Date : 14th Apr, 2026 | Call 1800 452 567 | info@thewall.in
লোকাল ট্রেনের টিকিটে বিরাট ছাড়! ৫ টাকার টিকিট এখন কত পড়বে? জেনে নিন বিস্তারিতTB Vaccine: যক্ষ্মা প্রতিরোধে কতটা সফল নতুন টিকা? ট্রায়ালের রিপোর্টে আশার আলোর পাশাপাশি উদ্বেগের সুর বিজ্ঞানীদের'বাঙালি ব্রিটিশদের সামনে মাথা নত করেনি, আর এই বহিরাগতরা আমাদের কী করবে?' বিজেপিকে তোপ অভিষেকেরসাইলেন্ট লাং ডিজিজ: কাশি মানেই কি ক্যানসার? দূষণে ফুঁসছে ফুসফুস, কখন দরকার ট্রান্সপ্লান্ট?'ইগো সরিয়ে রাখুন', নিজেদের মধ্যে মতভেদ সরিয়ে এক হয়ে লড়ার নির্দেশ অভিষেকেরভাইরাল ভিডিও হাতিয়ার করে শাহের তোপ! হুমায়ুনকে ‘দিদির এজেন্ট’ বলে কটাক্ষ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীরগরমে মেজাজ হারালেন কর্মীরা! চুঁচুড়ায় নিজের দলের লোকেদেরই বিক্ষোভের মুখে দেবাংশুবার্নল-বোরোলিন বিতর্ক, ‘লুম্পেনদের’ হুঁশিয়ারি দিয়ে বিপাকে ডিইও, কমিশনকে কড়া চিঠি ডেরেক ও’ব্রায়েনেরভাঁড়ে মা ভবানী! ঘটা করে বৈঠক ডেকে সেরেনা হোটেলের বিলই মেটাতে পারল না 'শান্তি দূত' পাকিস্তানসরকারি গাড়ির চালককে ছুটি দিয়ে রাইটার্স থেকে হাঁটা দিলেন মন্ত্রী

স্টুডিও বন্ধক রেখে, আইডিয়া কুড়িয়ে 'স্নো হোয়াইট'-কে গড়েছিলেন ডিজনি, ঠিক যেন পথের পাঁচালী

দেনার বিপুল দায় মাথায় নিয়ে ১৯৩৭ সালের বড়দিনে মুক্তি পায় 'স্নো হোয়াইট অ্যান্ড সেভেন ডোয়ার্ফস।' বাকিটা ইতিহাস।

স্টুডিও বন্ধক রেখে, আইডিয়া কুড়িয়ে 'স্নো হোয়াইট'-কে গড়েছিলেন ডিজনি, ঠিক যেন পথের পাঁচালী

নিজস্ব ছবি

শেষ আপডেট: 21 December 2024 16:17

দ্য ওয়াল ব্যুরো: 'পক্ষীরাজ ঘোড়ায় চড়ে আসবে সে রাজকুমার'—রূপকথার মানেই যেন এমন কিছু। ইংরাজিতে যাকে বলে ফেয়ারি টেলস। ছোট থেকে সেই স্বপ্নের রাজকুমারের অপেক্ষায় থাকা মেয়েটি যখন বড় হয়ে যায়, তখনই তাঁকে ঘিরে ধরে কঠিন বাস্তব। কিন্তু তাই বলে কি রূপকথায় ভাসা যাবে না? এমনটা আবার হয় নাকি! তেমনই এক গল্প হল 'স্নো হোয়াইট'। এই রূপকথার গল্প সিনেমায় রূপ পেয়েছিল অনেক কাঠ খড় পুড়িয়ে। সব কিছুরই যেমন শুরু থাকে, তেমনই ডিসনির এই প্রথম অ্যানিমেটেড সিনেমারও একটা শুরু ছিল। পথের পাঁচালি বা এমন একাধিক ছবির মতো এর পিছনেও কারও একজনের অদম্য জেদ ও ইচ্ছেশক্তি লুকিয়ে ছিল। ১৯৩৭ সালে আজকের দিনে মুক্তি পেয়েছিল 'স্নো হোয়াইট।' তারই নেপথ্যের গল্প আজ বলবে দ্য ওয়াল। 

