1.png)
ইমন-সায়ন-অনির্বাণ
শেষ আপডেট: 3 December 2024 16:21
দ্য ওয়াল ব্যুরো: সকালবেলার খবরে বেশ শোরগোল পড়ে গিয়েছে। বাঙালির বাংলা ছবি অস্কার নমিনেশনে স্থান পেয়েছে। এমন খবরে যারপরনাই সোশ্যাল মিডিয়ায় হৈহৈ কাণ্ড। ইমন চক্রবর্তী (Iman Chakraborty) রয়েছেন শুটিংয়ে। একের পর এক ফোন ঢুকছে সকাল থেকে। অন্যদিকে ছবির পরিচালক ইন্দিরা ধর মুখোপাধ্যায়, (Indira dhar mukherjee) তিনিও সোশ্যাল শেয়ার করে চলেছেন ‘পুতুল’-এর অস্কার নমিনেশনের নিউজ লিঙ্ক। অস্কারে নমিনেটেড হয়েছে ছবির মৌলিক গান এবং মৌলিক ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। গানটি গেয়েছেন ইমন, সুর করেছেন সায়ন গঙ্গোপাধ্যায় (Sayan Ganguly)। লিখেছেন অনির্বাণ ভট্টাচার্য। (Anirban Bhattacharyya)
‘দ্য ওয়াল’-এ অস্কার (97th Academy Awards) খবর পাওয়ার পর প্রথম প্রতিক্রিয়া দিয়েছেন সঙ্গীতশিল্পী ইমন। ইন্দিরাও জানিয়েছেন তেমনটাই। বাকি ছিল সায়ন এবং অনির্বাণ। ফোনে ধরা হলে সায়ন বললেন ‘বেশিরভাগ কাজ অর্থাৎ সুর করেছি, তাতে জড়িয়ে খুনখারাপি, মার্ডার, রাহাজানি। এই প্রথম কোনও সাদামাটা কাজ করলাম। এক কথায় এই ছবির গান কিংবা স্কোর, দুটোই একেবারে সহজ। উচ্চকিত কোনও শব্দ নেই। যা বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার হয়েছে, তা মৌলিক...’
‘পুতুল’ ছবিটি পশশিশুদের গল্প বলে। যে শিশুরা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ভিক্ষা করে। সিগন্যালে গাড়ি দাঁড়ালে হাত পাতে, তাদের কথা। অন্যদিকে সামাজিক দায়িত্ব, যা আমাদেরই তুলে নেওয়া প্রয়োজন, সেই গল্পও বলে। চেতনবোধ গড়ার কথাও। এমন এক ছবির মিউজিক নির্মাণে আপনাকে খুনখারাপির বেড়াজাল ভাঙতে হলো...
‘আমায় পরিচালক বলে দিয়েছিলেন, আর্তি আনতে হবে, সুরে। তখন আমার ২২ বছর ধরে শেখা ক্ল্যাসিকাল সঙ্গীতের যে চর্চা, তার কাছে নিজেকে আবার সঁপে দিলাম। সেতার, বাঁশি, বেহালার উপরেই কাজ শুরু করলাম। নিজে কাজ করে একটা তৃপ্তি পেয়েছি।’ বললেন সায়ন।
‘ইতি মা’ গানটির প্রসঙ্গে সায়ন বললেন, ‘আমি অনির্বাণ ভট্টাচার্যর উপর ভরসা একটু বেশিই করি। ওকে ফোন করে বলি, একটা ছবি হয়েছে, তুমি যদি এসে দেখো তাহলে সেটা থেকে একটা গান লিখতে হবে। ইমোশনাল ছবি যথারীতি। বাচ্চাদের গান, বাচ্চাদের কাছে যাবে, ব্যস!’
অনির্বাণ ভট্টাচার্য ব্যস্ত মানুষ। পত্রিকা থেকে বিজ্ঞাপন আবার কখনও নিজেই করছেন অভিনয়। যাকে বলে বহুমুখী প্রতিভা। কয়েকবার ফোন বাজতেই ফোন ধরে বললেন, গান বানানোর গল্প।
‘সায়নের সঙ্গে আমি আগেও কাজ করেছি। বলা হয়েছিল একটা অ্যান্থেমের মতো কিছু করতে। মানে মুখে মুখে ছড়াবে এরকম একটা ব্যাপার, সেটা একটা বড় চ্যালেঞ্জ। কঠিন করে মানে নিজের মতো করে লিখব, নাকি সহজ করে সেটা নিয়ে একটা দ্বন্দ্ব চলছিল। যেহেতু আমার নিজেরও মেয়ে রয়েছে, তাই সেই ইমোশনটা এসে গিয়েছিল।’
সিনেমার গানের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় হয়ে ওঠে ছবির দৃশ্যও। সেটা মেপেই যদি গান লেখা হয়, তাহলে সম মাত্রিক এক অর্থ ব্যক্ত হয়। কাজ করার সময় এমনটাই কি মনে হয়েছিল? প্রশ্ন শুনে অনির্বাণ বললেন, ‘রাস্তার একটা মেয়েকে দত্তক নেবেন একজন যাঁর আবার নিজের সন্তান মারা গিয়েছেন। আমি যা লিখলাম, একটা মেঘ থেকে বৃষ্টি মাটিতে পড়বে। মেঘের সন্তান বা মেঘের শিশু ওই বৃষ্টির ফোঁটাটা মাটিতে যখন পড়ছে সেই মাটিও মা হয়ে তাকে ধারণ করছে। অর্থাৎ, ওই জলের ফোঁটা ‘মেঘের’ থেকে আরেক মা ‘মাটির’ কাছে গেল। এভাবেই গানটা তৈরি হল। বিশেষভাবে বলা উচিত সেই বাচ্চাগুলোর কথা যাদের কোরাস না থাকলে ব্যাপারটা হত না।
সকালে যখন খবরটি পেলেন কী মনে হল?
‘শুনে পুরো ঘেঁটে গিয়েছিলাম। আমার নিজের ঠাকুরদা বাণী কুমার। প্রমথেশ বড়ুয়ার, দেবদাসের গান লিখেছেন। তবে, গীতিকার হিসেবে এমন স্বীকৃতি পাননি। আমি যখন অস্কারের খবরটা পেলাম, ঠাকুরদার কথা মনে পড়ছিল। আমার দাদা চন্দ্রিল একজন জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকার। কাজেই মনে হচ্ছিল আমি এর যোগ্যই নই। সব মিলিয়ে এখনও একটু ঘেঁটেই আছি।’ বললেন গীতিকার অনির্বাণ ভট্টাচার্য।
অস্কার কমিটির দ্বারা গঠিত হয় বিভাগীয় নির্বাচনী দল। সঙ্গীত ক্যাটগরিতে নির্বাচন প্রক্রিয়ার জন্য তৈরি হয়েছে তেমনই এক দল। তারাই ভোটদানের মাধ্যমে বেছে নেবে মোট ১৫টি মৌলিক গান ও ২০টি মৌলিক ব্যাকগ্রাউন্ড স্কোর। আগামী ৯ থেকে ১৩ ডিসেম্বর অবধি চলবে প্রথম রাউন্ডের নির্বাচন। শর্টলিস্টেড অর্থাৎ বাছাই হওয়া গানগুলোর নাম ঘোষণা করা হবে ১৭ ডিসেম্বর।