দিল্লির স্মরণসভা ছিল আড়ম্বরপূর্ণ। অমিত শাহ, রাজনাথ সিংহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে আবেগ সামলাতে পারেননি হেমা মালিনী।

শেষ আপডেট: 13 December 2025 18:45
দ্য ওয়াল ব্যুরো: ২৪ নভেম্বর ধর্মেন্দ্রের প্রয়াণের পর থেকেই দেওল পরিবারের অন্দরের টানাপড়েন আরও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। মুম্বইয়ে প্রথম স্ত্রীর উদ্যোগে স্মরণসভা হওয়ার পর দিল্লিতে আলাদা করে প্রয়াত অভিনেতার জন্য স্মরণসভার আয়োজন করেন তাঁর দ্বিতীয় স্ত্রী, অভিনেত্রী হেমা মালিনী। সেই সভাতেই দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের উপস্থিতিতে উঠে এল ধর্মেন্দ্রের এক অপূর্ণ ইচ্ছার কথা—যা আজও বয়ে বেড়াচ্ছেন হেমা।
দিল্লির স্মরণসভা ছিল আড়ম্বরপূর্ণ। অমিত শাহ, রাজনাথ সিংহ-সহ একাধিক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও বিশিষ্ট ব্যক্তিত্বের উপস্থিতিতে আবেগ সামলাতে পারেননি হেমা মালিনী। ছলছল চোখে মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি বলেন, জীবনে কখনও ভাবেননি তাঁকে ধরমজির জন্য এমন একটি স্মরণসভা করতে হবে। তাঁর কথায়, গোটা দেশ শোকাহত হলেও এই চলে যাওয়াটা তাঁর কাছে আজও আকস্মিক, অবিশ্বাস্য।
স্মরণসভায় ব্যক্তিগত অনুভূতিও গোপন রাখেননি অভিনেত্রী। প্রকাশ্যে তুলে ধরেন ধর্মেন্দ্রের সঙ্গে তাঁর দীর্ঘদিনের সম্পর্ক, ভালবাসার গল্প। হেমা অকপটে স্বীকার করেন, তাঁরা কখনও সমাজ বা মানুষকে ভয় পাননি। কারণ তাঁদের ভালবাসা ছিল নিখাদ, প্রশ্নহীন। সেই বিশ্বাস থেকেই একদিন বিয়ের সিদ্ধান্ত। আবেগঘন কণ্ঠে হেমা বলেন, ‘‘আমি সারা জীবন এই একজন পুরুষের কাছেই নিজেকে সমর্পণ করেছি।’’ তাঁর এই বক্তব্যে নিস্তব্ধ হয়ে যায় গোটা সভাঘর।
তবে শুধু ভালবাসার স্মৃতি নয়, হেমার গলায় শোনা যায় গভীর আক্ষেপও। ধর্মেন্দ্রের একটি স্বপ্ন আজ অপূর্ণই থেকে গেল—তাঁর কবিতার বই প্রকাশ। হেমা জানান, ধর্মেন্দ্র ছিলেন অসাধারণ একজন শায়ের। পরিস্থিতি, সময় ও আবেগ বুঝে মুহূর্তের মধ্যেই উর্দু শায়েরি বলতে পারতেন তিনি। এই গুণটা তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করে তুলত।

হেমার কথায়, বহুবার তিনি ধর্মেন্দ্রকে অনুরোধ করেছিলেন তাঁর কবিতাগুলো বই আকারে প্রকাশ করার জন্য। শুধু অনুরোধই নয়, ধর্মেন্দ্র নিজেও ভীষণ আগ্রহী ছিলেন সেই কাজ নিয়ে। কিন্তু নানা ব্যস্ততা আর সময়ের অভাবে শেষ পর্যন্ত সেই স্বপ্ন বাস্তবায়িত হল না। অভিনেত্রী জানান, বই প্রকাশের আগে এখনও অনেক কাজ বাকি। সেই অসম্পূর্ণ দায়িত্ব আজ তাঁর কাঁধেই রয়ে গেল।
ধর্মেন্দ্র চলে গিয়েছেন, কিন্তু থেকে গেছে ভালবাসা, স্মৃতি আর অপূর্ণ ইচ্ছে। আর সেসব আঁকড়ে ধরেই হয়তো নিজেকে শক্ত রাখার চেষ্টা করছেন হেমা মালিনী।