
শেষ আপডেট: 19 November 2023 14:19
"আমি একজন পুরুষ। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কলকাতার বাসিন্দা। 'অল বেঙ্গল মেনস ফোরাম'-এ এসেছিলাম একদম এক অন্যরকম সমস্যা নিয়ে। আমি অবিবাহিত। একটি মেয়ে আমায় বিয়ে করার জন্য খুব চাপ দিতে থাকে। যদিও তার সঙ্গে আমার প্রেমজ সম্পর্ক কোনদিন ছিল না। বিরক্ত করা এমন পর্যায় পৌঁছয় যে আমি প্রায় আত্মহত্যার কথা ভাবতে শুরু করেছিলাম। এমতাবস্থায় আমি অল বেঙ্গল মেনস ফোরাম-এর কথা জানতে পারি। তাঁরা আমার পাশে দাঁড়ান। আজ আমি নিরাপদ।"
"আমি 'অল বেঙ্গল মেন্স ফোরাম' এর একজন নতুন সদস্য। আমি একটি খুব অল্প মাইনের চাকরি করি । অনেক কষ্টে আমার অসুস্থ বাবাকে নিয়ে থাকি l পারিবারিক অশান্তির জেরে আমার স্ত্রী আমার ৫ বছরের মেয়েকে নিয়ে আমাদের বাড়ি ছেড়ে চলে যান এবং আমি, আমার বাবা আর আমার পরিবারের আরও চার পুরুষ সদস্যের নামে মিথ্যে POCSO মামলা করেন। পুলিশ আমাকে ফোন করে খুঁজতে থাকে। আমি প্রচণ্ড ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। তারপর অল বেঙ্গল মেন্স ফোরামের সঙ্গে যোগাযোগ করি। ওঁরাই আমাকে বাঁচান।"
এমন শোষিত পুরুষদের পাশে দাঁড়ান যিনি, তিনি নন্দিনী ভট্টাচার্য। সঙ্গে রয়েছে তাঁদের অল বেঙ্গল মেন্স ফোরাম। পুরুষদের মনের ঠিকানা।
আজ ১৯ নভেম্বর, আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবস। সারা বিশ্বব্যাপী পুরুষদের মধ্যে লিঙ্গ ভিত্তিক সমতা, বালক ও পুরুষদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করা এবং পুরুষের ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার লক্ষ্য হিসাবে এই দিবসটি উদযাপন করা হয়ে থাকে। আজ পুরুষ দিবসে মুখোমুখি 'অল বেঙ্গল মেন্স ফোরাম'-এর প্রেসিডেন্ট নন্দিনী ভট্টাচার্য। তাঁর সঙ্গে কথায় শুভদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়।
শুভদীপ- আজও বহু মানুষের কাছে পুরুষ দিবস শুধুমাত্র রসিকতার নামান্তর। পুরুষ দিবসের কী প্রয়োজন? নারী দিবসের মতো পুরুষ দিবসের গুরত্ব নেই সমাজে!
নন্দিনী- পুরুষরা নিজেরাও এর জন্য অনেকখানি দায়ী। পুরুষ মানুষ কোনওদিন তাঁদের নিজেদের সম্মান দেননি। তাঁরা কাউকে বোঝাননি আমাদেরও একটা দিবস আছে। সমাজে আমাদের অবদানেরও মূল্য দেওয়া হোক। পুরুষ মানুষ নিজেকে সবসময় Taken For Granted করতে শিখিয়েছেন। প্রত্যেকের ব্যক্তিগত সংসারেও পুজোর সময় বাবা নিজের জামাটা কেনেনি হয়তো। বাবা একটা পুরনো জুতো তাপ্পি মেরে পরে চালিয়ে দেন। বেশিরভাগ সংসারেই বাবা, বড় ভাই, অবিবাহিত ভাইয়েরা বলেন "আমাদের কিছু লাগবে না।" যতই বলুন সংসারে মেয়েদের আত্মত্যাগ বেশি, কিন্তু পুরুষদের আত্মত্যাগ অনেক বেশি ছিল। তাঁরা নীরবে সবকিছু করে গেছেন। সংসারে তাঁদের কথা কেউ কোনওদিন ভাবেননি।
