
শতাক্ষী-বরখা-সুজিত
শেষ আপডেট: 10 January 2025 14:48
‘বাড়িওয়ালি’। প্রয়াত পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের পরিচালনায় এক জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত ছবি। সেরা ছবির জন্য জাতীয় পুরস্কার তো বটেই, মনোনয়ন জমা পড়েছিল সেরা অভিনেত্রী বিভাগেও। ‘বাড়িওয়ালি’ ছবিতে মুখ্য চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অনুপম খেরের স্ত্রী কিরণ খের। কিরণ অবাঙালি মানুষ। চরিত্রের ডাবিং করেন রিতা কয়রাল। কিন্তু সেই কাজের জন্য কোনওদিনও স্বীকৃতি পাননি রিতা।
শেষ সময়ে রিতা এও বলেছিলেন, ‘ডাবিং করা কণ্ঠস্বর হলে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনয়ন পান না কোনও অভিনেতা কিংবা অভিনেত্রী। আবার অনেক সময়ে ডাবিং করেছেন যিনি, তিনিও মনোনয়ন পেতে পারেন। এটা শুনে আমি উচ্ছ্বসিত ছিলাম। পরে জানতে পারি, ডাবিং করেছি, সেই তথ্য লুকিয়ে মনোনয়ন পাঠানো হয়েছে। গোপন করা হয়েছে।’
দেবের ‘খাদান’ (Khadaan)-এর সঙ্গেও ঘটনার কিছুটা সাদৃশ্য রয়েছে। তবে পুরোটা নয়। ঠিক কেমন তা!
সুজিত রিনো দত্ত পরিচালিত ‘খাদান’ ছবিতে যমুনা চরিত্রে অভিনয় করেছেন বরখা বিশত। বরখা অবাঙালি! তিনি আধো আধো বাংলা বলতে পারেন। তবে স্বচ্ছন্দ নন। ঠিক ‘বাড়িওয়ালি’-র কিরণ খেরের মতো। ‘খাদান’-এ সম্ভবত সেই কারণেই বরখার কণ্ঠস্বর ব্যবহার করা হয়নি। বরং যমুনার কন্ঠে ডাব করেছেন আর এক জনপ্রিয় অভিনেত্রী। তিনি শতাক্ষী নন্দী (Satakshi Nandy)। প্রদীপ্ত ভট্টাচার্য পরিচালিত প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘বিরহী’তে অভিনয় করে নজর কেড়েছিলেন শতাক্ষী।
সূত্রের খবর, অভিনেত্রী বরখা (Barkha bisht Sengupta) অবাঙালি হওয়ার কারণেই, তাঁর বলা বাংলা সংলাপ যমুনা চরিত্রের সঙ্গে যুৎসই হচ্ছিল না। এবং সে কারণেই শতাক্ষীর ডাক পড়ে। পরিচালক সুজিত রিনো দত্তর সঙ্গে পূর্ব পরিচিত ছিলেন শতাক্ষী, তাই রাজিও হয়ে যান।
সম্প্রতি প্রতিম ডি গুপ্ত মুক্তিপ্রাপ্ত ছবি জিয়াউল ফারুক অপূর্বর অভিনীত চরিত্রে ডাব করেছেন অভিনেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। শুধু তাই নয়, ‘অপরাজিত’ ছবিতে জীতু কমলের কণ্ঠস্বর ডাবিং করেছিলেন চন্দ্রাশিস রায়।
এখন প্রশ্ন হল, খাদানের ফিল্ম ক্রেডিটে কি ডাবিং আর্টিস্ট বিভাগে নাম রয়েছে শতাক্ষী নন্দীর? এ প্রশ্ন নিয়েই ফোন করা হয় পরিচালক সুজিত রিনো দত্তকে। তিনি অনিশ্চিতভাবেই বললেন, “ক্রেডিট আমরা দিয়েছি’, খানিক থেমে ফের বলেন, ‘যদি না দেওয়াও থাকে...এটা নিয়ে বিতর্ক করবেন?”
বাড়িওয়ালি ছবিতে ডাবিং আর্টিস্ট হিসাবে রিতা কয়রালের নাম না থাকায় বিতর্ক হয়েছিল। পরিচালক ঋতুপর্ণ ঘোষের উচ্চতা এবং রীতা কয়রালের পরিচিতি এমনই ছিল যে বিতর্ক হওয়াটা ছিল স্বাভাবিক। বরখার কন্ঠ ও শতাক্ষীর ডাবিং নিয়ে তেমন বিতর্কের সম্ভাবনা হয়তো কম। তবে হ্যাঁ, একটা ফাঁক তো থেকেই গেল। নইলে ‘খাদান’ এমনই এক ছবি যা নিয়ে দেব-কূল উচ্ছ্বসিত। একের পর এক বক্সঅফিসে রেকর্ডের গণ্ডি পেরোচ্ছে দেবের ‘খাদান’। বারবার প্রমাণ করছে বাঙালির দৌড় কতদূর! দর্শকের ভালবাসা উপচে পড়ছে ‘খাদান’-এর বক্স অফিসে। বাংলায় পুষ্পা-টু নিয়ে আলোচনাকে পিছনে ফেলে এখন ‘খাদান’ֹই টপ অফ দ্য মাইন্ডে।