
জয়া বচ্চন, মাধবী মুখোপাধ্যায়
শেষ আপডেট: 9 April 2025 21:33
ননদ-বৌদির সম্পর্ক মিষ্টিও হয় আবার তেলে-বেগুনেও হয়। বিশ্ব চলচ্চিত্রের ইতিহাসে তেমনই এক উজ্জ্বল ননদ-বৌদির চরিত্র আরতি আর তাঁর ননদ, বাণী। সত্যজিৎ রায়ের 'মহানগর' ছবিতে মাধবী মুখোপাধ্যায় হয়েছিলেন আরতি আর বাণীর চরিত্রে অভিনয় করেন জয়া বচ্চন। তখন জয়া ভাদুড়ি। এই 'মহানগর' ছবি দিয়েই ডেবিউ করেন জয়া।
আজ সেই বাণী তথা জয়া বচ্চনের জন্মদিনে 'মহানগর'-এর শ্যুটিংয়ের গল্প বললেন মাধবী মুখোপাধ্যায়।
সত্যজিৎ রায়ের 'মহানগর' মুক্তি পেয়েছিল ১৯৬৩ সালে। মাঝে পেরিয়ে গেছে ষাট বছর। সেই নাবালিকা জয়া আজ বচ্চন সম্রাজ্ঞী। তবু বৌদি মাধবীর মনে সেই ছোট্ট জয়া ভাদুড়ি আজও উজ্জ্বল।
মাধবী বললেন, 'জয়ার তখন ১২-১৩ বছর বয়স। একেবারেই ছোট মেয়ে। জয়ার বাবা ছিলেন সেইসময়ের বিখ্যাত কবি তরুণ কুমার ভাদুড়ি। তরুণ ভাদুড়ি সাংবাদিক এবং কাহিনিকারও ছিলেন। ওঁর কাহিনি নিয়ে মঞ্জু দে 'অভিশপ্ত চম্বল' ও কানন দেবীর স্বামী হরিদাস ভট্টাচার্য 'সন্ধ্যাদীপের শিখা' ছবি করেছিলেন। সুচিত্রা সেনের নামকরা ছবি। ওঁর বাবার সূত্রেই সত্যজিৎ বাবু জয়াকে 'মহানগর' ছবিতে নির্বাচন করেন। আমার ননদের রোলটা জয়া করেছিল।'
নরেন্দ্রনাথ মিত্রের একটি ছোট গল্প 'অবতরণিকা' অবলম্বনে নির্মিত 'মহানগর'। গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র এক গৃহবধূ আরতি। তিনি তাঁর রক্ষণশীল পরিবারের গণ্ডির বাইরে বেরিয়ে এসে সেলস গার্লের চাকরি নিয়েছিলেন। ছয়ের দশকে গেরস্থ বাড়ির বউয়ের বাইরে পা রেখে চাকরি করতে যাওয়া এক যুগান্তকারী ব্যাপার ছিল। সেই চিত্র মাধবীর মধ্যে দিয়ে তুলে ধরেন সত্যজিৎ রায়। তবে এখানে ননদ বাণী ছিল আরতির একেবারে সন্তানসম। স্নেহের সম্পর্কই ছিল ছবিতে।
মাধবীর কথায় 'জয়া খুব মিষ্টি ছিল। দেখতেও খুব সুন্দর ছিল। ছবিতে আমার একটা দৃশ্য ছিল, আমি কাজ থেকে খুব ঘেমেনেয়ে বাড়ি ফিরেছি। মেক আপ আর্টিস্ট অনন্ত বাবু আমার মুখে গ্লিসারিন মাখিয়ে দিয়েছিলেন। গ্লিসারিন মাখালে ঘামের মতো মুখে লেগে থাকে। শুধু জল দিলে পড়ে যায়। ঘাম মনে হয় না। সিনেমার মেকআপের এই টেকনিকটা খুব কম লোকে জানে। ওই দৃশ্যে আমি গ্লিসারিন মাখা মুখে শট দিতে এলাম। সিনটা ছিল ননদ জয়া এসে আমার মুখে একটা চুমু খাবে। বৌদি বাড়ি ফিরেছে তাই ছোট্ট ননদ আদর করছে। আমার এখনও মনে আছে জয়া আমার গালে চুমু খেয়ে বলল, 'মাধবীদি তোমার গালটা এত মিষ্টি?'
আমি বললাম 'গাল মিষ্টি না, মেকআপ মিষ্টি।'
তখন জয়া এত ছোট, আমার কথার মানেটা হয়তো ঠিক বুঝতে পারেনি। ওর প্রথম ছবি তো! একদম সারল্যে ভরা মেয়ে ছিল। ওর বাবার সাথেও পরিচয় হল। ভাল লাগল।'
'মহানগর' ছবিতে অভিনয় করেছিলেন অনিল চট্টোপাধ্যায়, মাধবী মুখোপাধ্যায়, জয়া ভাদুড়ি, শেফালিকা দেবী, হরেন চট্টোপাধ্যায়, হারাধন বন্দ্যোপাধ্যায় প্রমুখ। এই ছবি দিয়ে মাধবী পৌঁছে যান বিশ্বের দরবারে। সঙ্গে সঙ্গে জয়ার কাছেও খুলে যায় বলিউডের দরজা। সেসময় একাধিক বাংলা ছবিতেও দেখা গেছিল জয়াকে। 'ধন্যি মেয়ে', 'জননী', '৭৮ দিন পরে' প্রভৃতি। তারপরেই 'গুড্ডি' ছবি করে খ্যাতি পান বলিউডে।
মাধবী আরও বললেন, 'জয়া আমাকে এখনও ভীষণ ভালবাসে। কলকাতা চলচ্চিত্রে উৎসবে জয়া যখনই আসে, আমায় দেখে মাধবীদি বলে জড়িয়ে ধরে। জয়া ভীষণ সহজাত অভিনয় করে। ওর অভিনয়টা ভীষণ স্বতন্ত্র। নিজস্ব ব্যাপার ছিল বলেই জয়াকে আলাদা করা গেল বম্বের বাকি অভিনেত্রীদের থেকে। এই গুণটাই তো জয়াকে এত নাম, খ্যাতি, জনপ্রিয়তা দিল। আজ জন্মদিনে দ্য ওয়াল-এর মাধ্যমে আমার অনেক আদর পাঠালাম আমার ননদ জয়াকে।’