কেন আজকে নারীদিবসের আগে এত ছাড়, এত সব দোকানে সেলিব্রেশন! কারণ নারী নিজের গুরুত্ব বিপণন করেছেন। নারীদিবসে পুরুষ তাঁর প্রিয় নারী, মা, স্ত্রী,বোন, প্রেমিকার জন্য উপহার কেনেন, এটা প্রায়ই দেখা যায়। কজন নারী তাঁর প্রিয় পুরুষের জন্য আন্তর্জাতিক পুরুষ দিবসে উপহার কেনেন? তাই পুরুষ দিবস নিয়ে বিপণন হয়নি। কোনও ছাড় নেই কোন কেনাকাটায়। এখন আমরা পুরুষ অধিকার কর্মীরা পুরুষ দিবস নিয়ে লড়াই করার পর সেলুনে বা কোথাও কোথাও ছাড় দেওয়া হয়। কিন্তু সেই অর্থে নারী দিবসের মতো পুরুষ দিবস এখনও মূল স্রোতে আসেনি। তবু আগে পুরুষরা জানতেন না তাঁদের দিন কবে, এখন সেটা জানেন। পুরুষ মানুষরা আয় করেছেন চিরকাল বেশি, কিন্তু তাঁদের ন্যূনতম ভাগও নিজেদের জন্য খরচ করেননি। অথচ তাঁর পয়সায় নারী বাজারে খরচ করেন। ঝগড়ায় যাচ্ছি না, কিন্তু নারীরা আয় করলেই নিজের জন্য শাড়ি কিনেছেন, সোনার গয়না বানিয়ে রেখেছেন। পুরুষ মানুষ করেননি কোনওদিন।
আমি সব মহিলাদের কাছে অনুরোধ করব, পুরুষ দিবসে আপনার প্রিয় পুরুষকে হীরের আংটি দেওয়ার দরকার নেই। অন্তত তাঁদের একটা গোলাপ ফুল দিন। দেখবেন আপনাদের ঘরের বাবা, স্বামী, পুত্ররা কত খুশি হবেন। পুরুষ মানুষ সত্যিই আশুতোষ। তাঁরা অল্পেই খুশি। মেয়েদের থেকে তাঁরা গয়না,গাড়ি,বাড়ি প্রত্যাশা করেন না। আজ তাঁদের পুরুষ দিবস উপলক্ষে ভাল রান্না করে খাওয়ালেন, সিনেমার টিকিট কেটে সিনেমা দেখালেন, ডিনারে নিয়ে গিয়ে বিলটা দিলেন। দেখবেন পুরুষ মানুষরা তাতেই খুশি।
শুভদীপ- পুরুষরা নিজেদের যত্ন নিলে, সাজলে তো সেটা মেয়েলি আখ্যা দেওয়া হয়?
নন্দিনী- পুরুষ মানুষ পার্লারে যাওয়া শিখল তো হালে। তাও কজন যান? ছেলেরা ফেসিয়াল করছে সেটা আজও রসিকতার বিষয়। পুরুষ পেডিকিওর ম্যানিকিওর করলে 'এ বাবাহ পুরো মেয়েদের মতো দেখ'। আজও পুরুষের ভাললাগাকে কেউ স্বাভাবিক তকমা দেন না। কারণ পুরুষ মানুষ নিজেকে সেই জায়গাটাতে নিয়েই যেতে পারেননি। গ্ল্যামার জগতের বাইরের পুরুষদের জন্য এসব বরাদ্দ ভাবাই হয় না।
শুভদীপ- অনেকেই বলেন চিরকাল শুনে আসছি 'পিতৃতান্ত্রিক সমাজ', তাহলে পুরুষের অধিকার নতুন করে কী প্রয়োজন?
নন্দিনী- পিতৃতান্ত্রিক সমাজে পুরুষরাই তো বেশি শিকার। এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজ শেখাল পুরুষকে শেখাল তোমায় কাঁদতে হবে না, তোমার মনের কথা বলা যাবে না, কারণ পুরুষ রবিনহুড, সে পুরুষ সিংহ। আর এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের ধারক এবং বাহক কারা? ছেলের পাতে মাছের পিস বড় দিয়েছেন কারা? দুধের গ্লাস ধরে দিয়েছেন কারা? মা, দিদিমা, ঠাকুমা, পিসিমা, মাসিমা এরাই তো? মেয়েরা শ্বশুরবাড়িতে আতঙ্কিত কাদের ভয়ে? শাশুড়ি ননদ। তাহলে সেই নারীরাই পুরুষের কাঁধে বন্দুক রেখে পিতৃতান্ত্রিক সমাজের জুজু দেখালেন এবং পুরুষই পিতৃতন্ত্রের শিকার হলেন। মেয়েরা তো অত্যাচারিত হয়েছেই যুগে যুগে শ্বশুরবাড়িতে গিয়ে। সেসবের প্রধান মদতদাতা শাশুড়ি-ননদ। নতুন বউয়ের গায়ের গয়না খুলেই এরাই সবার আগে নিজেদের আলমারিতে ঢুকিয়েছেন। ছেলেদেরও মদত দিচ্ছেন মেয়েরা। পুরুষ ক্রীড়নক মাত্র।
শুভদীপ- অনেকেই আছেন যাঁরা স্ত্রীর বশীভূত স্বামী। সংসারে স্ত্রীর ওপর গলা তুলতে পারেন না, স্ত্রীর হম্বিতম্বি সহ্য করে চলেছেন, স্ত্রীর কথায় ওঠেন বসেন। এই স্ত্রৈন্য স্বামীদের কী বলবেন?