সালটা ১৯৩৪। কয়েক বছর আগে স্টুডিও চালাতে গিয়ে দেউলিয়া হয়েছেন ডিজনি। শেষ মুহুর্তে হাল ধরেছিলেন দাদা রয়। এই পরিস্থিতিতে এক বিকেলে আচমকা ডিজনি স্টুডিওর সব অ্যানিমেটরদের ডেকে নিলেন ডিজনি নিজে। কোনও মিটিং না। জানালেন, তিনি এক গল্প শোনাবেন। চারিদিকে চেয়ার পেতে বসে পড়ল সবাই। মাঝে দাঁড়িয়ে গল্প শোনালেন ডিজনি। অনর্গল বলে গেলেন এক অপরূপ কাহিনী। এক সুন্দরী রানি, তার সৎ মেয়ে আর সাত বামনের গল্প। প্রতিটা চরিত্র, তাদের হাবভাব, কথাবার্তা, নকল করে দেখালেন পর্যন্ত। ঠিক যেমন ভাবে গল্পের সমস্ত চরিত্রদের অঙ্গভঙ্গি পর্যন্ত এঁকে ফেলতেন সত্যজিৎ রায়। ঠিক তেমন। দেখালেন সেই ছোট্ট মেয়ের নাচ, বামনদের ঝুঁকে চলা, রানির শয়তানি হাসিতে 'হু ইজ দ্য ফেয়ারিয়েস্ট অফ অল'  জিজ্ঞাসা করা। গল্প যখন শেষ, সবাই চোখ মুছতে ব্যস্ত। যা শেষ হওয়ার আগদেই বোমা ফাটালেন ডিজনি। বলে উঠলেন, 'আমি ভাবছি এই গল্পটা নিয়ে একটা ফুল লেন্থ একটা সিনেমা বানাব।' এই কথা শুনে অনেকে এতটাই অবাক হয়ে গেছিল যে চোখ মুছতেও ভুলে গেল। কী বলছেন ডিজনি? তখন শুধুই ঘর ভর্তি গুঞ্জন ও একরাশ ভয় মেশানো কৌতুহল।

অ্যানিমেশন মানেই ছোট ছোট ছবি। ডিজনির অ্যানিমেটাররা তাই দেখে এসেছেন। সিনেমার আগে বা পরে দেখানোর জন্য তৈরি হত সেগুলি। তাতে খাটনি কম। লাভ অনেক বেশি। কোনওরকম ঝুঁকি প্রায় নেই বলেই চলে। তিন-চার মিনিটের সিলি সিম্ফনি আর মিকি মাউসের শর্ট অ্যানিমেশন দেখিয়ে ডিজনি তখন দেদার কামাচ্ছেন। সেই বাজারে এত বড় ঝুঁকি নেওয়া সোজা খাদে ঝাঁপ দেওয়ার সমান। কিন্তু ডিজনি যেন অন্য কিছু ভাবছিলেন। তিনি দাদা রয় আর তাঁর স্ত্রী লিলিয়ানকে এতে সামিল করালেন। তাঁরাও খাতা কলম নিয়ে বসলেন হিসাব কষতে। খুব কম হলেও পাঁচ লক্ষ ডলার খরচ (আসল খরচ হয়েছিল এর চেয়ে অনেকটা বেশি), বন্ধক রাখতে হবে স্টুডিও, এরপরেও এত বড় অ্যানিমেশন ছবি ধৈর্য্য ধরে দর্শক দেখবে কিনা সন্দেহ তো ছিলই। এখানেই শেষ নয়, সেই প্রথমবার অ্যানিমেশনে শুধু মজা বাদে, রাগ, দুঃখ, ভালবাসা, আবেগ সব ফুটিয়ে তুলতে হবে। পুরোটাই নতুন এবং সকলের কাছে প্রথম। অ্যানিমেটররা আগে কোনওদিন এমন কাজ করেননি। তাঁরা কি পারবেন? আর না পারলে সব মাটি।

