‘রঙ্গীলা’র পুনরায় মুক্তির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। সেই উত্তেজনার মাঝেই পরিচালক রাম গোপাল বর্মা শেয়ার করলেন এক চমকে দেওয়া স্মৃতি—‘হায় রামা’ গানটি তৈরির নেপথ্য কাহিনি

রহমান-রামগোপাল।
শেষ আপডেট: 27 November 2025 16:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ‘রঙ্গীলা’র পুনরায় মুক্তির কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গেছে। সেই উত্তেজনার মাঝেই পরিচালক রাম গোপাল বর্মা শেয়ার করলেন এক চমকে দেওয়া স্মৃতি—‘হায় রামা’ গানটি তৈরির নেপথ্য কাহিনি, যা নাকি তাঁকে এমন পর্যায়ে ঠেলে দিয়েছিল যে তিনি সত্যিই এ আর রহমানকে মারতে চাইছিলেন! সম্প্রতি এক আলাপচারিতায় বর্মা জানান, কীভাবে প্রতিভার সঙ্গে ধৈর্যের টানাপড়েন তাঁর জীবনে এই গান তৈরির সময় রীতিমতো শিক্ষা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
পরিচালক জানান, ‘হায় রামা’ তৈরির জন্য দুই শিল্পী পাড়ি দিয়েছিলেন গোয়ায়। প্রথম দিনেই রহমান তাঁকে বলেছিলেন, “রামু, একটা চিন্তা করছি… কাল শোনাব।” দ্বিতীয় দিনেও একই কথা, তৃতীয় দিনেও নতুন কোনও অগ্রগতি নয়। পাঁচ দিন কেটে গেল—কিন্তু নোটেশনের এক টুকরো লাইনও তৈরি হল না। শেষে রহমান বললেন, তিনি চেন্নাই ফিরে গিয়ে পাঠিয়ে দেবেন!
রাম গোপাল বর্মার তখন তো মাথায় হাত। এত দিন কী করছিলেন সুরকার? উত্তর এল অনেক পরে। রহমান নিজেই স্বীকার করেন, “আর একবার যদি আমাকে হোটেলে নিয়ে আসো, দেখবে যেন রুমে টিভি না থাকে। এই পাঁচ দিন আমি শুধু টিভিই দেখেছি!” সেই মুহূর্তে নাকি রাগে তাঁর মাথা ঘুরে গিয়েছিল, বর্মা স্পষ্ট বলছেন—“ওকে সত্যিই মারতে ইচ্ছা করছিল আমার।”
তবু রাগের ভাঁজ গিয়েছিল দ্রুতই। কারণ চেন্নাই থেকে ফিরে এলে যে সুর পৌঁছেছিল তাঁর হাতে—তা শুনে সমস্ত অপেক্ষা, সমস্ত দেরি, সমস্ত ক্ষোভ মুহূর্তে মিলিয়ে যায়। বর্মার কথায়, “মহৎ কিছু পেতে হলে ধৈর্য ধরতেই হয়… আর শেষে সেটা সত্যিই সার্থক হয়ে ওঠে।”
অবশেষে ১৯৯৫ সালে ‘রঙ্গীলা’র পর্দায় উঠে আসে ‘হায় রামা’। আমির খান, উর্মিলা মাতোন্ডকর ও জ্যাকি শ্রফ অভিনীত সেই দৃশ্য আর রহমানের আবেশী সুরে এমন এক জাদু ছড়ায়, যা নব্বইয়ের দশকের সুরসংগীতকে নতুন দিশা দেখায়। গানটি আজও শ্রোতাদের হৃদয়ে প্রথম দিনের মতোই সতেজ, কোমল, আবেদনময়।
কিন্তু প্রশ্নটা আজও জাগে—যে মানুষটিকে টিভি দেখা আটকাতে পারেননি রামু, সেই তিনিই কি-না গড়ে দিলেন এক অনন্ত সৃষ্টি! তাহলে প্রতিভা কি কখনও নিয়ন্ত্রণে থাকে? নাকি বিশৃঙ্খলাই জন্ম দেয় শ্রেষ্ঠ শিল্প?