গ্রামবাংলার নির্জন মাঠ থেকে শহুরে গলির ভিড়—সব জায়গাতেই রুদ্রজিতের ক্যামেরা খুঁজে নেয় অবৈধ পাখি শিকার আর মানুষের অন্তর্গত দমবন্ধ করা জীবনকে।

শেষ আপডেট: 26 October 2025 20:59
দ্য ওয়াল ব্যুরো: স্বাধীনতার মানে কী? শুধু খাঁচা খুলে দেওয়া নয়, মনের ভিতরের বন্দিত্বও ভাঙা। সেই কথাই যেন নতুনভাবে মনে করিয়ে দিলেন ডা. রুদ্রজিৎ রায়, তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য বাংলা চলচ্চিত্র ‘পিঞ্জর’-এ। একসঙ্গে বাস্তব ও রূপকের জালে বোনা এই ছবিতে ফুটে উঠেছে মানুষের ভেতরের বন্দি আত্মা, আর সেই সঙ্গে এক সমাজের কঠিন সত্যি।
গ্রামবাংলার নির্জন মাঠ থেকে শহুরে গলির ভিড়—সব জায়গাতেই রুদ্রজিতের ক্যামেরা খুঁজে নেয় অবৈধ পাখি শিকার আর মানুষের অন্তর্গত দমবন্ধ করা জীবনকে। ছবির পাঁচ চরিত্র—ঝিমলি, পারমিতা, শেফালি, তারক ও ইকবাল—প্রতিটি নাম যেন একেকটি প্রতীক। তাদের মধ্য দিয়ে দেখা যায় অশিক্ষা, দারিদ্র্য, গোঁড়ামি ও গার্হস্থ্য হিংসায় জর্জর সমাজের প্রতিচ্ছবি।

পরিচালকের ভাষায়, “পিঞ্জর আমার ব্যক্তিগত প্রতিবাদ—আমরা নিজেরাই চারপাশে যে খাঁচা তৈরি করি, তার বিরুদ্ধে। এই ছবির প্রতিটি চরিত্র আসলে সেই খাঁচার মানুষ। পাখিদের বন্দি দেখি, অথচ বুঝি না, নিজেরাও কতটা বন্দি আমরা।”
দুই বছরের গবেষণা ও গ্রামীণ অভিজ্ঞতা থেকে নির্মিত এই ছবিতে প্রতিটি দৃশ্যেই বাস্তব পাখিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা হয়েছে। রাহুল রায়ের চিত্রনাট্য আর মানস ভট্টাচার্যের ক্যামেরায় ছবিটি পেয়েছে কাব্যিক সৌন্দর্য। অভিনয়ে মমতা শংকর, মল্লিকা বন্দ্যোপাধ্যায় রায় সহঅনেকেই—তাঁরা সম্মানীর জন্য নয়, ভাবনার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে যুক্ত হয়েছেন এই যাত্রায়। রাহুল রায়ের চিত্রনাট্য ও মানস ভট্টাচার্যের ক্যামেরায় নির্মিতএই ছবি নিয়ে আশাবাদী সমালোচক মহল। সঙ্গীত পরিচালনায় রাতুল শঙ্কর।

ইতিমধ্যেই কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে জায়গা করে নিয়েছে ‘পিঞ্জর’। দেখা যাবে আসন্ন কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবেও। কঠোর বাস্তব আর কোমল মানবিকতার সংমিশ্রণে তৈরি এই ছবি শেষ পর্যন্ত এক প্রশ্নই রেখে যায়—সব খাঁচাই কি একদিন খুলে যাবে?