কিন্তু জিনিয়াসরা কী কোনওদিন ঝুঁকির তোয়াক্কা করেছেন? পথের পাঁচালি যদি এটার একটা উদাহরণ হয় তবে প্রথমটা অবশ্যই 'স্নো হোয়াইট।' বালককালে ওয়াল্টের দেখা প্রথম নির্বাক ছবি ছিল মার্গারিটা ক্লার্কের 'স্নো-হোয়াইট।' আর সেটা এতটাই গেঁথে গিয়েছিল মাথায়, তিনি সেই ছবির মিউজিক্যাল না বানিয়ে শান্তি পাচ্ছিলেন না। অগত্যা বন্ধু ডন গ্রাহাম শুরু করলেন আর্টিস্ট খোঁজা। শুধু এই ছবির জন্য বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে গোটা আমেরিকার সেরা আঁকিয়েরা উপস্থিত হলেন হাইপেরিয়ন স্টুডিওতে। সেখানে কিছুদিন চলল লাইভ জীবজন্তুদের হাবভাব দেখে তাদের ছবি আঁকার ক্লাস। সেই ক্লাস থেকে সেরা দেড়শকে নিজের হাতে বেছে নিলেন ডিজনি। তাদের সঙ্গে রোজ মিটিং চলত। প্রতিটা ফ্রেম নিয়ে। মুভ নিয়ে। এইখানে অদ্ভুত একটা টোপ দিলেন তিনি। কেউ কোনও খণ্ডদৃশ্যের আইডিয়া দিলেই সঙ্গে সঙ্গে পাবে পাঁচ ডলার। আর গোটা দুই মিনিটের একটা দৃশ্যের আইডিয়ায় ২০ ডলার করে। তখনকার দিনে এই টাকা নেহাত কম না। রাত জেগে নিত্য নতুন আইডিয়া আর ছবিতে ভরে উঠল তাঁদের স্টোরিবোর্ড।

একটা ব্যাপার শুরুতেই বলে দিয়েছিলেন ডিজনি। এই সিনেমায় নায়িকার বিশেষ কিছু করার নেই, রাজকুমার প্রায় ক্যামিও, রানি হলেন টিপিক্যাল ভিলেন আর তাই গোটা গল্পের প্রাণ ওই সাত বামনের মধ্যে রয়েছে। গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া থেকে কমিক রিলিফ সবটাই তাদের হাতে। তারাই মুখ্য চরিত্র সেক্ষেত্রে। মূল কাহিনিতে এই সাত বামনের অবশ্য তখনও কোনও নামই দেওয়া হয়নি। কিন্তু এভাবে চলবে না। নাম দিতে হবে। আর এমন নাম যা দিতে হবে যাতে সহজেই তাদের চরিত্রের সঙ্গে মিলে যায় এবং এক ডাকেই চেনা যায়। সকলে মাথা খাটালেন। চলল নাম নিয়ে কাটাছেঁড়া। জাম্পি, ডেফটি, সুইফট, লেজি, বাল্ডি, শর্টি… শেষে অনেক খুঁজে পাঁচটা নাম ঠিক করলেন অ্যানিমটররা। গ্রাম্পি, হ্যাপি, স্লিপি, স্নিজি আর ব্যাশফুল। বড়ভাইয়ের নাম ডিজনি নিজে দিলেন 'ডক' ও ছোটভাই 'ডোপি।' প্রথমে ঠিক ছিল ডোপি হবে বোকা। ডিজনি অন্য উপায় জানালেন। বললেন ডোপি কথা বলবে না। আদুরে, অনুগত কিন্তু বুদ্ধিমান হবে তার চরিত্র। 

স্নো হোয়াইটের ভূমিকায় অভিনয়ের জন্য মারজোরি বেলচার নামে এক মেয়েকে নেওয়া হয়। সিনেমাটি অ্যানিমেটেড হলেও যাতে কোনও ভুল না হয় তাই তাকে কস্টিউম পরে অভিনয় করতে হত। অ্যানিমেটরটা তাঁর হাবভাব, অঙ্গভঙ্গি নিখুঁতভাবে আঁকতেন। সামনের চরিত্র আর পিছনের ব্যাকগ্রাউন্ডকে শুরুতে আলাদা করা যাচ্ছিল না। সামনের অবজেক্টকে বড় করতে গেলে ব্যাকগ্রাউন্ডও বেড়ে যাচ্ছিল সমান তালে। এর হাত ধরেই ৭০০০০ ডলার খরচ করে তৈরি হল মাল্টিপ্লেন ক্যামেরা। যাতে প্রতি লেয়ারের আলাদা ছবি তুলে জুড়ে দেওয়া যায়।

