
শেষ আপডেট: 7 September 2023 12:36
ভোর হতেই বিভিন্ন মাল্টিপ্লেক্সের বাইরে লম্বা লাইন। যা দেখে বলে দেওয়ার অপেক্ষা রাখে না যে, শো হাউজফুল। ভোর বলা ভুল, মাঝ রাতের শো-ও হাউজফুল। আট থেকে আশির ভিড় হলের বাইরে। হ্যাঁ, ঠিকই ধরেছেন, 'জওয়ান' জ্বরে ভুগছে গোটা দেশ (Jawan Movie Review)!
বছরের শুরুতে 'পাঠান' দিয়ে কামব্যাক করেছিলেন শাহরুখ খান (Shahrukh Khan)। চার বছর পর বড়পর্দায় ফিরে মানুষকে কাত করে দিয়েছিলেন নিজের ক্যারিশমায়। শুধু 'পাঠান' নয়, চলতি বছরে আরও দু'টো ছবির ঘোষণাও করেছিলেন কিং খান। এ বছর শাহরুখের দ্বিতীয় ছবি 'জওয়ান' নিয়ে প্রথম থেকেই আলাদা উন্মাদনা ছিল ফ্যানদের মধ্যে। সেইসঙ্গে প্রশ্ন ছিল একটাই, 'পাঠান'কে কি ছাপিয়ে যেতে পারবে 'জওয়ান'?
আসলে এই ছবিতে শাহরুখের যেন নিজেকেও ছাপিয়ে যাওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। সেই চ্যালেঞ্জ কেমনভাবে সামলালেন বলিউড বাদশা? প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার আগে ছবিটিকে নিয়ে একটু কাঁটাছেঁড়া করা যাক। তবে একটা কথা বলা যায় যে, 'পাঠান' যদি আগুন হয়, 'জওয়ান' তবে দাবানল।

ছবির মূল আকর্ষণ যে শাহরুখ খান, সে আর আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না। ছবিটি শুরু হয় আজ থেকে ৩০ বছর আগের সময়কালে। গুলিবিদ্ধ, গুরুতর জখম এক ব্যক্তিকে জল থেকে উদ্ধার করেন গ্রামবাসীরা। তাঁদের সেবায় আস্তে আস্তে সেরে ওঠেন ওই অপরিচিত। এরমধ্যে আচমকাই একদিন গ্রামে হামলা করে বসে গুন্ডারা। তাঁদের আক্রমণে যখন পর পর গ্রামবাসীরা প্রাণ হারাচ্ছেন, সেইসময় ত্রাতা হয়ে ওঠেন ওই জখম ব্যক্তিটি। হ্যাঁ, শাহরুখ খান।
সেখান থেকে একেবারে ৩০ বছর পর পরিচালক অ্যাটলি গল্পকে (Jawan Movie Review) নিয়ে এসে ফেললেন মুম্বই শহরে। মেট্রো হাইজ্যাকের গল্প দিয়ে শুরু হয় ছবি। পাঁচ মহিলা হাইজ্যাক করে মেট্রোটিকে। আর তাঁদের নেতৃত্বে সেই শাহরুখ। তাহলে কি এই গল্পের ভিলেন শাহরুখ খান, নাকি পিছনে রয়েছে অন্য কোনও গল্প? তা তো ছবি দেখলেই বোঝা যাবে।

ছবির পরতে পরতে পরিচালক প্রতিটি চরিত্রকে 'লার্জার দ্যান লাইফ' হিসেবে ফুটিয়ে তুলেছেন। শুধু শাহরুখ নয়, প্রতিটি চরিত্রকে আলাদা আলাদা তুলির টানে 'জওয়ান'-এর ক্যানভাসে এঁকেছেন পরিচালক। পাশাপাশি, চরিত্রগুলির 'অতীত জীবন'ও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে সুন্দরভাবে।

এছাড়াও 'জওয়ান'-এ শাহরুখ ছাড়া যদি দ্বিতীয় স্থানে আর কারও নাম নিতে হয়, তাহলে সেটা অবশ্যই বিজয় সেতুপতি। খলনায়কের ভূমিকায় তিনি যে অপ্রতিরোধ্য, তা বুঝিয়ে দিয়েছেন। স্ক্রিনে দেখে আপনার গা রাগে চিড়বিড় করে উঠতে পারে, এতেই সাফল্য বিজয়ের। পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় নয়নতারাকে খুবই ভাল মানিয়েছে। সেই সঙ্গে তাঁর উপস্থিতি স্ক্রিনে আলাদাই সুগন্ধ ছড়িয়েছে। যা আপনি চোখ দিয়ে অনুভব করতে পারবেন। ছোট্ট চরিত্রে দীপিকা পাডুকোনও (Deepika Padukone) নিজের সেরা দিয়েছেন।

ছবির গল্প ও চিত্রনাট্য নিয়ে আপনি যদি মাথা ঘামাতে যান, তাহলে ভুল করবেন। তবে বিনোদনের জন্য দেখতে গেলে হল ছেড়ে বেরোনোর পর আপনি বলবেনই, 'পয়সা উসুল'! একটা, দু'টো গান ছাড়া ছবির মিউজিক তেমন দাগ কাটতে পারেনি। তবে আলাদা করে বলতেই হয় আবহসঙ্গীতের ব্যবহার। গোটা ছবি জুড়েই অনিরুদ্ধ যেন ম্যাজিক তৈরি করেছেন।

শেষে আসা যাক, ছবির মূল পুঁজি অ্যাকশন দৃশ্যে (Jawan Action Sequence)। 'পাঠান'-এর সঙ্গে যদি তুলনা টানতেই হয়, তাহলে বলা উচিত, প্রথম ছবিটি দেখে আপনি যতটা থ্রিলড হয়েছেন, এই ছবির অ্যাকশন আপনাকে আরও কয়েকগুণ বেশি থ্রিলের জোগান দেবে। ২ ঘণ্টা ৪৯ মিনিটের এই ছবির একদম শুরু থেকে শেষ অবধি সমান গতিতে এগিয়েছে গল্প। তবে যেই প্রশ্নটা বারবার উঠছিল, শাহরুখ এই ছবিতে নায়ক নাকি খলনায়ক, তার উত্তর একেবারে নিজস্ব ঢঙেই দিয়েছেন পরিচালক অ্যাটলি। সেই উত্তর পাওয়ার জন্য যেতে হবে সিনেমাহলেই।
আরও পড়ুন: মেয়ের হাত ধরে তিরুপতি মন্দিরে শাহরুখ, ছবির সাফল্য কামনায় ঈশ্বরের শরণাপন্ন অভিনেতা