হৃতিকের ছবি, নাচের দৃশ্য, অভিনয় কুশলতা ও আদবকায়দার ডিফ ফেক ছবি, এআই নির্ভর ছবি এবং অরিজিনাল দৃশ্য কেটে রিল তৈরি ইত্যাদি বন্ধের আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি।

হৃতিকের আইনজীবী কিছু ছবি এবং নাম বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের নমুনা পেশ করেন আদালতে।
শেষ আপডেট: 15 October 2025 15:11
দ্য ওয়াল ব্যুরো: দিল্লি হাইকোর্টে বুধবার বিরাট স্বস্তি পেলেন বলিউড অভিনেতা হৃতিক রোশন। নায়কের বেশ কিছু লিঙ্ক, ইন্টারনেটের লিস্টিং ও ই-কমার্স ওয়েবসাইটে যেমন খুশি তেমনভাবে বাণিজ্যকরণের চেষ্টা বন্ধ করে সেগুলি মুছে ফেলার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট। ব্যক্তিত্ব রক্ষার অধিকার যা স্বত্বাধিকার আইনের আওতায় পড়ে, সেই আইনে অননুমোদিতভাবে হৃতিকের ছবি, নাচের দৃশ্য, অভিনয় কুশলতা ও আদবকায়দার ডিফ ফেক ছবি, এআই নির্ভর ছবি এবং অরিজিনাল দৃশ্য কেটে রিল তৈরি ইত্যাদি বন্ধের আর্জি জানিয়েছিলেন তিনি।
হাইকোর্ট অবশ্য এদিন আদালতে একতরফাভাবে ইনস্টাগ্রাম পেজ ও অভিনেতার ফ্যান ক্লাবগুলির পেজ বন্ধের নির্দেশ দিতে অস্বীকার করে। বিচারপতি মনমিত প্রিতম সিং অরোরা নির্দেশে বলেন, অভিনেতার ফ্যান পেজগুলি বন্ধ করা যাবে না। কারণ এর মধ্যে কোনও বাণিজ্যিক লক্ষণ কিংবা হৃতিকের নাম ও ছবি ব্যবহারের পিছনে কোনও লাভজনক উদ্দেশ্যের প্রমাণ মেলেনি। এগুলিতে হৃতিক সম্পর্কে কোনও অবমাননাকর কনটেন্টও নেই।
হৃতিকের আইনজীবী কিছু ছবি এবং নাম বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের নমুনা পেশ করেন আদালতে। যেমন- তাঁর নাম ও ছবি, স্বাক্ষর নকল করে তৈরি ব্যাগ, পোশাক ইত্যাদি। যার ফলে হৃতিক রোশন কোনও আর্থিক সুবিধা পাচ্ছেন না, অথচ তাঁকে ব্যবহার করে বাণিজ্যিক মুনাফা তোলা হচ্ছে। সাধারণ লোক বিভ্রান্ত হয়ে এগুলি কিনছেন।
রোশনের আইনজীবী আরও জানান, হৃতিকের নাচের কৌশল ভিডিও করে চালানো হচ্ছে নাচের ক্লাস। অনলাইন বা অফলাইনে দুটো মাধ্যমেই এর প্রমাণ হাজির করেন তিনি। এর জবাবে আদালত বলে, এটা একটা গান যাতে হৃতিক রোশন নেচেছেন। তাঁরা নাচের কৌশল শেখাচ্ছেন, একে বাণিজ্যিক পণ্য বিক্রির সমতুল বলে ধরাটা ঠিক নয়। এই অবস্থায় আমি প্রভাবিত না হলেও এগুলি জনসমক্ষে সহজেই পাওয়া যায়, যে কেউ এগুলি ব্যবহার করতে পারে।
হৃতিক রোশন ছাড়াও কয়েকদিন আগেই প্রখ্যাত গায়ক কুমার শানুও দিল্লি হাইকোর্টে এই একই ব্যক্তিত্ব রক্ষা অধিকার আইনে আর্জি জানিয়েছিলেন। এঁরা ছাড়াও বেশ কয়েকজন সেলেব্রিটি একই মামলা করে রেহাই পেয়েছেন। তাঁরা হলেন- ঐশ্বর্য রাই বচ্চন, অভিষেক বচ্চন, করণ জোহর, আক্কিনেনি নাগার্জুন, সুনীল শেঠি প্রমুখ।