ওই যে সবকিছুর একটা শুরু থাকে। আর শুরুতে একাধিক লড়াই থাকে। বাকিরা সেই লড়াই থেকে শিক্ষা নিয়েই এগিয়ে যায়। কিন্তু শুরুর লড়াইটা একদম আলাদা। এক্ষেত্রেও তাই। এতকিছুর এবার সমস্যা শুরু হল স্নো হোয়াইটের গলা নিয়ে। কিছুতেই ডিজনি তাঁর মনের মত গলা পাচ্ছেন না। শেষে তিনি ঠিক করলেন নিজে একটা ঘরে গিয়ে বসবেন, অডিশন হবে অন্য ঘরে। যাতে অভিনেতার চেহারা ডিজনির বিচারে প্রভাব না ফেলতে পারে। ডিজনি চাইছিলেন এমন একটা আওয়াজ যার মধ্যে সারল্য আছে, পাখির মতো সুর আবার তা একেবারে শিশুসুলভও নয়। এমন এক গলা যা শুনলে যেকেউ রূপকথার দুনিয়ায় চলে যাবে। সত্যিকারের কিশোরী মনে হবে আবার তাতে রূপকথার মায়াবী ছোঁয়াও থাকবে। কিন্তু চাইলেই সব হাতের কাছে পাওয়া যায়? অনেক খুঁজেও এক্ষেত্রে পাওয়া গেল না। যখন সকলেই প্রায় হাল ছেড়ে দিয়েছেন তখন একটা গলা শুনে লাফিয়ে ওঠেন ডিজনি। পেলেন সেই গলা। মেয়েটির নাম আদ্রিয়ানা কাসেলোটি, বয়স ১৬। এই কন্ঠে অদ্ভুত এক মাদকতা পেয়েছিলেন তিনি। ব্যাস শুরু হল স্নো হোয়াইটের কাজ।

এদিকে কেটে গেছে তিন বছর। খরচ বেড়েছে ঝড়ের গতিতে। ডিজনি একাই সকলের কাজ করছেন। এত উদ্যম যে একবার সাউন্ড দেখছে তো সেটা দেখতে দেখতেই চলে যাচ্ছেন স্টোরি বোর্ড দেখতে। সেটা শেষ হওয়ার আগে ছুটছেন কোনও নতুন আইডিয়া দিতে। গানের লাইন থেকে সংলাপ, প্রত্যেকটা শব্দ তিনি খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে দেখেছেন। মাথায় বিরাট দেনা মাথায় নিয়েই কাজ এগোয়।

আর এই দেনার বিপুল দায় মাথায় নিয়ে ১৯৩৭ সালের বড়দিনে মুক্তি পায় 'স্নো হোয়াইট অ্যান্ড সেভেন ডোয়ার্ফস।' এক বছরেরও কম সময়ে যার আয় ৮ মিলিয়ন ডলার। এক বছরে ৩ কোটির বেশি মানুষ এই ছবি দেখেছেন। বাকিটা ইতিহাস। 

কী পথের পাঁচালির সঙ্গে মিল পাচ্ছেন তো? ইতিহাস হয়তো এভাবেই তৈরি হয়। আর যাঁরা তৈরি করেন তাঁরা কাজের মাধ্যমেই অমরত্ব লাভ করেন। এক্ষেত্রে শুধু স্নো হোয়াইটের চরিত্রে কন্ঠ দেওয়া মেয়েটি আর কোনওদিন কোনও কাজ করেননি। লাখ টাকার অফারও তিনি ফিরিয়ে দিয়েছেন। সারা জীবন থেকে গেছেন স্নো হোয়াইট হয়ে।

এত বছর স্নো হোয়াইট ফের ফিরছে বড় পর্দায়। এবার অ্যানিমেটেড নয়। একেবারে জলজ্যান্ত মানুষজন ঘুরে বেড়াবে চোখের সামনে। নেচে বেড়াবে। গ্রাম্পি, হ্যাপি, স্লিপিদেরও রিয়েলে দেখা মিলবে। স্নো হোয়াইটের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ব়্যাচেল জেগলার। মুক্তি পাবে নতুন বছর।


```