২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি—সেই দিনই যেন লেখা হয়ে গেল জীবনের নতুন অধ্যায়। বিয়ের বন্ধনে বাঁধলেন জুবিন আর গরিমা।
.png.webp)
শেষ আপডেট: 22 September 2025 20:51
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ১৯ সেপ্টেম্বর, সঙ্গীতের ইতিহাসে অভিশপ্ত এক দিন। সিঙ্গাপুরের সমুদ্রেই নিভে গিয়েছিল জুবিন গর্গের জীবনপ্রদীপ। গায়কের প্রয়াণের পর ফের আলোচনায় এসেছে তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক অনন্য অধ্যায়—ফ্যাশন ডিজাইনার গরিমা সাইকিয়া গর্গের সঙ্গে তাঁর প্রেমকাহিনি। যা নিছকই প্রেম-আখ্যান নয়, যেন সাক্ষাৎ রূপকথা।
ভক্তের চিঠি, শুরু এক রূপকথার
জুবিন নিজেই একাধিকবার বলেছেন, পড়াশোনার সময়ে তাঁর জীবনে একাধিক সম্পর্ক এসেছিল। সেই অভিজ্ঞতা থেকে জন্ম নেয় তাঁর সৃষ্টির চরিত্র—জুনমনি বা রুনজুন। কিন্তু গরিমার আগমন যেন ছিল ভাগ্যের লেখা। মুম্বইয়ে পড়াশোনা করতে গিয়ে হঠাৎই বাড়ি ফেরার টান অনুভব করেন গরিমা। আশ্রয় খুঁজে নেন জুবিনের গান অনামিকা আর মায়া-তে। ভক্ত হিসেবেই এক চিঠি। অজস্র চিঠির ভিড়ে শিল্পী সবসময় উত্তর দিতেন না। কিন্তু সেই বিশেষ চিঠিই পালটে দিয়েছিল দু’জনের সম্পর্কের সমীকরণ।

ভালবাসার টানাপড়েন
চিঠি থেকে শুরু—তারপর প্রেম। তবে পথটা একেবারেই মসৃণ ছিল না। গরিমার পরিবার বিশেষ করে তাঁর বাবা এই সম্পর্ক মেনে নিতে চাননি। অন্যদিকে, জুবিনের অস্থির স্বভাবও কখনও কখনও গরিমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল। বিচ্ছেদ এসেছিল, ভেঙে পড়েছিলেন জুবিন। হতাশা গ্রাস করেছিল সৃজনশীলতাকে। কিন্তু যে টান দুজনকে একবার জুড়ে দিয়েছিল, সেই টান শেষ পর্যন্ত আলাদা করতে পারেনি তাঁদের।
সুখী গৃহকোণ
২০০২ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি—সেই দিনই যেন লেখা হয়ে গেল জীবনের নতুন অধ্যায়। বিয়ের বন্ধনে বাঁধলেন জুবিন আর গরিমা। তারপর কেটে গেছে দুই দশকেরও বেশি সময়। খ্যাতির ঝলক, ভক্তদের উন্মাদনা, আবার অস্থিরতার কালো রাত—সবকিছুর মাঝেই গরিমা ছিলেন তাঁর পাশে, অটল, অদম্য। বেসামাল জীবনে জোড়া তার হয়েই আগলে রেখেছিলেন জুবিনকে।

মর্মান্তিক সমাপ্তি
কয়েক দিন আগেই সিঙ্গাপুরে গিয়েছিলেন ‘নর্থ ইস্ট ইন্ডিয়া ফেস্টিভ্যাল’-এ যোগ দিতে। সেখানে সাগরে সাঁতার কাটতে নেমেই ঘটে বিপর্যয়। প্রথমে শোনা যায় স্কুবা ডাইভিং দুর্ঘটনা, পরে প্রকাশ্যে আসে সত্যি—লাইফ জ্যাকেট খুলে জলে নামার পর আর ভেসে ওঠেননি জুবিন। অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও আর ফিরলেন না জীবনের মঞ্চে। মৃত্যু সনদে লেখা থাকল — 'জলে ডুবে মৃত্যু'।