স্টুডিওর মাইক্রোফোনে একসঙ্গে দুই বিপরীত রাজনৈতিক কণ্ঠ—পদ্ম আর ঘাসফুল। কারণ, এই একই দিনে সেখানে ডাবিং হচ্ছে অভিজিৎ সেনের ‘প্রজাপতি ২’ এবং অরিন্দম শীলের ‘কর্পূর’ ছবির।
.jpeg.webp)
মিঠুন চক্রবর্তী ও কুণাল ঘোষ
শেষ আপডেট: 26 October 2025 14:03
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হেমন্তের রোদেলা সকাল। লেক রোডের লেক টেরেসের বিখ্যাত রেকর্ডিং স্টুডিওটা আজ যেন ছোট হতে হতে চার দেওয়ালের মধ্যে এসে ঠেকেছে। যে চার দেওয়ালের মধ্যে হাজির হয়েছেন রাজনীতির বিপরীত মতাদর্শের দু'জন। একজন তৃণমূলের (TMC) কুণাল ঘোষ (Kunal Ghosh), অন্যজন বিজেপির মিঠুন চক্রবর্তী (Mithun Chakraborty)। দুই ‘দাদা’রই পথ বেঁধে দিয়েছে সিনেমার ডাবিং। রাজনৈতিক ময়দান নয়, এই সাক্ষাৎ সেলুলয়েডের। যদিও যতটুকু জানা গিয়েছে স্টুডিও এক হলেও, ফ্লোর আলাদা। একজন উপরে, একজন নীচে।

রবিবার সাদার্ন অ্যাভিনিউয়ের এই স্টুডিওতে ছিল ব্যস্ততার চূড়ান্ত আয়োজন। বাইরেটা যদিও চুপচাপ। ভিতরে টলিউডের দুই বড় ছবির প্রস্তুতি তুঙ্গে। দুপুর বারোটার মধ্যেই সাজানো হয়ে গিয়েছে ডাবিং শিডিউল।

স্টুডিওর মাইক্রোফোনে একসঙ্গে দুই বিপরীত রাজনৈতিক কণ্ঠ—পদ্ম আর ঘাসফুল। কারণ, এই একই দিনে সেখানে ডাবিং হচ্ছে অভিজিৎ সেনের ‘প্রজাপতি ২’ (Prajapati 2) এবং অরিন্দম শীলের ‘কর্পূর’ (Karpur) ছবির।
অভিজিৎ সেনের ‘প্রজাপতি’-তে দেবের সঙ্গে মুখ্য ভূমিকায় ছিলেন মিঠুন চক্রবর্তী। সিক্যুয়েলেও তিনি ফিরছেন সেই চরিত্রে, আর ডাবিংয়ের জন্য মুম্বই থেকে উড়ে এসেছেন কলকাতায়। অন্যদিকে, অরিন্দম শীলের নতুন ছবি ‘কর্পূর’-এর জন্য একই সময়ে ডাবিং করছেন 'অভিনেতা' কুণাল।
ব্যাক টু সেপ্টেম্বর। সেই সময় আইনি লড়াইয়ে মুখোমুখি হয়েছিলেন তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ও অভিনেতা-রাজনীতিক মিঠুন চক্রবর্তী। কুণালের এক মন্তব্যকে ঘিরে মিঠুন ১০০ কোটি টাকার মানহানির মামলাও দায়ের করেছিলেন।
পদ্মভূষণপ্রাপ্ত এই অভিনেতা তথা বিজেপি নেতার অভিযোগ ছিল, নিছক রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থেকেই কুণাল তাঁর এবং তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, কুরুচিকর ও অপমানজনক মন্তব্য করেছেন। মামলায় মিঠুন দাবি করেছিলেন, কুণালের ওই মন্তব্যের কারণে তাঁর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হয়েছে, তাই ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ কোটি টাকা দেওয়া হোক এবং ভবিষ্যতে এমন মন্তব্য করা থেকে তাঁকে বিরত রাখার নির্দেশ দিক আদালত।
এর আগে মিঠুন ওই বিষয়ে কুণালকে আইনি নোটিস পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু সেই পদক্ষেপে সন্তুষ্ট না হয়ে পরে সরাসরি আদালতের দ্বারস্থ হন তিনি। অন্যদিকে, কুণালও পাল্টা প্রতিক্রিয়া দিয়ে বলেছিলেন, “যা বলেছি, আদালতেই দেখা হবে।”
কিন্তু, রবি ঠাকুরের কবিতার মতোই এ যেন হঠাৎ দেখা। যদিও রেলগাড়ির কামরায় নয়, বরং লেক টেরেসের বিখ্যাত রেকর্ডিং স্টুডিওর কামরায়। নাটকীয় ব্যাপার হল স্টুডিওর প্ল্যানিংটা এমন ভাবে তৈরি যে সেখানে বসার জায়গা একটাই। ডাবিংয়ের মাঝে অবধারিত লাঞ্চ ব্রেকেও সকলকে একসঙ্গে বসতে হয়। ফলে দু'জনের দেখা হয়ে যাওয়া অসম্ভব কিছু না। এখন দেখার, পড়ন্ত বিকেল দুই রাজনীতিক তথা অভিনেতাকে মুখোমুখী দাঁড় করিয়ে ফেলতে পারে কিনা।