টলিপাড়া থেকে তিনিই প্রথম দেখা করলেন প্রয়াত গায়কের পরিবারের সঙ্গে।

জোজো
শেষ আপডেট: 12 November 2025 00:09
গত ১৯ সেপ্টেম্বর কিংবদন্তী গায়ক জুবিন গর্গের মৃত্যুর পর সঙ্গীত জগতে শোকের ছায়া নেমে এসেছিল। তাঁর মৃত্যুতে শুধু অসম নয়, গোটা সঙ্গীত জগৎ শোকস্তব্ধ। এরই মাঝে প্রয়াত গায়কের শেষ ছবি 'রই রই বিনালে' মুক্তি পেয়েছে। টলিউডের সঙ্গে জুবিন গর্গের সম্পর্ক ছিল বহুদিনের, আর সেই সুবাদে জোজো এবং জুবিনের মধ্যেও ছিল গভীর বন্ধুত্ব।
কয়েকদিন আগেই জোজোর শাশুড়ির মৃত্যু হয়েছে। সেই কাজ মিটিয়েই গায়িকা সোজা অসমের গুয়াহাটিতে পৌঁছে যান। জোজো অসম যাওয়ার আগে বিমানবন্দরেই জানিয়েছিলেন যে, জুবিন এবং তিনি খুব ভাল বন্ধু ছিলেন। তিনি জানতে পারেন, জুবিনের স্ত্রী গরিমা গর্গের শরীর ভীষণভাবে অসুস্থ। সেই খবর শুনেই বন্ধু-পত্নীর পাশে দাঁড়ানোর জন্য জোজো অসমের পথে রওনা দেন। গুয়াহাটিতে পৌঁছেই জোজো প্রথমে জুবিন গর্গের বাড়িতে যান। সেখানে তিনি প্রয়াত বন্ধুকে শ্রদ্ধাজ্ঞাপন করেন এবং জুবিনের বাবার সঙ্গে কথা বলেন।
সেখানের বর্তমান পরিস্থিতি কেমন আছে, তা জানতে দ্য ওয়ালের তরফ থেকে জোজোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, "প্রথমে যখন বিমানবন্দরে নেমে, আমি ওঁর বাড়ির দিকে রওনা দিলাম, তখন দেখি আসমের প্রতিটা জায়গায় জুবিনের ছবি। যেতে যেতে আমার স্কুলের ব্যানারের দিকে চোখ পড়ল, সেখানেও দেখছি শুধুই ওঁর ছবি, তাতে কোথাও মালা পরানো, কোথাও ফুল দেওয়া।"
জুবিনের বাড়ির পরিস্থিতি এখন কেমন আছে, তা নিয়ে জোজো বলেন, "ওঁর বাবা খুবই অসুস্থ। জুবিনের ছবির সামনে গিয়ে আমি একবার কেঁদেও উঠেছিলাম। কিন্তু ওঁর বাবা সামনে বসেছিল বলে, আমি নিজেকে সামলে নিয়েছি। গরিমার সঙ্গে যখন কথা বলছিলাম, তখন ওঁকে আমি বললাম যে, তুমি যেভাবে জুবিনকে সব সময় আগলে রাখতে, ওঁর সঙ্গে থাকলে বোধহয় এই অঘটন ঘটত না।'
জোজো আর জুবিনের বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল এক রিয়্যালিটি শো-র মঞ্চে। প্রায় দেড়-দু’ বছর ধরে চলেছিল সেই অনুষ্ঠান। মঞ্চের আলো, সুরের ওঠানামা আর প্রতিযোগিতার উত্তেজনার মাঝেই ধীরে ধীরে গড়ে উঠেছিল তাঁদের গভীর বন্ধুত্ব। সময়ের সঙ্গে সেই বন্ধুত্ব আরও মজবুত হয়। তবে একসঙ্গে কোনও গান বা কাজ করার সুযোগ পাননি তাঁরা। জুবিন নিজের কণ্ঠে বাংলা সঙ্গীতকে বারবার নতুন প্রাণ দিয়েছিলেন। তাঁর গাওয়া অসংখ্য হিট গান আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে বাজে।