
মমতা কুলকার্নি
শেষ আপডেট: 3 February 2025 16:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: বর্তমান প্রজন্মের হয়তো অনেকেই জানেন না। নয়ের দশকের শেষ দিকে করণ-অর্জুন ছবিতে একটা গান বাম্পার হিট করেছিল। ‘ছাদ পে শোয়া থা বহনৌ/ম্যায় তন্নে সমঝকার শো গাই...গুপ চুপ গুপ চুপ..”। ইলা অরুণের কণ্ঠে গান আর মমতা কুলকার্নির শরীরি আবেদন মিলেমেশে সেই কেমিস্ট্রি ছিল জমজমাট।
বলিউড তথা হিন্দি সিনেমায় বিস্মৃত হয়ে যাওয়া সেই মমতা কুলকার্নি প্রায় আড়াই দশক পর দেশে ফিরলেন। একসময়ে ২,০০০ কোটি টাকার মাদক মামলায় অভিযুক্ত হওয়ার পর থেকে মমতা দেশ ছেড়ে বাইরে ছিলেন। সম্প্রতি তিনি ইনস্টাগ্রামে একটি আবেগঘন ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে নিজের দেশে ফেরার অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
মমতা ভিডিওতে বলেন, “হাই, আমি মমতা কুলকার্নি। ২৫ বছর পর আমি ভারতে, বম্বেতে, আমাদের মুম্বাইয়ে ফিরেছি। ২০০০ সালে দেশ ছেড়েছিলাম, ২০২৪-এ ঠিক ২৫ বছর পরে ফিরে এসেছি। আমি খুবই অভিভূত। মুম্বই বিমানবন্দরে পা রাখার মুহূর্তে আমার চোখে জল চলে এসেছিল। উপরে থেকে আমার দেশকে দেখে আর নিজের মাটিতে পা রাখার অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।”
২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে মহরাষ্ট্রের ঠাণে পুলিশ একটি বড় মাদক কারবার ফাঁস করে। দুটি গাড়ি থেকে ৮০ লাখ টাকা মূল্যের ইফেড্রিন উদ্ধার করা হয়। পরে তদন্তে জানা যায়, মহারাষ্ট্রের সোলাপুরে অ্যাভন লাইফ সায়েন্সেস লিমিটেড নামে একটি কারখানা থেকে এই মাদক তৈরি এবং পাচার করা হচ্ছিল। কোম্পানিটির সাথে মমতা কুলকার্নির স্বামী ভিকি গোস্বামীর নাম জড়িত ছিল। অভিযোগ, মমতা কোম্পানির ডিরেক্টর হিসেবে ১১ লাখ শেয়ারের মালিক ছিলেন এবং মাদক পাচারের ষড়যন্ত্রে সরাসরি যুক্ত ছিলেন।
পুলিশের তদন্তে উঠে আসে, ১৮,০০০ কেজি ইফেড্রিন উদ্ধার করা হয় যার বাজারমূল্য ২,০০০ কোটি টাকা। অভিযোগ অনুযায়ী, মমতা এবং তার স্বামী তানজানিয়া ও দুবাইয়ে মাদক পাচার নিয়ে বৈঠক করেছিলেন।
View this post on Instagram
২০১৮ সালে মমতা কুলকার্নি বোম্বে হাইকোর্টে আবেদন করেন এই মামলা খারিজ করার জন্য। তিনি দাবি করেন, তাঁর বিরুদ্ধে কোনও প্রমাণ নেই এবং তিনি সম্পূর্ণ নির্দোষ। চলতি বছরের শুরুতে বিচারপতি ভারতী দাংরে এবং মঞ্জুষা দেশপান্ডের ডিভিশন বেঞ্চ তাঁর বিরুদ্ধে মামলা খারিজ করে দেন। আদালত জানায়, মমতার বিরুদ্ধে অভিযুক্ত হওয়ার মতো কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
এই রায় মমতা কুলকার্নির জীবনে এক বড় স্বস্তি নিয়ে আসে। তাঁর বিরুদ্ধে কেনিয়াতে বসবাসকালে যে প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল, সেটিও এখন বন্ধ হয়েছে।