২০০৭ সালে লুইজিয়ানার নিউ অরলেন্স শহরের ঐতিহাসিক ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থিত এই বাড়িটি কেনেন নিকোলাস কেজ। বাড়িটি কেনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই চমকে ওঠে গোটা হলিউড।

শেষ আপডেট: 8 January 2026 14:27
দ্য ওয়াল ব্যুরো: হলিউড তারকা নিকোলাস কেজের নাম আলোচনায় উঠে এলেই যেমন স্মৃতিতে আসে তাঁর ব্যতিক্রমী অভিনয়, তেমনই মনে পড়ে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের নানা চর্চিত অধ্যায়। অভিনয়ের বাইরে এসব সিদ্ধান্ত বহুবার তাঁকে এনে দাঁড় করায় আলোচনার কেন্দ্রে। তেমনই এক আলোচিত ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রের নিউ অরলেন্সে অবস্থিত বহুল পরিচিত ‘দ্য লালারে ম্যানসন’ কেনা, যে বাড়িটি বিশ্বজুড়ে পরিচিত ‘অভিশপ্ত বাড়ি’ নামে। সেখানেই কিছু দিন ঠাঁই নিয়েছিলেন অভিনেতা। সবটা জেনেই কিনেছিলেন সেই বাড়ি। কারণ জানলে অবাক হবেন...
২০০৭ সালে লুইজিয়ানার নিউ অরলেন্স শহরের ঐতিহাসিক ফ্রেঞ্চ কোয়ার্টার এলাকায় অবস্থিত এই বাড়িটি কেনেন নিকোলাস কেজ। বাড়িটি কেনার খবর প্রকাশ্যে আসতেই চমকে ওঠে গোটা হলিউড। কারণ, এই বাড়ির সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে ভয়ানক এক ইতিহাস। উনিশ শতকে বাড়িটির মালিক ছিলেন ডেলফিনে লালারে নামের এক নারী, যাকে অনেকই পৃথিবীর প্রথম নারী সিরিয়াল কিলার হিসেবে উল্লেখ করেন। তাঁর হাতে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হয়েছিল অসংখ্য মানুষ। সেই স্মৃতি আজও এই বাড়িকে ঘিরে ভয়ের আবহ তৈরি করে রেখেছে। তাই বাড়িটিকে ‘পৃথিবীর সবচেয়ে অভিশপ্ত বাড়ি’ তকমা দেওয়া হয়। সেই বাড়ি কেউ সখ করে কিনতে পারেন! বিশ্বাস করতে পারছিলেন না অনেকেই।
জানা গিয়েছিল, ভৌতিক ইতিহাস ও রহস্যের প্রতি আগ্রহ থেকেই কেজ এই বাড়িটি কেনেন। তাঁর ইচ্ছা ছিল, এই বাড়িতে বসে এক ভয়ের উপন্যাস লিখবেন। বাস্তব জীবনের ভয়ংকর অতীত হয়তো তাঁর সৃষ্টিশীলতাকে উস্কে দেবে। সত্যি তেমন ঘটেছিল কি না, সে উত্তর জানা নেই কারও। তবে ভাগ্য যে অভিনেতার সঙ্গ ছেড়েছিল, তা স্পষ্ট হয়ে যায় কয়েকবছরের মধ্যেই।
নানা জল্পনায় শোনা যায়, আর্থিক সংকট ও বিতর্কের জেরেই ২০০৯ সালে, মাত্র দুই বছরের মাথায় বাড়িটি বিক্রি করে দেন নিকোলাস কেজ। একসময় যে বাড়ি তাঁর কাছে ভৌতিক কৌতূহলের কারণ ছিল, সেটিই শেষ পর্যন্ত হয়ে ওঠে তাঁর জীবনের আরও এক বিতর্কিত অধ্যায়।
ভৌতিক ইতিহাসে মোড়া ‘দ্য লালারে ম্যানসন’ তাই শুধু এক পুরোনো ভৌতিক বাড়ি নয়; এটি নিকোলাস কেজের খামখেয়ালি-কৌতূহলের একটি ছবিও বটে। তবে অনুরাগীদের মনে প্রশ্ন থেকেই যায়, অভিশপ্ত সেই বাড়ির দেয়াল কি কেজকে কোনও অজানা গল্প বলেছিল, নাকি সব রহস্য আজও নীরবতাতেই রয়ে গেল? সে উত্তর মেলা ভার।