
মান্না দে
শেষ আপডেট: 1 May 2025 20:18
আজ একদিকে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস, অন্যদিকে কিংবদন্তী মান্না দে-র জন্মদিন। গানের জলসার সুখের সঙ্গে শ্রমিকের ঘাম ঝরা শ্রমের তুলনা চলে না। দুটো সম্পূর্ণ ভিন্ন মেরুর বিষয়। কিন্তু মান্না দের কন্ঠেই সুরে সুরে উঠে এসেছিল শ্রমিকদের ঘামঝরা দিনের গল্প। এই সংযোগ ঘটিয়েছিলেন আর এক কিংবদন্তী, তিনি সলিল চৌধুরী।
১৯৭৩ সালে মুক্তি পায় দীনেন গুপ্তর কালজয়ী ছবি 'মর্জিনা আবদাল্লা'। অতীতে ১৯৩৭ সালে মধু বসু বানিয়েছিলেন 'আলিবাবা'। দীনেন গুপ্ত সাতের দশকে আরও আধুনিক মোড়কে গড়ে তুললেন তাঁর ছবি। মুখ্য ভূমিকায় মিঠু মুখার্জী, দেবরাজ রায়, সন্তোষ দত্ত, শেখর চট্টোপাধ্যায়, উৎপল দত্ত প্রমুখ।

সলিল চৌধুরীর সুরারোপে এই ছবির প্রতিটি গান আজও কালজয়ী। লতা মঙ্গেশকর, মান্না দে ও সবিতা চৌধুরী গেয়েছিলেন এই ছবিতে। তবে একটি গান সে অর্থে কোন তারকা অভিনেতার লিপে ছিল না। কিন্তু সুর আর কথার মেলবন্ধনে গানটি মানুষের মুখে মুখে ফিরেছিল।
প্রধান চরিত্র আলি ভীষণ গরীব কিন্তু সে সৎ। দিন আনে দিন খায়। সে কাঠ কাটতে জঙ্গলে যেত তাঁর সঙ্গী সাথীদের সঙ্গে। গভীর জঙ্গলে সারা দিনের কাজ। কাঠ কেটেই চলে তাঁদের সংসার। কাঠুরিয়াদের ঘামে ঝরা শ্রম সলিল চৌধুরী তুলে আনলেন সুরে সুরে।
'ও ভাই রে ভাই , হে হে... আয় রে আয়
আয় রে কুড়ুল করাত নিয়ে, পোড়া বরাত নিয়ে
জঙ্গলে জঙ্গলে আয় রে
আয় রে কাঠ কাটি, কাঠ কাটি, কাঠ কাটি'
মান্না দের কন্ঠের সঙ্গে অনবদ্য কোরাসে এ গান এক নতুন মাত্রা যোগ করল। ভারতীয় সঙ্গীতে এমন শ্রমিক গান ইতিহাসে বেশ বিরল। সলিল চৌধুরীর মিউজিকের আসল ম্যাজিক ছিল কোরাসেই। এই গানে মান্না দের কন্ঠের আবেগ মিলে গেল দুরন্ত কোরাসের যুগলবন্দীতে। এ গান রেকর্ড করাও ছিল এক অনবদ্য ব্যাপার। মান্না দে রেকর্ডিংয়ের দিন ভবিষ্যৎ বাণী করেছিলেন 'এই গান ইতিহাস গড়বে'। তাই প্রমাণিত হল।
সন্তোষ দত্ত, মনু মুখোপাধ্যায় সহ আরও কিছু অনামী অভিনেতার লিপে এই গান সুপার ডুপার হিট হয়েছিল।
কাঠুরিয়াদের অভাবের জীবন কাহিনি মান্না দের গানে উঠে এল রুপোলি পর্দায়। যে জীবন দলিল জীবন্ত হয়ে উঠল প্রতিটি দর্শকের মনে।

পরিচালক দীনেন গুপ্ত আর সলিল চৌধুরী যে বড় সৃষ্টিশীল মানুষ ছিলেন তার প্রমাণ এই গান। মেনস্ট্রিম ছবিতে শ্রমিকের গান তাঁরা আনলেন, যা সাধারণ মানুষের মুখে মুখে ফিরল। তখনকার বাংলা ছবি এখানেই আধুনিক। এই গানের কথা তো আজও ভীষণ ভাবে সত্যি। কাঠুরিয়াদের গানে আর এই শ্রম বন্দী নেই। বঙ্গজীবনেও প্রতিটি ঘরে ঘরের প্রতিটি ছেলেমেয়েদের শ্রমের গল্প যেন এ গান।