—না, একসঙ্গে পাঁচটি ছবি নয়, এবার বড়দিনে মুক্তি পাবে মাত্র তিনটি। বাকিগুলোর মুক্তি ঠেলতে হবে আগামী বছরে। এবারের শীতে মুক্তি পাবে ‘প্রজাপতি ২’, ‘মিতিন মাসি’ এবং ‘বিজয়নগরের হিরে’।
অরিত্র মুখোপাধ্যায়ের ‘ভানুপ্রিয়া ভূতের হোটেল’ মুক্তি পাচ্ছে না এ বছর। মুক্তি পাবে না ‘লহ গৌরাঙ্গের নাম রে’ ছবিটিও। সেই দু’টি ছবি দেখা যাবে ২০২৬ সালের ২৩ জানুয়ারি।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন পাঁচ ছবির প্রযোজকরা, সঙ্গে বিনোদিনী প্রেক্ষাগৃহের কর্ণধার জয়দীপ মুখোপাধ্যায়, মাল্টিপ্লেক্সের কর্ণধার পঙ্কজ লাডিয়া, প্রেক্ষাগৃহের মালিক শতদীপ সাহা এবং ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস, ইমপার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত । আলোচনার মধ্যেই একটা দিক পরিষ্কার হয়ে যায়—বাংলা ছবির ভবিষ্যৎ নিয়ে এবার সকলে চাইছেন একসঙ্গে কাজ করতে।
ইমপার সভাপতি পিয়া সেনগুপ্ত আরও জানান, নভেম্বরেই বসবে স্ক্রিনিং কমিটির পরবর্তী বৈঠক। সেখানে ঠিক করা হবে ২০২৬ সালে কোন সময়ে কোন ছবি মুক্তি পাবে। বছরের শুরুতেই প্রকাশ পাবে সেই তালিকা, যাতে আর বিভ্রান্তি না তৈরি হয়।
ফোনে ধরা হলে ফেডারেশন সভাপতি স্বরূপ বিশ্বাস বলেন, “একসঙ্গে অনেক ছবি মুক্তি পেলে দর্শক যেমন বিভ্রান্ত হন, তেমনই চাপ পড়ে প্রেক্ষাগৃহের মালিক ও পরিবেশকদের উপরেও। তাই সব পক্ষের সঙ্গে কথা বলেই আমরা এই অবস্থান নিয়েছি। আশা করছি, এবার হয়তো সত্যিই একটা ভালো দিকের সূচনা হবে।” তাঁকে প্রশ্ন করা হয়, শোনা যাচ্ছে বছরের কিছু নির্দিষ্ট তারিখে প্রযোজকদের ছবিমুক্তি নিয়ে এই রৈরৈ কাণ্ডকে এড়াতে এক সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে স্ক্রিনিং কমিটির পক্ষ থেকে? স্বভাবসিদ্ধ হাসিতে তিনি বলেন, ‘ঠিকই শুনেছেন, তবে এ বিষয়ে এখনও কিছু বলার সময় আসেনি, সময়ে ঠিক তা প্রকাশ্যে আনা হবে।’
শিল্পী, প্রযোজক, পরিবেশক—সকলের মত যেন এক জায়গায় এসে মিলল এই বৈঠকে। পুজোর অশান্তির পর, এই শীতে বাংলা সিনেমা যেন খুঁজে পেল একটু শান্তি। বড়দিনের পর্দায় তাই দেখা যাবে না কোনও রেষারেষি, কোনও বিতর্ক, শুধু গল্প—আর দর্শকের হাততালি। তবু প্রশ্ন থেকে যায়—এই ঐক্যের আলোকরেখা কি টিকে থাকবে আগামী বছরেও? নাকি সময়ের সঙ্গে সঙ্গে ফের ঘনাবে দ্বন্দ্বের মেঘ?