সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জীবনের সেই সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। কথোপকথনে উঠে এসেছে তাঁর বড় মেয়ে পায়েল সিনহার মৃত্যুর প্রসঙ্গ।

শেষ আপডেট: 13 December 2025 18:31
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সময় যেন তাঁকে আজও ছুঁতে পারেনি। মুখে সেই মায়াবী আলো, চোখে প্রাণের ঝিলিক। সাতাত্তর বছর বয়সেও মৌসুমী চট্টোপাধ্যায় জানেন কীভাবে হাসতে হয়, কীভাবে অন্যকে হাসাতে হয়। অথচ এই হাসির আড়ালেই জমে আছে এক গভীর শোক, এক না বলা যন্ত্রণা। সন্তান হারানোর ক্ষত, যা চাইলেই কি আর পূর্ণ হয়?
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জীবনের সেই সবচেয়ে অন্ধকার অধ্যায় নিয়ে মুখ খুলেছেন বর্ষীয়ান অভিনেত্রী। কথোপকথনে উঠে এসেছে তাঁর বড় মেয়ে পায়েল সিনহার মৃত্যুর প্রসঙ্গ। কীভাবে সেই শোক সামলে চলেছেন, কীভাবে নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছেন—সবটাই অকপটে জানিয়েছেন তিনি।
২০১৯ সালের ডিসেম্বর মাস। মাত্র পঁয়তাল্লিশ বছর বয়সে প্রয়াত হন মৌসুমীর বড় মেয়ে পায়েল। সেই মুহূর্তের স্মৃতি আজও তাঁকে তাড়া করে ফেরে। হাসপাতালের মর্গে মেয়ের নিথর দেহ দেখা, শ্মশানে চিতা জ্বলতে দেখা —এই সব দৃশ্য কোনও দিন ভোলা যায় না। মৌসুমী বলেন, সন্তানের মৃত্যু বাবা-মায়ের কাছে সবচেয়ে ভয়ংকর অভিজ্ঞতা। বাবা-মা হারানোর শোক যেমন স্বাভাবিকভাবে সমাজ মেনে নেয়, সন্তানের মৃত্যু সেই নিয়মের বাইরে।
সবচেয়ে বেশি ভেঙে পড়েন ছোট মেয়ে মেঘার কথা ভাবলে। মৌসুমীর কথায়, পায়েল ছিল মেঘার আর এক মা। দুই বোনের বয়সের ফারাক মাত্র আট বছর। তাই মেঘার চোখের জল দেখলে নিজের কান্নাটুকুও চেপে রাখতে হয় তাঁকে। স্বামীও আজও মাঝরাতে ঘুম ভেঙে পায়েলের নাম ধরে চিৎকার করে ওঠেন।
অভিনেত্রী জানান, বাইরের দুনিয়াকে তিনি দেখান সব ঠিক আছে। মেঘাকেও বোঝান—যা হওয়ার হয়ে গেছে, কষ্ট চেপে এগোতেই হবে। কিন্তু ভেতরে জমে থাকা ক্ষোভ সহজে বেরোয় না। হাসপাতালের বিল না মেটানোয় মেয়ের দেহ আটকে রাখা হয়েছিল, সেই অভিজ্ঞতা আজও দগদগে। আদালতের দ্বারস্থ হতে হয়েছে, একের পর এক কাগজে সই করতে হয়েছে—সব মিলিয়ে সেই সময়টা ছিল অসম্ভব যন্ত্রণার।
ছোটবেলা থেকেই জুভেনাইল ডায়াবিটিসে ভুগছিল পায়েল। ধীরে ধীরে অসুস্থতা বাড়ে। একসময় কোমার মতো অবস্থায় চলে যান তিনি। চিকিৎসা, হাসপাতাল, বাড়ি ফেরা—এই সবের মধ্যেই থেমে যায় এক জীবন।
মেয়ের মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ির সঙ্গে সম্পর্ক আরও তিক্ত হয়। নানা অভিযোগ ওঠে, নানা কথা শোনা যায়। তবু মৌসুমী বিশ্বাস রাখেন ঈশ্বরে। তাঁর আশা, একদিন সব অন্যায়ের বিচার হবে। কিন্তু সন্তান হারানোর যে শূন্যতা, সেই বোঝা আমৃত্যু বইতেই হবে—এই সত্যিটা তিনি মেনে নিয়েছেন।