ছবির সংলাপ নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। দর্শকরা প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে এমন অবিবেচকদের মতো সংলাপ লেখা সম্ভব হল। যদিও সংলাপটি ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে।

হোক কলরব
শেষ আপডেট: 28 December 2025 00:50
দ্য ওয়াল ব্যুরো: রাজ চক্রবর্তীর ‘হোক কলরব’-এর টিজার মুক্তি পেতেই দর্শকদের প্রশংসা কুড়োতে শুরু করেছে (Hok Kolorob Teaser)। তবে যাদবপুরের র্যাগিংয়ের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তৈরি এই ছবিতে অভিনেতা শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের (Saswata Chatterjee) একটি সংলাপ নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। ছবিতে তাঁর মুখে শোনা যায়, “আমি ক্ষুদিরাম চাকী, ঝুলি না ঝোলাই।” এই সংলাপ প্রকাশ্যে আসতেই দর্শকদের অনেকেই বিপ্লবী ক্ষুদিরাম বসুর সঙ্গে এর মিল খুঁজে পাচ্ছেন।
ছবির সংলাপ নিয়ে শুরু হয়েছে সমালোচনা। দর্শকরা প্রশ্ন তুলছেন, কীভাবে এমন অবিবেচকদের মতো সংলাপ লেখা সম্ভব হল। যদিও সংলাপটি ঠিক কোন প্রেক্ষাপটে বলা হয়েছে তা নিয়ে দর্শকদের মধ্যে কৌতূহল রয়েছে। 'হোক কলরব' (Hok Kolorob) ছবিতে শ্বাশ্বত চট্টোপাধ্যায় ছাড়াও রয়েছেন ওম সাহানি, রোহন ভট্টাচার্য, জন ভট্টাচার্য, অভিকা মালাকার।
যদিও ছবির ডায়লগ বা সংলাপের আগে বিতর্ক শুরু হয়েছিল ‘ক্ষুদিরাম চাকি’ নামটা নিয়ে। সে ব্যাপারে অবশ্য রাজ চক্রবর্তী এক সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, “বাঙালি বাংলা শব্দ নিয়ে খেলতে পারে। তাঁরা সম্মানও দিতে জানে।" তাঁর কথায়, “পরাধীন ভারতে বিপ্লবীদের সঙ্গে অনেক অন্যায় হয়েছে, কিন্তু আধুনিক ভারতে কারও সঙ্গে অন্যায় করা হবে না, আমার ছবির সংলাপ দিয়ে এটাই বোঝাতে চাই।”
তবে এই প্রথম নয়, ক্ষুদিরাম বসুকে ঘিরে বিতর্ক এর আগেও একাধিকবার হয়েছে। কয়েকমাস আগেই একটি জনপ্রিয় ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সিরিজের পুলিশ স্টেশনের দৃশ্যে ‘মোস্ট ওয়ান্টেড’ অপরাধীদের তালিকায় ক্ষুদিরাম বসুর ছবি দেখা গেছে।
ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে ক্ষুদিরাম বসু এক অবিস্মরণীয় নাম। অতি অল্প বয়সে ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র সংগ্রামে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন তিনি। ১৮৮৯ সালের ৩ ডিসেম্বর মেদিনীপুরে জন্ম নেওয়া ক্ষুদিরাম ছোটবেলা থেকেই ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনের প্রভাবে বড় হন। ছাত্র জীবন থেকেই তিনি স্বদেশি আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন।
১৯০৮ সালে ব্রিটিশ অত্যাচার এবং মুজফ্ফরপুরের দমননীতির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়তে ক্ষুদিরাম ও প্রফুল্ল চাকি পরিকল্পনা করেন ব্রিটিশ ম্যাজিস্ট্রেট কিংসফোর্ডকে লক্ষ্য করে বোমা ছোড়ে। মুজফ্ফরপুরে ইউরোপিয়ান ক্লাবের বাইরে ছোড়া সেই বোমায় ভুলবশত দু’জন ব্রিটিশ মহিলা নিহত হন। ঘটনার পর ক্ষুদিরাম কয়েক কিলোমিটার দৌড়ে পালিয়ে গেলেও শেষ পর্যন্ত গ্রেফতার হন।
গ্রেফতারের পরেও তাঁর স্থিরতা ও সাহস জনমনে আলোড়ন তোলে। আদালতে মৃত্যুদণ্ড ঘোষণার দিন ক্ষুদিরামের হাসিমুখে রায় শোনার দৃশ্য আজও অমর হয়ে আছে ভারতীয় স্বাধীনতার ইতিহাসে। মাত্র ১৮ বছর বয়সে ১৯০৮ সালের ১১ অগস্ট ফাঁসির মঞ্চে ঝোলানো হয়েছিল তাঁকে। তাঁর শেষ হাসি ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে দেশের যুবকদের মনে আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
আজও ক্ষুদিরাম বসু ভারতীয় স্বাধীনতা সংগ্রামের এক অদম্য প্রতীক। তাঁর জীবনী সাহস, আত্মত্যাগ, আদর্শ ও দেশের প্রতি ভালোবাসার অনুপম উদাহরণ। এবার ‘হোক কলরব’ ছবির একটি সংলাপকে ঘিরে তাঁর নাম নতুন করে আলোচনায়।