নন্দিনী- এঁরা তো মরে বেঁচে আছেন। আমি বলব আপনারা প্লিজ বেরিয়ে আসুন। স্ত্রীর বশীভূত স্বামীরা নিজেরাও জানেন তাঁরা ভাল নেই। গলা না তুলে তুলে তাঁদের গলা দিয়ে আর আওয়াজ বেরোয় না। যে ভয়েতে আপনারা চুপ করে আছেন সেই আইনগুলোর আর খুব বেশি মূল্য এযুগে নেই। সন্তানের মুখের দিকে চেয়ে বহু পুরুষ স্ত্রীর মুখ ঝামটা মেনে নেন। তাহলে নাকি শেষ বয়সে সন্তানের কাছে থাকতে পারবেন। অথচ সেই সন্তান কিন্তু ১৪-১৫ বছরের হলেই আর বাবার দিকে ফিরেও তাকায় না। আজকের প্রজন্মটাই তাই। সন্তান দেখবে, এই আশা থেকে বেরিয়ে আসুন।
আজও পুরুষ মানুষ ভীষণ ভয় পান একা থাকতে। অসম্ভব টক্সিক সম্পর্কে থাকবেন পুরুষ মানুষ, রোজ ঝগড়া হবে, স্ত্রীর হাতে মার খাবেন তবু ভাববেন বাড়িতে তো কেউ আছে। একা তো থাকতে হবে না। মা বোনের কাছেও অনেক পুরুষ অত্যাচারিত। তাঁরা ওই টক্সিক সম্পর্কে থাকবেন কিন্তু বেরিয়ে যাবেন না। আমরা বলি, আপনার তো ক্ষমতা আছে একটা ফ্ল্যাটে একা থাকুন অশান্তির থেকে রেহাই পেতে। তাঁরা বলেন, না না। বারবার ছুটে আসছেন অশান্তির শিকার হয়ে কিন্তু এখনও ওইখানেই দাঁড়িয়ে আছেন।
শুভদীপ- শেষবয়সে একলা পুরুষকে কে দেখবে এই ভয় তো দেখানো হয়?
নন্দিনী- নরমাল রিলেশনশিপে যদি স্বামীর আগে স্ত্রী মারা যান আর আজকাল সবার সন্তান বাইরে থাকে, তো কে দেখে সেইসব পুরুষদের? ছেলেমেয়ে আজকাল খুব একটা কাউকে দেখে না। টক্সিক সম্পর্কের অপমান পুরুষের গায়ে লাগে না কারণ তাঁরা একা থাকতে সাহস পান না। যে কজন পুরুষ একা থাকতে পারেন, তাঁদের কোনওভাবেই মহিলারা বশীভূত করতে পারেন না। তাঁদের কাছে এসব টক্সিক মহিলা পাত্তা পান না।
শুভদীপ- পুরুষরা স্ত্রীর এত অত্যাচার বায়নাক্কা সহ্য করেন এর আরেকটা কারণ কি পুরুষ জাতি কামের কাছে পরাজিত?
নন্দিনী- ভীষণভাবে। পুরুষ মানুষ যেদিন কামের থেকে বেরিয়ে আসতে পারবেন সেদিন মহিলাদের এই পৃথিবীজোড়া চাহিদাটাই বন্ধ হয়ে যাবে। সেই বিশ্বামিত্রর সময় থেকে বারেবারে তাই মুনি ঋষিদের ধ্যানভঙ্গ করতে উর্বর্শী-মেনকাদের পাঠানো হত। মেয়েরা বশীভূত অর্থ-খ্যাতির কাছে। তাই বহু মেয়ের মডেল হওয়ার ফাঁদে পড়ে, গায়িকা হওয়ার ফাঁদে পড়ে সর্বনাশ হয়েছে। পুরুষ মানুষের জিনের ভিতর রয়েছে যে তাঁরা কামের কাছে বশীভূত। যে পুরুষ মানুষকে কাম দ্বারা বশীভূত করা যায় না, সেই পুরুষ মানুষকে নিয়ে কিন্তু মুশকিল আছে।
শুভদীপ- পুরুষদের নজরেই নাকি কামদৃষ্টি?
