ছবির কাহিনি শুধু পর্দার গল্প নয়, পর্দার বাইরেও রয়েছে এক অসাধারণ বাস্তব কাহিনি।

শেষ আপডেট: 8 August 2025 08:24
দ্য ওয়াল ব্যুরো: একজন বাস কন্ডাক্টরের ছেলে। ছোট শহরে তাঁদের সাধারণ পরিবার। পড়াশোনার পরে ব্যাঙ্কের চাকরি। কিন্তু স্বপ্ন ছিল অন্য কিছু। সেই স্বপ্নে ভর করেই আজ তিনি ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় সুপারস্টারদের একজন, রজনীকান্তকে নিয়ে ছবি করছেন। হ্যাঁ, লোকেশ কানাগরাজের জীবনটা যেন রূপকথার মতোই।
১৪ অগস্ট মুক্তি পাচ্ছে লোকেশের নতুন ছবি ‘কুলি’ (Coolie), যেখানে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন থালাইভা রজনীকান্ত। কিন্তু এই ছবির কাহিনি শুধু পর্দার গল্প নয়, পর্দার বাইরেও রয়েছে এক অসাধারণ বাস্তব কাহিনি। কেননা, এই ছবির পরিচালকের বাবা ছিলেন এক সময়ে বাস কন্ডাক্টর, আর রজনীকান্ত নিজেও কর্মজীবনের শুরু করেছিলেন বাস কন্ডাক্টর হিসেবেই।
লোকেশের জন্ম কোয়েম্বাটোরের কিনাথুকাদাভুতে। সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারে বড় হওয়া এই তরুণ পড়াশোনা করেন ফ্যাশন টেকনোলজি নিয়ে, পরে এমবিএ করে ব্যাঙ্কে চাকরি পান। কিন্তু চাকরি করতে করতেই আবিষ্কার করেন তাঁর আসল আগ্রহ – সিনেমা। একটি কর্পোরেট শর্ট ফিল্ম প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে প্রশংসা পাওয়ার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি।
কোনও ফিল্ম স্কুলে পড়াশোনা করেননি, কাউকে অ্যাসিস্টও করেননি। নিজের সাহসে আর কল্পনাশক্তিতে প্রথমে দুটি শর্ট ফিল্ম (‘আচম থাভির’ ও ‘কালাম’) তৈরি করেন। পরে ‘আভিয়াল’ অ্যান্থলজিতে তাঁর কাজ জায়গা পায়। সেখান থেকেই নজর কাড়েন।
২০১৭ সালে মুক্তি পায় তাঁর প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্যের ছবি ‘মানাগরম’, যা তামিল সিনেমায় নতুন ধারার সূচনা করে। এরপর একের পর এক হিট—‘কাইথি’ (২০১৯), যা দীপাবলিতে বিজয়ের ‘বিগিল’-এর সঙ্গে টক্কর দিয়েও নিজের জায়গা করে নেয়। এই ছবি দিয়েই শুরু হয় লোকেশ সিনেম্যাটিক ইউনিভার্স।
তারপর আসে ‘মাস্টার’ (২০২১)—থালাপতি বিজয় ও বিজয় সেতুপতিকে এক ফ্রেমে আনা এই ছবি বাজিমাত করে বক্স অফিসে। পরের বছরেই তিনি পরিচালনা করেন কামাল হাসান অভিনীত ‘বিক্রম’, যা একদিকে তাঁর কেরিয়ারের অন্যতম সেরা কাজ, অন্যদিকে বাণিজ্যিক দিক থেকেও বিশাল সাফল্য।
২০২৪ সালে জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তটি আসে—রজনীকান্তের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পান লোকেশ। একটি ছবিতে এক বাস কন্ডাক্টর চরিত্রে অভিনয় করছেন সেই রজনীকান্ত, আর পরিচালক হিসেবে রয়েছেন আরেক বাস কন্ডাক্টরের ছেলে—লোকেশ নিজে।
‘কুলি’ ছবির অডিও লঞ্চে লোকেশ বলেন, “ছবির পোস্টারে রজনীকান্ত স্যারের হাতে থাকা ব্যাজে ১৪২১ নম্বরটি আসলে আমার বাবার কন্ডাক্টর ব্যাজ নম্বর। রজনীকান্ত স্যার আমায় জিজ্ঞেস করেছিলেন এই নম্বরটা ছবির গল্পের অংশ কিনা। আমি বলি, এটা আমার বাবার নম্বর। উনি বললেন, তুমি আগে বলোনি কেন? আমি বলি, আমি অপেক্ষা করছিলাম আপনি নিজে জিজ্ঞেস করেন, যাতে এই মুহূর্তটা স্মরণীয় হয়ে থাকে। ‘কুলি’ আমার বাবাকে উৎসর্গ করা।”
লোকেশ কানাগরাজের এই সফর শুধু একজন পরিচালকের সাফল্যগাথা নয়, এটা আসলে আশার গল্প, অনুপ্রেরণার গল্প। প্রথাগত কোনও ট্রেনিং ছাড়াই, কেবল ইচ্ছা আর নিষ্ঠায় ভর করে একের পর এক তামিল সুপারস্টারকে পরিচালনা করছেন তিনি। যে জীবনে শুরুর দিকটা ছিল বাসে টিকিট কাটা, সে জীবনই আজ থিয়েটারের টিকিট বিক্রির রেকর্ড ভাঙছে।