অভিনেত্রীর জীবনে আলো যেমন আছে, তেমনই আছে অনিশ্চয়তার ছায়া। অথচ তাঁর নাম শুনলে আজও দর্শকদের চোখে ভেসে ওঠে সেই হাসিখুশি মিঠাইরানি— ঘরের মেয়ে, পাড়ার আদরিণী, আর বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম সেরা সাফল্যের মুখ।

সৌমিতৃষা কুণ্ডু।
শেষ আপডেট: 17 November 2025 14:33
দ্য ওয়াল ব্যুরো: অভিনেত্রীর জীবনে আলো যেমন আছে, তেমনই আছে অনিশ্চয়তার ছায়া। অথচ তাঁর নাম শুনলে আজও দর্শকদের চোখে ভেসে ওঠে সেই হাসিখুশি মিঠাইরানি— ঘরের মেয়ে, পাড়ার আদরিণী, আর বাংলা টেলিভিশনের অন্যতম সেরা সাফল্যের মুখ। সেই সৌমিতৃষা কুণ্ডুই নাকি খুব শিগগির ছোট পর্দায় ফিরছেন— কয়েকদিন ধরেই এমন কথা ভেসে বেড়াচ্ছিল টলিপাড়ায়। খবর পেয়ে উচ্ছ্বাস সামলাতে পারছিলেন না নায়িকার অনুরাগীরা। কিন্তু আদৌ কি সত্যি?
ছোট পর্দায় বহুদিনের পরিশ্রম। সৌমিতৃষাকে ঘরে ঘরে পৌঁছে দিয়েছিল জনপ্রিয় ধারাবাহিক মিঠাই। ৫৩ সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে টানা বেঙ্গল টপার! না পরকীয়া, না অলৌকিক কাহিনি— শুধুই পরিবার, সম্পর্ক, ভালবাসার বন্ধন আর নিখাদ মানসিকতার গল্পেই মাতিয়ে রেখেছিল লক্ষ লক্ষ দর্শককে। সেই সাফল্যের সঙ্গেই জুড়ে আছে সৌমিতৃষা ও আদৃতের অনবদ্য জুটি।
সিরিয়াল শেষ হতেই জীবনে এল বড় চমক। দেবের নায়িকা হিসেবে বড় পর্দায় তাঁর আত্মপ্রকাশ— ‘প্রধান’, তারপর ‘১০ই জুন’, আর ওয়েব সিরিজ ‘কালরাত্রি’। সম্প্রতি শেষ করেছেন কালরাত্রি ২-এর শুটিংও। এর ফাঁকে সোশ্যাল মিডিয়ায় তাঁর বেকিংয়ের ভ্লগ যেন অন্য এক রূপে চেনায় তাঁকে— নিজের হাতে তৈরি সুস্বাদু রেসিপিতে মুগ্ধ হন দর্শকরাই।
ঠিক এর মধ্যেই রটতে শুরু করল নতুন গুঞ্জন— লীনা গঙ্গোপাধ্যায়ের হাত ধরে নাকি তিনি ফের ছোট পর্দায় ফিরছেন। কোথায় কোন গল্প, কান পাতলেই যেন ভেসে আসছিল নানা তথ্য। আর সেই জল্পনাতেই ইতি! যখন যোগাযোগ করল হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা। সৌমিতৃষা সাফ জানালেন— “গোটা খবরটাই ভুয়ো। একটি ফেক পোর্টাল থেকে এই খবর করা হয়েছে। আমি জানি না কেন মানুষ ওই ভুয়ো পোর্টালের খবর এত সিরিয়াসলি নিচ্ছে!”
ওদিকে চলতি বছরটা যেন তাঁর জন্য ছিল দুঃসহ। বছরের শুরুতে কিডনিতে স্টোন। তারপর ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত হয়ে সেপ্টেম্বরে ভর্তি হতে হয় হাসপাতালে। কলকাতা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের উদ্বোধনে মুখ্যমন্ত্রীর আমন্ত্রণ পেয়েও হাজির হতে পারেননি। হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেলেও এখনও চিকিৎসকের পরামর্শে বিশ্রামে। তাঁর অসুস্থতার সময় মন্দিরে পুজো দিয়েছেন ভক্তরা, সবার একটাই প্রার্থনা— দ্রুত কাজে ফিরুন তাঁদের প্রিয় ‘মিষ্টি’ মিঠাই।