নন্দিনী- রিল মহিলারা কাদের দেখাতে বানান? আগে কিন্তু মহিলারা এতটা অসভ্য ছিলেন না। এখন বহু বিবাহিত মহিলাই যৌন অঙ্গভঙ্গি করে রিলস বানান। আপনারা বলবেন এটা আপনাদের স্বাধীনতা। বেশ তো। আপনারা ফাটা জিনস পরে বা নগ্ন হয়েই রিলস বানান, বুকের খাঁজ দেখিয়ে রিলস বানান সেটা আপনাদের অভিরুচি। সঙ্গে এটাও মনে রাখবেন পুরুষরা কীভাবে আপনাদের দেখবেন তা নিয়ে আপনারা হুলিয়া জারি করতে পারেন না। সব পুরুষ মানুষ মেয়েদের দেখলেই তাঁদের বুকের দিকে তাকান না।
এসব মহিলারা নিজেদের দেবী বানান। ওঁদের নাকি যৌন চাহিদা নেই। তাহলে মহিলারা যৌনগন্ধী রিলস নিশ্চয়ই মহিলাদের দেখানোর জন্যই বানান না? পুরুষ মানুষদের নীতিপুলিশ বা লোকাল গার্জেন রিল বানানো মহিলারা নন। পুরুষ মানুষদের বারবার বলছি জোর গলায় কথা বলতে শিখুন। 'মাই লাইফ মাই চয়েস' পুরুষ মানুষরাও বলুন। কণ্ঠ জোরে না হলে কিচ্ছু পাওয়া যায় না। রামকৃষ্ণদেব বলে গেছেন "বাচ্চা না কাঁদলে মা কিন্তু দুধও দেয় না।"
শুভদীপ- গুড টাচ ব্যাড টাচ শুধুমাত্র এ সমাজে শিশু কন্যাদের শেখানোর বুলি আওড়ানো হয়। শিশু পুত্রদের কোন স্পর্শ কেমন, তা শেখানোর দরকার নেই?
নন্দিনী- পুরুষ মানুষের শরীর বারোয়ারি। তাঁকে ছোটবেলা থেকেই তাঁর শরীরের অধিকার শেখানো হয় না। আমাদের দেশের বাবা মায়েদের সেই শিক্ষাই নেই। শিশুপুত্র যৌন নির্যাতনের শিকার হতে পারে, বাবা মায়েরাই ভেবে দেখেন না। হলেও পাত্তা দেন না। যেখানে ভারতবর্ষে শিশুপুত্ররা পুরুষ-নারী উভয়ের দ্বারা ৫৩% যৌন নির্যাতনের শিকার। পেডোফিলিয়ায় বহু পুরুষও আক্রান্ত। তারা বাচ্চা ছেলেদের যৌন হেনস্থা করে আড়ালে। সেই বাচ্চা ছেলেটার গলা তোলার সাহস নেই। কারণ সে বললেও বাবা মায়েরা বোঝে না। পর্নোগ্রাফিতেও বাচ্চা ছেলেদের বিশাল চাহিদা। বহু বিবাহিত ছেলের জীবন নষ্ট হয়ে গেছে ছোটবেলায় হওয়া যৌন নির্যাতনের জন্য। আমাদের এখনও অনেক শিক্ষিত হওয়া বাকি।
শুভদীপ- পুরুষ মানুষদের সহজেই স্পর্শ করা যায়?
নন্দিনী- ছেলেদের শরীর আমরা সেই ছোট থেকেই খালি গায়ে রেখেছি কেন? ছেলেদের শরীর বারোয়ারি জিনিস। ছেলেদের শরীরটাকেও যে পয়সা দিয়ে কিনতে হতে পারে তার মূল্য আমরা ছেলেদের শেখাইনি। একটা ছোট মেয়েকে ছোট বয়স থেকেই জামা কাপড় পরিয়ে রাখা শেখানো হয়। টয়লেট ছেলেরা যত্রতত্র রাস্তাঘাটে করেন। মেয়েরা কী করেন? যেখানে সেখানে প্রস্রাব করাও তো অস্বাস্থ্যকর। আসলে ছেলেদের শরীর হল ভেসে আসা মাল। যে যার খুশি মতো স্পর্শ করতে পারে। বাসে ট্রেনে মহিলারা ছেলেদের খারাপভাবে স্পর্শ করলে কোনও খবর হয় না কেন? ব্যবসা, টিআরপি ভাল উঠবে না বলে?
