ওয়েবসাইটগুলিকে আদালতের নির্দেশ, অভিনেতার নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর বা ‘খামোশ’ সংলাপ (Khamosh Dialogue) ব্যবহার করে যে সব ভিডিও বা পোস্ট আপলোড হয়েছে, তা অবিলম্বে মুছে ফেলতে হবে।

শত্রুঘ্ন সিনহা
শেষ আপডেট: 21 February 2026 19:35
দ্য ওয়াল ব্যুরো: তারকাদের বরাবরই প্রাইভেসির অভাব! পাপারাজ্জিদের লুকিয়ে গোপনে কাজ করা কোনও চ্যালেঞ্জের থেকে কম কিছু নয়। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে তাঁদের কণ্ঠস্বর, ছবিও সুরক্ষিত নেই। যেখানে সেখানে যে কেউ ব্যবহার করে ফেলছে, এইভাবেই নিজের সংলাপ 'খামোশ'-এর (iconic dialogue ‘khamosh’) 'অপব্যবহার' রুখতে আদালতে গিয়েছিলেন শত্রুঘ্ন সিনহা (Shatrughan Sinha)। আবেদন শুনে বম্বে হাইকোর্ট (Bombay High Court) তাঁর পক্ষেই রায় দিল।
শত্রুঘ্ন সিনহা আদালতে অভিযোগ জানান যে তাঁর নাম ও ছবি ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ায় নানা কনটেন্ট (Social Media Content) বানানো হচ্ছে। কোথাও তাঁর নাম, কোথাও তাঁর মুখ, আবার কোথাও ‘খামোশ’ ডায়লগ ব্যবহার করে ভুলভাবে প্রচার চলছে (Misuse of Khamosh)। তাঁর ব্যক্তিত্ব ও খ্যাতি কাজে লাগিয়ে এইসব কনটেন্ট বানানো হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
বম্বে হাইকোর্ট জানায়, 'খামোশ সংলাপটি শত্রুঘ্ন সিনহার (Shatrughan Sinha) নিজস্ব স্টাইল এবং ব্যক্তিত্বের সঙ্গে একান্তভাবে যুক্ত। অভিনেতার নাম, ছবি, স্টাইল, কণ্ঠস্বর— সবই তাঁর ব্যক্তিত্ব অধিকারের অন্তর্ভুক্ত, যা বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করা যাবে না।'
ওয়েবসাইটগুলিকে আদালতের নির্দেশ, অভিনেতার নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর বা ‘খামোশ’ সংলাপ (Khamosh Dialogue) ব্যবহার করে যে সব ভিডিও বা পোস্ট আপলোড হয়েছে, তা অবিলম্বে মুছে ফেলতে হবে। দ্বিতীয়, ভবিষ্যতেও তাঁর অনুমতি ছাড়া এ ধরনের কোনও কনটেন্ট আপলোড করা যাবে না।
অভিনেতার দাখিল করা নথিতে দেখা যায়, তাঁর ব্যক্তিত্বকে ভুলভাবে ব্যবহার করে বহু কনটেন্ট ছড়ানো হয়েছে। আদালত বলেছে, এগুলো তাঁর ব্যক্তিত্ব অধিকার, জনস্বার্থ অধিকার এবং গোপনীয়তার সরাসরি লঙ্ঘন।
‘পার্সোনালিটি রাইটস’ কেন এখন আরও গুরুত্বপূর্ণ?
হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ, ডিজি টাল যুগে তারকাদের নাম ও ছবি বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করে অর্থ উপার্জনের চেষ্টা বাড়ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI ব্যবহার করে নকল কণ্ঠস্বর, নকল মুখ, নকল ভিডিও তৈরি করা হচ্ছে, যা অভিনেতাদের ব্যক্তিগত অধিকারের বড় ক্ষতি করছে।
হাইকোর্টের এই অন্তর্বর্তী নির্দেশের পর মামলার পরবর্তী শুনানি হবে ৩০ মার্চ। ততদিন পর্যন্ত শত্রুঘ্ন সিনহার ব্যক্তিত্বের অধিকার নিয়ে কোনও রকম লঙ্ঘন হলে তা আদালত-অবমাননা হিসেবে গণ্য হতে পারে।