ছেলেদের শিক্ষা মানসিক স্বাস্থ্য যৌনতা কিচ্ছু নেই। খাটবে, পয়সা রোজগার করবে, সংসারে দেবে, তারপর মরে যাবে। এদের লজ্জা, আত্মহত্যা, মানসিক কষ্ট নিয়ে কেউ ভাবে না। আমিযাআইনের কথা বলছি না, আমি একটা পুরুষের সামগ্রিক হারিয়ে যাওয়া সম্মান ফিরিয়ে দেওয়ার লড়াই লড়তে চাই। পুরুষকেও তাঁর সম্মান নিয়ে বাঁচতে দিতে হবে। যখন তখন পুরুষের গায়ে তোলা যায় না।
শুভদীপ- পুরুষরাও তো বৈবাহিক ধর্ষণের শিকার হন, যেটা অনেকে ভাবতেই পারেন না?
নন্দিনী- প্রচুর আছে এমন উদাহরণ। আমাদের কাছে এমন স্বামী এসেছেন যাঁর বাবা মারা যাওয়ার পর গুরুদশাতেও স্ত্রীর শারীরিক চাহিদা মেটাতে হয়েছে। হয়তো তাঁর জ্বর হয়েছে, অফিসে টেনশন, কিন্তু রাতে স্ত্রীর ইচ্ছে করলে তাঁকে স্ত্রীর চাহিদা পূরণ করতেই হবে। পুরুষদের অবস্থা শাঁখের করাতের মতো। পুরুষ মানুষের সঙ্গমে লিপ্ত হতে ইচ্ছে না হলে সে নপুংসক আর তাঁর ইচ্ছে হলে যদি স্ত্রীর ইচ্ছে না হয়, তাহলে পুরুষটি হয়ে যাবেন জানোয়ার, বৈবাহিক ধর্ষক।
শুভদীপ- আপনার সাজ নিয়েও অনেকে বিদ্রুপ করছেন। পুরুষদের মতো চুল ছেঁটে আপনি নাকি নিজেকেও পুরুষ ভাবেন?
নন্দিনী- বয়ে গেছে। আই ডোন্ট কেয়ার। আমি কী সাজব, এটা আমার ব্যক্তিগত ব্যাপার। একটা কাজ করতে নেমেছি, সবাই ইয়েস বস বলবেন তাই কখনও হয়? যাঁদের আমার সাজ, আমার কথা গায়ে লাগছে তাঁদের জন্যই জানি আমি ঠিক পথে আছি।
শুভদীপ- পুরুষদের পুরুষ দিবসে কী বার্তা দেবেন সবশেষে?
নন্দিনী - আমিত্ব থেকে বেরিয়ে সবার কথা ভাবুন। সারাক্ষণ আমার বউকে ফ্ল্যাট কিনে দেব, আমার ছেলে বিদেশ যাবে করলে শেষ বয়সে তারাও আপনাকে দেখবে না। আপনিই তো তাদের স্বার্থপরতা শিখিয়েছেন। তাহলে ছেলে মেয়েরা বড় হয়ে আপনাকে দেখবে কেন? শিখিয়েছেন তাঁদের পরোপকারী হতে? একটু প্রাণ খুলে বাঁচুন। পুরুষরা আত্মনির্ভর হন শুধু আর্থিকভাবে নয়, সবদিক থেকে। সাংসারিক সব কাজ নিজেরা করুন। কোনও মহিলার করুণা নিতে হবে না। মনের অন্ধকার সরিয়ে আপন হতে বাহির হয়ে বিশ্ব মাঝে আসুন।
শুভদীপ- পুরুষদের জন্য কোন স্বপ্ন আছে আপনার?
নন্দিনী- ভবিষ্যতে একটা পুরুষ আশ্রম করতে চাই। অবহেলিত, শোষিত পুরুষদের থাকার জায়গা। আমাদের দেশে নিপীড়িত মহিলাদের,বয়স্কদের,শিশুদের আশ্রয় আছে, কিন্তু পুরুষদের নেই। বহু পুরুষকে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়, তাঁদের নামে ওয়ারেন্ট দেওয়া হয়। বহু পুরুষকে স্টেশনে রাত কাটাতে হয়। আমাদের টাকার জোর হলে পুরুষদের হোম করার ইচ্ছে আছে।